ঢাকা    রোববার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ ২১ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

আগামী এক বছরেই বদলে যাবে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের চেহারা: অর্থমন্ত্রী

আগামী এক বছরেই বদলে যাবে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের চেহারা: অর্থমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

আগামী এক বছরের মধ্যে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের চেহারায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, বাজারকে পুনরুজ্জীবিত ও সম্প্রসারণে সরকার সমন্বিতভাবে কাজ করছে এবং এ জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার ও অবকাঠামোগত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

রোববার (৪ অক্টোবর) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এবং ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অব সিকিউরিটিজ কমিশনস (আইওএসসিও)-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আমরা সামগ্রিক উদ্যোগের মাধ্যমে পুঁজিবাজারকে পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করছি। ইনশাআল্লাহ, আগামী এক বছরের মধ্যে আপনারা বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের পরিবর্তিত চেহারা দেখতে পাবেন।’

পুঁজিবাজার শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে এরই মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, অটোমেশন, সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) প্রতিষ্ঠা এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তবে এসব উদ্যোগ পরবর্তী সময়ে প্রত্যাশিতভাবে এগোয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তার ভাষায়, ‘কিছু প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তন হয়েছে, অটোমেশন চালু হয়েছে, সিডিবিএল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং অবকাঠামো গড়ে উঠেছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে পরবর্তীতে বিষয়গুলো সেভাবে এগোয়নি।’

বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে পুঁজিবাজারে বাস্তবভিত্তিক ‘উদ্ধার কার্যক্রম’ ও ‘পুনরুদ্ধার কার্যক্রম’ প্রয়োজন বলে মনে করেন আমির খসরু। এ জন্য কোনো কোনো অংশীজনের ক্ষেত্রে কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে বলেও তিনি জানান।

অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রচলিত অর্থায়নের উৎসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে দেশের আর্থিক কাঠামোয় মৌলিক পরিবর্তন আনা হচ্ছে। উচ্চ সুদে ব্যাংকঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার পরিবর্তে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহের সুযোগ তৈরি করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

বিশ্বমানের অর্থনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে বাংলাদেশকে ‘হাই স্ট্রিট থেকে ওয়ার্ল্ড স্ট্রিট’-এর দিকে এগিয়ে যেতে হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের জন্য বন্ড মার্কেট, ডেরিভেটিভস, সিকিউরিটাইজেশন এবং ইক্যুইটি মার্কেটকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রসঙ্গে আমির খসরু বলেন, বাংলাদেশের বৈদেশিক অর্থায়নের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে অর্থ সংগ্রহের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা আইএমএফ কর্মসূচি বাতিল করেছি। কারণ তাদের শর্তগুলো আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য ছিল না।’

আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী ও বৈশ্বিক বাজার থেকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রূপান্তর ও পদক্ষেপের বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে বলেও জানান তিনি। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াল স্ট্রিটে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রখ্যাত বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের রূপান্তর ও অর্থনৈতিক পদক্ষেপের প্রতি গভীর আস্থা প্রকাশ করেছেন বলে উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী।

তিনি জানান, নিউইয়র্কে ডলার বন্ড এবং হংকংয়ে বাংলাদেশ ডেডিকেটেড ফান্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সামুরাই বন্ড ও প্যান্ডা বন্ডের মতো বৈশ্বিক ফাইন্যান্সিয়াল প্রোডাক্ট ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের সরকারি ও বেসরকারি খাতের অর্থায়ন কাঠামো পরিবর্তনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্যের কথা তুলে ধরে আমির খসরু বলেন, এ লক্ষ্য অর্জনে প্রতি বছর প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রয়োজন। তার মতে, কেবল গতানুগতিক বৈদেশিক ঋণের মাধ্যমে এই বিনিয়োগের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব নয়। তাই আন্তর্জাতিক পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহের সক্ষমতা গড়ে তোলার ওপর জোর দেন তিনি।

পুঁজিবাজার উন্নয়নে শুধু বিএসইসির উদ্যোগ যথেষ্ট নয় বলেও স্পষ্ট করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘শুধু বিএসইসি’র একক প্রচেষ্টায় পুঁজিবাজারের উন্নয়ন সম্ভব নয়। বিএসইসি একা এটি করতে পারবে না। সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’

এ ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থা, ব্যাংক, বীমা কোম্পানি, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বাংলাদেশ ব্যাংক, আর্থিক প্রতিবেদন-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, হিসাবরক্ষক, স্টক এক্সচেঞ্জ এবং ব্রোকারসহ বাজারের সব অংশীজনের ভূমিকা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

আমির খসরু বলেন, অতীতে এসব প্রতিষ্ঠান অনেকটা বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করেছে। প্রত্যেকে নিজ নিজ জায়গায় কাজ করলেও তাদের মধ্যে প্রয়োজনীয় সংযোগ ও সমন্বয় ছিল না। তার মতে, সমন্বিত উদ্যোগের ঘাটতি বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের অন্যতম প্রধান দুর্বলতা।

‘আমাদের কখনো সমন্বিত উদ্যোগ ছিল না’- উল্লেখ করে তিনি টেকসই পুঁজিবাজার গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

বর্তমান নাজুক পরিস্থিতি থেকে পুঁজিবাজারকে বের করে আনতে পুনর্গঠন ও শক্তিশালী করার পাশাপাশি বাজারসংশ্লিষ্ট সব স্টেকহোল্ডারের স্বতঃস্ফূর্ত সেলফ-রেগুলেশন এবং সুশাসন চর্চার প্রয়োজন রয়েছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আমরা যদি পরিবেশ তৈরি করতে পারি, তাহলে কোম্পানির কোনো অভাব নেই। তারা অপেক্ষা করছে।’ বহুজাতিক কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ বিবেচনা করছে এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও দেশের পুঁজিবাজার নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে বলে জানান তিনি।

বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রাখতে পেশাদারিত্ব, স্বচ্ছতা, কার্যকর নিয়ন্ত্রণ এবং সব অংশীজনের সমন্বিত উদ্যোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন আমির খসরু। অতীতের ব্যর্থতা নিয়ে আলোচনা করে সময় নষ্ট না করে পুঁজিবাজারের সব পক্ষকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

তার আশা, সংস্কার কার্যক্রম সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে দেশের পুঁজিবাজার আরও শক্তিশালী হবে এবং বাংলাদেশের সামগ্রিক আর্থিক কাঠামোর পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে বিএসইসি চেয়ারম্যান মাসুদ খান সভাপতিত্ব করেন। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার বিষয়ক) তানভীর শাহরিয়ার গনি। বিশেষ অতিথি ছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক এবং বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিন।

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

রোববার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬


আগামী এক বছরেই বদলে যাবে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের চেহারা: অর্থমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ০৪ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

আগামী এক বছরের মধ্যে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের চেহারায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, বাজারকে পুনরুজ্জীবিত ও সম্প্রসারণে সরকার সমন্বিতভাবে কাজ করছে এবং এ জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার ও অবকাঠামোগত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

রোববার (৪ অক্টোবর) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এবং ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অব সিকিউরিটিজ কমিশনস (আইওএসসিও)-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আমরা সামগ্রিক উদ্যোগের মাধ্যমে পুঁজিবাজারকে পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করছি। ইনশাআল্লাহ, আগামী এক বছরের মধ্যে আপনারা বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের পরিবর্তিত চেহারা দেখতে পাবেন।’

পুঁজিবাজার শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে এরই মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, অটোমেশন, সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) প্রতিষ্ঠা এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তবে এসব উদ্যোগ পরবর্তী সময়ে প্রত্যাশিতভাবে এগোয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তার ভাষায়, ‘কিছু প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তন হয়েছে, অটোমেশন চালু হয়েছে, সিডিবিএল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং অবকাঠামো গড়ে উঠেছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে পরবর্তীতে বিষয়গুলো সেভাবে এগোয়নি।’

বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে পুঁজিবাজারে বাস্তবভিত্তিক ‘উদ্ধার কার্যক্রম’ ও ‘পুনরুদ্ধার কার্যক্রম’ প্রয়োজন বলে মনে করেন আমির খসরু। এ জন্য কোনো কোনো অংশীজনের ক্ষেত্রে কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে বলেও তিনি জানান।

অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রচলিত অর্থায়নের উৎসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে দেশের আর্থিক কাঠামোয় মৌলিক পরিবর্তন আনা হচ্ছে। উচ্চ সুদে ব্যাংকঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার পরিবর্তে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহের সুযোগ তৈরি করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

বিশ্বমানের অর্থনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে বাংলাদেশকে ‘হাই স্ট্রিট থেকে ওয়ার্ল্ড স্ট্রিট’-এর দিকে এগিয়ে যেতে হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের জন্য বন্ড মার্কেট, ডেরিভেটিভস, সিকিউরিটাইজেশন এবং ইক্যুইটি মার্কেটকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রসঙ্গে আমির খসরু বলেন, বাংলাদেশের বৈদেশিক অর্থায়নের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে অর্থ সংগ্রহের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা আইএমএফ কর্মসূচি বাতিল করেছি। কারণ তাদের শর্তগুলো আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য ছিল না।’

আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী ও বৈশ্বিক বাজার থেকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রূপান্তর ও পদক্ষেপের বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে বলেও জানান তিনি। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াল স্ট্রিটে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রখ্যাত বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের রূপান্তর ও অর্থনৈতিক পদক্ষেপের প্রতি গভীর আস্থা প্রকাশ করেছেন বলে উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী।

তিনি জানান, নিউইয়র্কে ডলার বন্ড এবং হংকংয়ে বাংলাদেশ ডেডিকেটেড ফান্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সামুরাই বন্ড ও প্যান্ডা বন্ডের মতো বৈশ্বিক ফাইন্যান্সিয়াল প্রোডাক্ট ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের সরকারি ও বেসরকারি খাতের অর্থায়ন কাঠামো পরিবর্তনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্যের কথা তুলে ধরে আমির খসরু বলেন, এ লক্ষ্য অর্জনে প্রতি বছর প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রয়োজন। তার মতে, কেবল গতানুগতিক বৈদেশিক ঋণের মাধ্যমে এই বিনিয়োগের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব নয়। তাই আন্তর্জাতিক পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহের সক্ষমতা গড়ে তোলার ওপর জোর দেন তিনি।

পুঁজিবাজার উন্নয়নে শুধু বিএসইসির উদ্যোগ যথেষ্ট নয় বলেও স্পষ্ট করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘শুধু বিএসইসি’র একক প্রচেষ্টায় পুঁজিবাজারের উন্নয়ন সম্ভব নয়। বিএসইসি একা এটি করতে পারবে না। সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’

এ ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থা, ব্যাংক, বীমা কোম্পানি, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বাংলাদেশ ব্যাংক, আর্থিক প্রতিবেদন-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, হিসাবরক্ষক, স্টক এক্সচেঞ্জ এবং ব্রোকারসহ বাজারের সব অংশীজনের ভূমিকা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

আমির খসরু বলেন, অতীতে এসব প্রতিষ্ঠান অনেকটা বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করেছে। প্রত্যেকে নিজ নিজ জায়গায় কাজ করলেও তাদের মধ্যে প্রয়োজনীয় সংযোগ ও সমন্বয় ছিল না। তার মতে, সমন্বিত উদ্যোগের ঘাটতি বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের অন্যতম প্রধান দুর্বলতা।

‘আমাদের কখনো সমন্বিত উদ্যোগ ছিল না’- উল্লেখ করে তিনি টেকসই পুঁজিবাজার গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

বর্তমান নাজুক পরিস্থিতি থেকে পুঁজিবাজারকে বের করে আনতে পুনর্গঠন ও শক্তিশালী করার পাশাপাশি বাজারসংশ্লিষ্ট সব স্টেকহোল্ডারের স্বতঃস্ফূর্ত সেলফ-রেগুলেশন এবং সুশাসন চর্চার প্রয়োজন রয়েছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আমরা যদি পরিবেশ তৈরি করতে পারি, তাহলে কোম্পানির কোনো অভাব নেই। তারা অপেক্ষা করছে।’ বহুজাতিক কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ বিবেচনা করছে এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও দেশের পুঁজিবাজার নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে বলে জানান তিনি।

বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রাখতে পেশাদারিত্ব, স্বচ্ছতা, কার্যকর নিয়ন্ত্রণ এবং সব অংশীজনের সমন্বিত উদ্যোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন আমির খসরু। অতীতের ব্যর্থতা নিয়ে আলোচনা করে সময় নষ্ট না করে পুঁজিবাজারের সব পক্ষকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

তার আশা, সংস্কার কার্যক্রম সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে দেশের পুঁজিবাজার আরও শক্তিশালী হবে এবং বাংলাদেশের সামগ্রিক আর্থিক কাঠামোর পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে বিএসইসি চেয়ারম্যান মাসুদ খান সভাপতিত্ব করেন। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার বিষয়ক) তানভীর শাহরিয়ার গনি। বিশেষ অতিথি ছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক এবং বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিন।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ