ঢাকা    রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ ৩০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

ট্রাম্পকে লেখা নাটালি হার্পের আবেগঘন চিঠি প্রকাশ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী নাটালি হার্পকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ট্রাম্পের প্রতি তাঁর গভীর আনুগত্য ও ব্যক্তিগত আবেগ প্রকাশ করা দুটি চিঠি প্রকাশ্যে আসার পর হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরে তাঁদের সম্পর্ক ও নাটালির প্রভাব নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ট্রাম্পের স্কটল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ড সফরের সময় বা তার পরপরই চিঠি দুটি লেখা হয়েছিল। সে সময় ট্রাম্পের বয়স ছিল ৭৬ বছর এবং নাটালি হার্পের বয়স ৩১। চিঠিগুলোতে ট্রাম্পকে হতাশ না করার আকাঙ্ক্ষা, তাঁর স্বীকৃতি পাওয়ার প্রত্যাশা এবং প্রেসিডেন্টের প্রতি নিজের গভীর আনুগত্যের কথা তুলে ধরেন নাটালি।একটি চিঠিতে নিজের কিছু আচরণের জন্য ট্রাম্পের কাছে ক্ষমা চান নাটালি। সফরের সময় একা হয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়া এবং কাজে মনোযোগ হারানোর বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি লেখেন, ট্রাম্পের বিরক্তির কারণ হতে পারে—এমন কিছু করতে চান না তিনি। নিজের অবস্থান নিয়ে অন্যদের মন্তব্যের চেয়ে ট্রাম্পের চোখে নিজের ভাবমূর্তি নিয়ে বেশি চিন্তিত ছিলেন বলেও চিঠিতে জানান।[BANGVIEWS-POST:4235]চিঠিতে ট্রাম্পকে নিজের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একজন ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন নাটালি। বাবাকে হারানোর পর ট্রাম্পের কাছ থেকে পাওয়া একটি প্রতিশ্রুতির কথাও তিনি স্মরণ করেন। চিঠির শেষে নিজের পুরো হৃদয় দিয়ে ট্রাম্পের প্রতি আনুগত্যের কথা প্রকাশ করেন তিনি।দ্বিতীয় চিঠিতেও ট্রাম্পের সঙ্গে ব্যক্তিগত সময় কাটানোর অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন নাটালি। স্কটল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ড সফরে কাজের চাপ থেকে কিছুটা দূরে থাকার সুযোগ পেয়ে তিনি সন্তুষ্ট ছিলেন বলে জানান। ট্রাম্পের সঙ্গে গলফ খেলা, দীর্ঘ আলাপ এবং হাঁটার সময় কাটানোর কথাও চিঠিতে উল্লেখ করেন।এ চিঠিতে ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলা ও তাঁর কাছাকাছি থাকা অন্য নারীদের নিয়েও নিজের ঈর্ষার কথা স্বীকার করেন নাটালি। একই সঙ্গে ট্রাম্পের সঙ্গে আগের মতো ব্যক্তিগত ও স্বাভাবিক কথোপকথনে ফিরতে চান বলেও জানান তিনি।ট্রাম্পের জন্য তথ্য ও সংবাদ সামলানোর কাজে নাটালির ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। হোয়াইট হাউসের কর্মীদের মধ্যে তিনি ‘হিউম্যান প্রিন্টার’ নামে পরিচিত ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ট্রাম্পের জন্য ইতিবাচক সংবাদ সংগ্রহ ও প্রিন্ট করে সরবরাহ করার কারণে এই ডাকনাম দেওয়া হয়েছিল বলে জানা যায়।ট্রাম্পের ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণা নিয়ে বই লেখার সময় লেখক মাইকেল উলফের হাতে চিঠি দুটি পৌঁছায়। ট্রাম্পের প্রচারণায় যুক্ত কয়েকজন কর্মী তাঁর কাছে চিঠিগুলো দেন। তাদের দাবি ছিল, নাটালির কাছে থাকা সংবাদসংক্রান্ত প্রিন্ট করা নথির মধ্যে চিঠিগুলো পাওয়া গিয়েছিল।এদিকে ট্রাম্পের ওপর নাটালি হার্পের প্রভাব নিয়ে তাঁর প্রচারণার কয়েকজন কর্মকর্তার মধ্যে অসন্তোষ ছিল বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। চিঠির কিছু অংশ এর আগে নিউইয়র্ক টাইমসেও প্রকাশিত হয়েছিল।[BANGVIEWS-POST:4234]তবে হোয়াইট হাউস নাটালিকে ট্রাম্পের বিশ্বস্ত ও পরিশ্রমী সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করেছে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ডেভিস ইংল এসব অভিযোগকে প্রত্যাখ্যান করে সংবাদমাধ্যমের সমালোচনা করেছেন। ট্রাম্পের সফরে নাটালির ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করা এক ডেমোক্র্যাট সিনেটরের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি।প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, নাটালি হার্পের বার্ষিক বেতন প্রায় দেড় লাখ ডলার এবং ট্রাম্পের ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে তাঁর বিশেষ প্রবেশাধিকার রয়েছে। এমনকি ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কিছু পোস্টের ভাষা ও নাটালির লেখার ধরনেও মিল রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।তবে প্রকাশিত চিঠিগুলো থেকে ট্রাম্প ও নাটালি হার্পের মধ্যে কোনো রোমান্টিক সম্পর্কের নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায় না। তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে যে গুঞ্জন তৈরি হয়েছে, তা মূলত চিঠির ব্যক্তিগত ভাষা, নাটালির ঘনিষ্ঠ ভূমিকা এবং ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর সফরসঙ্গী হওয়ার বিষয়কে কেন্দ্র করে। সূত্র: দ্য ডেইলি বিস্ট

ট্রাম্পকে লেখা নাটালি হার্পের আবেগঘন চিঠি প্রকাশ