উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের সরাসরি তত্ত্বাবধানে নতুন একটি হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে দেশটি। পারমাণবিক প্রতিরোধ সক্ষমতার নির্ভরযোগ্যতা যাচাই ও তা প্রদর্শন করাই এই সামরিক মহড়ার মূল উদ্দেশ্য ছিল।
উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএর তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (৩ অক্টোবর) দেশটির পূর্বাঞ্চল থেকে ইন্টারমিডিয়েট-রেঞ্জের কৌশলগত হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণ করা হয়। প্রায় ১ হাজার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করার পর এটি পূর্ব উপকূলের নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে।
মহড়ার মাধ্যমে দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি ডেটারেন্ট ফোর্সের কার্যকারিতা ও গতিশীলতা মূল্যায়ন করা হয়েছে।
ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার সময় কিম জং উন বলেন, দেশের কৌশলগত আক্রমণাত্মক অস্ত্রগুলোর কার্যকারিতা ও ধ্বংসক্ষমতা সম্পর্কে প্রতিপক্ষকে সচেতন রাখতে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরমাণু যুদ্ধ প্রতিহত করার সক্ষমতা অর্জন অপরিহার্য এবং এ নীতিতে কোনো পরিবর্তন হবে না বলেও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
চলতি বছর উত্তর কোরিয়ার ধারাবাহিক অস্ত্র পরীক্ষার মধ্যেই নতুন হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রটির পরীক্ষা চালানো হলো। গত মাসে ডেমিলিটারাইজড জোনে ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে দক্ষিণ কোরিয়ার সেনা আহত হওয়ার পর কোরীয় উপদ্বীপে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
এদিকে ক্ষেপণাস্ত্রটির গতিপথ শনাক্ত করা নিয়ে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য সামনে এসেছে।
কিম জং উনের বোন ও দেশটির ক্ষমতাসীন দলের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা কিম ইয়ো জং দাবি করেন, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান ক্ষেপণাস্ত্রটির গতিপথ ট্র্যাক করতে ব্যর্থ হয়েছে। তার দাবি, এই ব্যর্থতা দুই দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা প্রকাশ করেছে।
তবে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, উৎক্ষেপণের পরপরই তারা ক্ষেপণাস্ত্রটির গতিবিধি নিখুঁতভাবে শনাক্ত ও অনুসরণ করেছে। একই সঙ্গে এ ধরনের যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় তাদের পূর্ণ সক্ষমতা রয়েছে বলেও দাবি করেছে সিউল।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই পরীক্ষার মাধ্যমে উত্তর কোরিয়া তাদের ক্ষেপণাস্ত্রগুলোকে পরীক্ষামূলক পর্যায় থেকে সরাসরি অপারেশনাল মোডে নিয়ে যাওয়ার বার্তা দিচ্ছে।
সূত্র : রয়টার্স
মন্তব্যসমূহ