ভোলার আলীনগর এলাকায় স্বামীকে হত্যার পর মরদেহ খণ্ডিত করার অভিযোগে স্ত্রী নুরুন্নাহান বেগমকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে ভোলা অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-২ এর বিচারক মো. এনায়েত উল্লাহ এ রায় ঘোষণা করেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২১ সালের ২৩ অক্টোবর রাতে ফরহাদ হোসেন টিটু (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী নুরুন্নাহান বেগমের বাড়িতে ডেকে নেওয়া হয়। পরদিন সকালে ভোলা সদর উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের ওই বাড়ি থেকে তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, মরদেহে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং হত্যার পর মরদেহ কয়েক টুকরা করা হয়েছিল বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের প্রথম স্ত্রী মাহমুদা বেগম বাদী হয়ে নুরুন্নাহান বেগমসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। তবে তদন্ত শেষে অপর পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার মতো পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে আদালতে প্রতিবেদন দেয় পুলিশ।
মামলার বিচার চলাকালে নুরুন্নাহান বেগম দীর্ঘ সময় কারাগারে ছিলেন। পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান। সর্বশেষ শুনানিতে উভয় পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের পর আদালত তাকে আবার কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মঙ্গলবার উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত নুরুন্নাহান বেগমকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দেন। রায় ঘোষণার পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান (বাচ্চু) বলেন, এটি একটি আলোচিত হত্যা মামলা। আদালতের রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ ও বাদীপক্ষ সন্তুষ্ট।
আসামিপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট মো. এনামুল হক।
মন্তব্যসমূহ