ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে পশ্চিমাদের সঙ্গে উত্তেজনা আরও বাড়লে রাশিয়া প্রয়োজনে দেশটির অস্ত্রভাণ্ডারে থাকা ‘সব ধরনের অস্ত্র’, এমনকি পারমাণবিক অস্ত্রও ব্যবহার করতে প্রস্তুত বলে সতর্ক করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) মস্কোতে ভালদাই ডিসকাশন ক্লাবের এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় পশ্চিমাদের উদ্দেশে এ হুঁশিয়ারি দেন রুশ প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ন্যাটোর সদস্য পোল্যান্ড ও লিথুয়ানিয়ার মাঝখানে অবস্থিত রাশিয়ার বিচ্ছিন্ন ভূখণ্ড কালিনিনগ্রাদে সরাসরি হামলা হলে মস্কো তার জবাব দেবে।
পুতিন বলেন, ইউরোপের কোনো দেশকে আক্রমণ করার কোনো পরিকল্পনা রাশিয়ার নেই। তবে পশ্চিমা কোনো পক্ষ রাশিয়ার বিরুদ্ধে আগ্রাসন চালালে প্রয়োজন অনুযায়ী তার জবাব দিতে মস্কো প্রস্তুত।
সম্প্রতি কালিনিনগ্রাদের কাছাকাছি বাল্টিক সাগর এলাকায় সামরিক মহড়া চালিয়েছে ন্যাটো। জোটটির দাবি, প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ানো এবং প্রতিরক্ষামূলক প্রস্তুতি জোরদার করতেই এসব মহড়ার আয়োজন করা হয়েছে। তবে মস্কো এসব তৎপরতাকে গভীর উদ্বেগের সঙ্গে দেখছে।
গত সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে রাশিয়া সতর্ক করে বলেছিল, আকাশ বা সমুদ্রপথে কালিনিনগ্রাদকে অবরুদ্ধ করার কোনো চেষ্টা করা হলে তার পাল্টা জবাব দেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবারের বক্তব্যে পুতিন বলেন, বাল্টিক সাগরে একের পর এক সামরিক মহড়া, রুশ জাহাজ-নৌযান আটকানোর চেষ্টা এবং কালিনিনগ্রাদ অঞ্চল নিয়ে পশ্চিমা বিভিন্ন বক্তব্য—সবকিছু মিলিয়েই পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে।
কালিনিনগ্রাদে সরাসরি হামলা হলে রাশিয়া কী ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারে, সে বিষয়েও স্পষ্ট সতর্কবার্তা দেন পুতিন।
তিনি বলেন, ‘যদি রাশিয়ান ফেডারেশনের ওপর সরাসরি হামলা হয়, বিশেষ করে কালিনিনগ্রাদ বা অন্য কোনো ভূখণ্ডে হামলা হলে, আমাদের দেশের অস্ত্রভাণ্ডারে থাকা সব ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি অনিবার্যভাবেই সামনে আসবে। এটি এড়ানো যাবে না।’
কালিনিনগ্রাদ রাশিয়ার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন একটি ভূখণ্ড, যা বাল্টিক সাগরের তীরে অবস্থিত। এর একদিকে ন্যাটোর সদস্য পোল্যান্ড এবং অন্যদিকে লিথুয়ানিয়া। ফলে রাশিয়া ও ন্যাটোর মধ্যে সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের ক্ষেত্রে অঞ্চলটির কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে।
মন্তব্যসমূহ