বিশ্বকাপসহ নিজেদের শীর্ষ প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনায় নতুন সহযোগী প্রতিষ্ঠান গঠনের পরিকল্পনা করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। পরিকল্পনাটিতে সমর্থন জানালে সদস্য দেশগুলোর ফুটবল সংস্থা সর্বোচ্চ চার কোটি মার্কিন ডলার পর্যন্ত আর্থিক সুবিধা পেতে পারে।
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আউয়াল জানিয়েছেন, ফিফার কাছ থেকে এ-সংক্রান্ত বার্তা পেয়েছেন তিনি। তবে নির্বাহী কমিটির সঙ্গে আলোচনা না করে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।
তাবিথ আউয়াল বলেন, প্রস্তাবটি বাফুফের নির্বাহী কমিটির সভায় তোলা হবে। সেখানে পরিকল্পনার আর্থিক সুবিধা, দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব এবং সম্ভাব্য শর্তগুলো পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ফিফার পরিকল্পনা অনুযায়ী, ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি নতুন সহযোগী প্রতিষ্ঠান গঠন করা হবে। সংস্থাটির বাণিজ্যিক ও ইভেন্ট-সংক্রান্ত কার্যক্রম এই প্রতিষ্ঠানের অধীনে পরিচালিত হবে। তবে ফুটবলের প্রশাসন, প্রতিযোগিতা, ম্যাচের সূচি এবং নিয়ন্ত্রক সিদ্ধান্তের পূর্ণ কর্তৃত্ব ফিফার কাছেই থাকবে।
নতুন প্রতিষ্ঠানটির প্রাথমিক মূল্যায়ন ধরা হয়েছে দুই হাজার কোটি ডলার। দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের কাছে নিয়ন্ত্রণহীন সংখ্যালঘু অংশীদারত্ব বিক্রি করে সর্বোচ্চ ৪২০ কোটি ডলার সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে ফিফার। এই অর্থ উন্নয়ন কর্মসূচিতে ব্যবহার করে মোট এক হাজার কোটি ডলারের তহবিল গঠনের কথা জানিয়েছে সংস্থাটি।
বর্তমানে ২০২৭-৩০ চক্রে প্রত্যেক সদস্য সংস্থাকে ফিফা ফরোয়ার্ড কর্মসূচির আওতায় ৮০ লাখ ডলার দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন প্রস্তাব অনুমোদিত হলে এ অর্থ দুই কোটি ডলারে উন্নীত হতে পারে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এককালীন ও উন্নয়ন সহায়তা মিলিয়ে সদস্য সংস্থাগুলোর সামনে সর্বোচ্চ চার কোটি ডলার পাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তবে অর্থ পাওয়ার বিষয়টি পরিকল্পনাটির অনুমোদন, তহবিল সংগ্রহ এবং নির্ধারিত শর্ত পূরণের ওপর নির্ভরশীল। অর্থাৎ প্রস্তাবে সমর্থন দিলেই প্রত্যেক দেশ নিশ্চিতভাবে একবারে চার কোটি ডলার পাবে—বিষয়টি এমন নয়।
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো সদস্য সংস্থাগুলোকে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তাদের সিদ্ধান্ত জানানোর সময়সীমা দিয়েছেন বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুমোদিত হলে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে নতুন তহবিল কার্যকর করার লক্ষ্য রয়েছে।
তবে প্রস্তাবটি প্রকাশের পর থেকেই বিশ্ব ফুটবলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, সদস্য দেশগুলোর সমর্থন পেতে বড় অঙ্কের অর্থের সম্ভাবনা সামনে আনা হচ্ছে। সমালোচকদের কেউ কেউ একে সদস্য সংস্থাগুলোকে প্রভাবিত করার চেষ্টা হিসেবেও বর্ণনা করেছেন।
ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা বলেছে, বিশ্বকাপ ও ফুটবলের প্রশাসনিক কাঠামো বিক্রির সম্পদ নয়। বিনিয়োগকারী কারা এবং আর্থিকভাবে কারা লাভবান হবেন, সে বিষয়ে পর্যাপ্ত স্বচ্ছতা নেই বলেও অভিযোগ করেছে সংস্থাটি।
এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনও (এএফসি) জানিয়েছে, এত বড় একটি সিদ্ধান্তের আগে তাদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা করা হয়নি। প্রস্তাবটির প্রশাসনিক, আর্থিক ও আইনি প্রভাব সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের দাবি জানিয়েছে তারা।
এমন পরিস্থিতিতে প্রস্তাবের সম্ভাব্য আর্থিক সুবিধার পাশাপাশি ফিফার বাণিজ্যিক কার্যক্রমে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের প্রবেশের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবও পর্যালোচনা করতে হবে বাফুফেকে। নির্বাহী কমিটির আলোচনার পরই বাংলাদেশের অবস্থান চূড়ান্ত হবে বলে জানিয়েছেন তাবিথ আউয়াল।