লোহিত সাগরে সৌদি মালিকানাধীন দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী। হামলার শিকার জাহাজ দুটির নাম ‘এনসেলিয়া’ ও ‘লায়লা’।
সৌদি আরবের সাধারণ পরিবহন কর্তৃপক্ষের একজন কর্মকর্তার বরাতে দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এসপিএ একটি জাহাজে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
হুথিদের দাবি, ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি ড্রোন ব্যবহার করে একই সময়ে জাহাজ দুটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। হামলার পর জাহাজে আগুন ধরে যায় এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও দাবি করেছে গোষ্ঠীটি।
হুথিরা এই অভিযানকে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে তাদের ‘যেমন কর্ম, তেমন ফল’ নীতির অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছে। তাদের অভিযোগ, গত ১২ বছর ধরে ইয়েমেনের ওপর অবরোধ আরোপ করে রেখেছে সৌদি আরব। এর জবাব হিসেবেই সৌদি জাহাজ ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।
এসপিএ জানিয়েছে, সৌদি মালিকানাধীন ‘এনসেলিয়া’ ট্যাংকারটি লোহিত সাগরে চলাচলের সময় হামলার শিকার হয়। এতে জাহাজটির সামনের অংশে আগুন ধরে যায়।
তবে হামলায় কোনো নাবিক হতাহত হননি। জাহাজে থাকা সব নাবিক নিরাপদ আছেন বলে জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। জাহাজ, নাবিক এবং সামুদ্রিক পরিবেশ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানানো হয়।
যুক্তরাজ্যের ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস জানিয়েছে, সৌদি আরবের উপকূল থেকে প্রায় ৭০ নটিক্যাল মাইল বা ১৩০ কিলোমিটার দূরে একটি জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলার পর জাহাজটিতে আগুন লাগলেও হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
হামলার শিকার দ্বিতীয় ট্যাংকার ‘লায়লা’র ক্ষয়ক্ষতি কিংবা নাবিকদের অবস্থা সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, লোহিত সাগরে জাহাজে হামলার ঘটনা বাড়তে থাকলে বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক পণ্য ও জ্বালানি পরিবহন আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
বাব আল-মান্দেব বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ। এই পথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ও বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহন করা হয়। নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হলে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পরিবহন ব্যয় ও বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়তে পারে।
সূত্র: এসপিএ