কলম্বিয়ার একটি সামরিক স্থাপনায় সশস্ত্র বিদ্রোহীদের হামলায় অন্তত তিন সেনা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও চার সেনা আহত হয়েছেন। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে ভেনেজুয়েলা সীমান্তবর্তী উত্তর সান্তান্দার প্রদেশের ওকানিয়া এলাকায় হামলার ঘটনা ঘটে।
কলম্বিয়ার সেনাবাহিনী জানিয়েছে, হামলাটি চালিয়েছে ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (ইএলএন)। বিদ্রোহীরা বিস্ফোরক বহনে সক্ষম ড্রোন ব্যবহার করে সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে আক্রমণ চালায়। এরপর স্থাপনার ভেতরে সেনাদের সঙ্গে তাদের সশস্ত্র সংঘর্ষ শুরু হয়।
সেনাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক হামলায় দুই সেনা নিহত হন। আহতদের মধ্যে একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। বর্তমানে আহত আরও চার সেনাকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, হামলায় প্রায় ২০টি বিস্ফোরক বহনে সক্ষম ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। প্রথমে ড্রোনের মাধ্যমে সামরিক ঘাঁটিতে বিস্ফোরক নিক্ষেপ করা হয়, পরে সেখানে সরাসরি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে দুই পক্ষ।
হামলার পর কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা ইএলএনের কঠোর সমালোচনা করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, সেনা ও পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার জবাবে রাষ্ট্র তার সব ধরনের বৈধ শক্তি প্রয়োগ করবে।
ক্ষমতায় আসার পর দে লা এসপ্রিয়েলা সশস্ত্র গোষ্ঠী ও অপরাধী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছিলেন। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে এসব গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ চলছে।
তবে সরকারের কঠোর সামরিক নীতির কারণে সহিংসতা আরও বাড়তে পারে এবং মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন পর্যবেক্ষকরা।
হামলার স্থান কাটাতুম্বো অঞ্চল ইএলএনের দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী এলাকা হিসেবে পরিচিত। সেখানে মাদক চোরাচালান, অবৈধ খনি ও ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘাত চলে আসছে।
এদিকে কলম্বিয়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। আগামী সপ্তাহে ক্যারিবীয় শহর বারানকিয়ায় কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর বৈঠকের কথা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের নজর এখন এই অঞ্চলে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা এবং কলম্বিয়া সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।
সূত্র: আল জাজিরা