সুখী, সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, যে যার অবস্থান থেকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা এ তথ্য জানান। তারেক রহমান ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
উপ-প্রেস সচিব জানান, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধি দলটি বৈঠকে তাদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরে। প্রধানমন্ত্রী মনোযোগ দিয়ে তাঁদের বক্তব্য শোনেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এখনকার যুদ্ধটা অনেক বড়। এখানে টিকে থাকতে হলে, আগামীতে সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে, সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।”
ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীকে দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, তাঁর সরকার এমন একটি দেশ গড়ে তুলতে কাজ করছে, যেখানে কোনো জাতি বা গোষ্ঠীর প্রতি বৈষম্য থাকবে না।
তিনি বলেন, সবার প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যেতে চান। দেশের কোনো জনগোষ্ঠীকে তিনি আলাদা মনে করেন না।
বৈঠকে সমতলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভূমির মালিকানাসংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে ভূমি কমিশন গঠন, অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জন্য জাতীয় কনভেনশন আয়োজন এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী শব্দের পরিবর্তে গোত্রভিত্তিক পরিচয় দেওয়ার দাবি জানানো হয়।
এ ছাড়া আদিবাসী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি, কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা, বিভিন্ন প্রকল্প বা সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বসতি উচ্ছেদ বন্ধ এবং তাঁদের জন্য ঋণসুবিধা চালুর দাবি তুলে ধরেন প্রতিনিধিরা।
দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। দেশের সব প্রতিষ্ঠান ও অর্থনীতি ফ্যাসিস্ট সরকার ধ্বংস করে গেছে। প্রতিবছর ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার না হলে আপনাদের অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যেত।”
তিনি বলেন, সরকার পর্যায়ক্রমে সমাধানযোগ্য সমস্যাগুলো আগে সমাধান করার চেষ্টা করছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে এখনো এত সমস্যা বিরাজমান দেখে তিনি বিস্মিত হন। গত ১৭ বছরে এসব সমস্যার সমাধান করা হলে বর্তমান সরকারকে এত চাপের মুখে পড়তে হতো না।
তিনি বলেন, “আগে এত উন্নয়নের গল্প শুনতাম, সেগুলো আসলে কোথায়? এখন সব চাপ এসেছে আমাদের সরকারের ওপর। জনগণের প্রত্যাশাও অনেক। আমরা সংকট থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি।”
দেশের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগের সরকার একটি প্রজন্মকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে ৩১ শয্যার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হয়। পরে বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের সময়ে তা ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। বর্তমান সরকার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ইউনিয়নভিত্তিক কমিউনিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হলেও সেগুলোর কার্যকর সেবা নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি কিডনি ডায়ালাইসিস, হার্টের রিংসহ জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জামের ওপর আরোপিত কর কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, সংসদ সদস্য আন্না মিনজ ও সংস্কৃতিকর্মী সঞ্জীব দ্রং উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া ১৭ জেলার ১৮টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা বৈঠকে অংশ নেন। সমতলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সরকারি সহায়তা কর্মসূচিও রয়েছে।
সূত্র: বাসস
মন্তব্যসমূহ