দেশের তরুণ উদ্যোক্তা ও সম্ভাবনাময় স্টার্টআপগুলোর পাশে সরকার সবসময় থাকবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নতুন উদ্যোগের পথ কঠিন হলেও উদ্যোক্তাদের সহায়তায় সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে আয়োজিত ‘তারুণ্য, স্টার্টআপ ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তরুণ উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনারা যারা এখানে নতুন উদ্যোক্তা বা সম্ভাব্য উদ্যোক্তা রয়েছেন, যারা এগিয়ে আসতে চাচ্ছেন, যারা কিছু করতে চাচ্ছেন আপনাদের শুধু একটা কথা বলি—আপনারা যেটা করতে চাইছেন, এটা খুব সহজ কাজ নয়, খুবই কঠিন। কিন্তু আপনি পারবেন যদি আপনার ইচ্ছা থাকে।”
তিনি বলেন, উদ্যোক্তাদের পথচলায় নানা ধরনের প্রতিকূলতা আসবে। তবে এসব বাধা মোকাবিলায় সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই মুহূর্তে সরকারের অবস্থান থেকে আমি বলতে পারি, আমরা আছি আপনাদের সঙ্গে, আপনাদের হেল্প করার জন্য, পথ দেখানোর জন্য। আপনাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আমরা আছি। কতটুকু পারবো আমি জানি না, কিন্তু আমরা আছি, যতটুকু পারবো সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে আপনাদের পাশে থাকার চেষ্টা করবো, ইনশাআল্লাহ।”
তিনি বলেন, তরুণ উদ্যোক্তাদের প্রয়োজন শুধু নিজেদের উন্নতির জন্য নয়। তাদের উদ্ভাবনী চিন্তা, সৃজনশীলতা ও নতুন উদ্যোগ দেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং মানুষের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তারেক রহমান বলেন, “আপনারা আজকে যারা উদ্যোক্তা হবেন, যারা হতে চাইছেন, যারা হয়ে গিয়েছেন এবং এগিয়ে গিয়ে যারা মানুষ, সমাজ ও সামগ্রিকভাবে দেশের উপকার করছেন, আপনাদের প্রয়োজন। নিজের জন্য আপনাদের প্রয়োজন না, আপনাদের প্রয়োজন লাখো-কোটি মানুষের জন্য, আপনাদের প্রয়োজন এই দেশের জন্য।”
বক্তব্যে নিজের জীবনের বিভিন্ন প্রতিকূলতার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন, অপমান এবং নানা বাধা মোকাবিলা করে তাকে সামনে এগিয়ে যেতে হয়েছে।
নিজের অভিজ্ঞতা থেকে তরুণদের কঠিন পরিস্থিতিতেও হাল না ছাড়ার পরামর্শ দেন তিনি। ইচ্ছাশক্তি ও পরিশ্রম থাকলে প্রতিকূলতা অতিক্রম করে সফল হওয়া সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।
দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করে তারেক রহমান বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন উদ্ভাবনী আয়োজন, স্কুলশিক্ষার্থী ও স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের কাজ দেখে তার আত্মবিশ্বাস আরও বেড়েছে।
আগামী প্রজন্ম বাংলাদেশের নেতৃত্ব গ্রহণ করে দেশকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।
মন্তব্যসমূহ