ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় শিশু নিছামনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর নদীতে ফেলে হত্যার মামলায় তিনজনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় অপ্রাপ্তবয়স্ক এক আসামিকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে এ মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। ঘটনার মাত্র ২৫ দিনের মাথায় রায় হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহত শিশুটির মা-বাবা।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন আরিফ মিয়া, হাসান রাকিব ও আবু সাইম। রায়ে তাদের প্রত্যেককে দুই লাখ টাকা করে জরিমানাও করা হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সুদীপ্তা সরকার তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন। অন্যদিকে অপ্রাপ্তবয়স্ক এক আসামিকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন।
রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর বজলুল করিম চৌধুরী।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে তা দ্রুত কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন নিহত শিশুটির মা-বাবা। তবে রায়ে অসন্তোষ জানিয়ে উচ্চ আদালতে আপিলের কথা জানিয়েছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মকবুল হোসেন সরকার।
মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ১৪ জুন বিকেলে ধোবাউড়ায় শিশু নিছামনিকে দলবদ্ধ ধর্ষণের পর নদীতে ফেলে হত্যা করা হয়। পরদিন তার বাবা বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে ধোবাউড়া থানায় মামলা করেন।
এরপর পুলিশের অভিযানে চার আসামি গ্রেপ্তার হয়। পরে তারা ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেয়।
মামলার মাত্র নয় দিনের মাথায় ২৩ জুন চার আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। এরপর ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও উভয়পক্ষের শুনানি শেষে ঘটনার ২৫ দিনের মাথায় রায় ঘোষণা করা হলো।
মন্তব্যসমূহ