ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিতে পরমাণু জ্বালানি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, গ্রিন হাইড্রোজেন এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
বৃহস্পতিবার মেলবোর্নে অস্ট্রেলিয়া-ভারত অর্থনৈতিক রোডম্যাপ বিষয়ক ব্যবসায়িক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, দুই দেশের সামনে এই খাতে সহযোগিতার ‘ঐতিহাসিক সুযোগ’ তৈরি হয়েছে।
মোদি বলেন, অস্ট্রেলিয়ার প্রযুক্তি, পুঁজি ও প্রাকৃতিক সম্পদ ভারতের জ্বালানি রূপান্তরকে আরও দ্রুত এগিয়ে নিতে পারে। একই সঙ্গে কম কার্বন নিঃসরণভিত্তিক অ্যালুমিনিয়াম প্রকল্পেও দুই দেশের সহযোগিতার সম্ভাবনার কথা জানান তিনি।
ভারত ২০৪৭ সালের মধ্যে ১০০ গিগাওয়াট পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার লক্ষ্য নিয়েছে। এই লক্ষ্য পূরণে অস্ট্রেলিয়ার ইউরেনিয়াম মজুদের দিকে নজর দিচ্ছে নয়াদিল্লি। ২০১৪ সালে দুই দেশের মধ্যে পরমাণু সহযোগিতা চুক্তি হলেও ইউরেনিয়াম রপ্তানি সীমিত ছিল, মূলত শান্তিপূর্ণ কাজে ব্যবহারের নিশ্চয়তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ মোদিকে ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে একটি ‘জীবন্ত সেতু’ হিসেবে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, মোদির দৃষ্টিভঙ্গি ভারতের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার অর্থনৈতিক সম্পর্কের রোডম্যাপকে নতুনভাবে সাজাতে সহায়তা করেছে।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের অংশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় পেনশন ফান্ড অস্ট্রেলিয়ানসুপার ভারতের ন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফান্ডে আরও ৫০ কোটি অস্ট্রেলিয়ান ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে।
মোদি অস্ট্রেলিয়ার ব্যবসায়ী মহলকে ভারতের সড়ক, বন্দর, রেল ও নগর অবকাঠামো প্রকল্পে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের আহ্বান জানান। তাঁর ভাষায়, ভারত নিরাপদ, স্থিতিশীল ও টেকসই প্রবৃদ্ধির সুযোগ দিচ্ছে।
ভারত এখন অস্ট্রেলিয়ার পঞ্চম বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার। অন্যদিকে চীনের ওপর বাণিজ্যিক নির্ভরতা কমাতে অস্ট্রেলিয়াও ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করতে আগ্রহী।
মোদি বুধবার রাতে মেলবোর্নে পৌঁছান। বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিক বৈঠকের পাশাপাশি তিনি মেলবোর্নের একটি বড় স্টেডিয়ামে প্রবাসী ভারতীয়দের সমাবেশেও যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
মন্তব্যসমূহ