মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের কথিত ‘হত্যার তালিকায়’ তার নাম এক নম্বরে রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেছেন, জুন মাসে হওয়া যুদ্ধবিরতি সমঝোতা বারবার লঙ্ঘন করছে তেহরান।
তুরস্কে ন্যাটো সম্মেলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এসব কথা বলেন। তিনি জানান, নিরাপত্তাজনিত কারণে কাতারের উপহার দেওয়া বোয়িং উড়োজাহাজে দেশে ফিরবেন না। এর পরিবর্তে তিনি আগের একটি উড়োজাহাজে ফিরবেন, যা আগে এয়ার ফোর্স ওয়ান হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
হাস্যরসের সুরে ট্রাম্প বলেন, নতুন একটি তালিকায় তাকে হত্যার লক্ষ্যবস্তুর এক নম্বরে রাখা হয়েছে। তবে তিনি বলেন, টিকটকে এক নম্বরে থাকলেই তার বেশি ভালো লাগত।
ট্রাম্পের অভিযোগ, ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার স্থাপনা ও নৌযানে হামলা চালিয়েছে।
পরে ইরানও উপসাগরীয় অঞ্চলে কয়েকটি সামরিক স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালায় বলে জানা গেছে। তবে মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, এসব হামলায় কোনো মার্কিন সেনা হতাহত হননি।
ট্রাম্প বলেন, ইরান যুদ্ধবিরতি চুক্তি বারবার ভঙ্গ করছে এবং তিনি এতে মোটেও সন্তুষ্ট নন। তাঁর ভাষায়, “আমি মনে করি না, ইরানের সঙ্গে এই চুক্তি টিকবে।”
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক হামলা চালাবে। তাঁর দাবি, মার্কিন বাহিনী এক রাতেই ইরানের ২৮টি নৌযান ধ্বংস করেছে এবং পরিস্থিতি দাবি করলে আরও নৌযান লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
ট্রাম্প আবারও বলেন, কোনো অবস্থাতেই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। তাঁর দাবি, ইরানের হাতে পারমাণবিক বোমা থাকলে তারা সেটি ব্যবহার করত।
তিনি আরও বলেন, কূটনৈতিক সমঝোতা না হলেও যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন করতে দেবে না। প্রয়োজন হলে ইরানের বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ অবকাঠামোতেও হামলা চালানো হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি, যদিও এমন পরিস্থিতি তৈরি না হওয়ার আশা প্রকাশ করেন।
এ ছাড়া ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে পারে এবং তেহরানের বিরুদ্ধে আবারও অবরোধ আরোপ করতে পারে।
সাম্প্রতিক এসব মন্তব্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি চুক্তির ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। হরমুজ প্রণালি ঘিরে সামরিক উত্তেজনা বাড়তে থাকায় মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন সংঘাতের আশঙ্কাও ঘনীভূত হচ্ছে।
সূত্র: সামা টিভি
মন্তব্যসমূহ