ইরানের শীর্ষ আলোচকদের হত্যার পরিকল্পনা করেছিল ইসরায়েল। যুদ্ধবিরতি ও আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর সংবেদনশীল আলোচনার সময় এই হত্যাচেষ্টার আশঙ্কায় তেহরানকে সতর্ক করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন কর্মকর্তারা আশঙ্কা করেছিলেন, ইসরায়েল ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফকে হত্যার পরিকল্পনা করছে। তারা দুজনই তখন যুদ্ধবিরতি ও আঞ্চলিক সমঝোতা আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছিলেন।
ওয়াশিংটনের আশঙ্কা ছিল, ইরানের এই শীর্ষ আলোচকদের হত্যা করা হলে চলমান কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ভেস্তে যেতে পারে। তাই যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক মিত্রদের মাধ্যমে দ্রুত তেহরানকে সতর্ক করে দেয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আরাগচি ও গালিবাফকে ইসরায়েলের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে দেখা হচ্ছিল। মার্কিন কর্মকর্তারা মনে করতেন, তাদের হত্যা করা হলে শুধু আলোচনা ভেঙে পড়বে না, বরং অঞ্চলজুড়ে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাত ছড়িয়ে পড়তে পারে।
গালিবাফের পাকিস্তান সফর ঘিরেও উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। ইরানি নিরাপত্তা বাহিনী তার বহনকারী উড়োজাহাজকে সতর্ক করে জানায়, ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান ইরানের আকাশসীমায় প্রবেশ করেছে এবং উড়োজাহাজটি লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। পরে বিমানটি মাশহাদে জরুরি অবতরণ করে এবং গালিবাফের প্রতিনিধি দল স্থলপথে তেহরানে ফিরে যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির আলোচনা ভেস্তে যাওয়া ঠেকাতেই মার্কিন কর্মকর্তারা মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশকে ব্যবহার করে ইরানকে সতর্ক করেছিলেন। তাদের আশঙ্কা ছিল, আলোচকদের ওপর হামলা হলে কূটনৈতিক অগ্রগতি থেমে যাবে।
এ বিষয়ে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইরানি নেতৃত্ব ও সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ইসরায়েলের অভিযানের অভিযোগ ঘিরে তেহরান ও তেল আবিবের উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এর আগে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, দেশের জনগণ বা নেতৃত্বের বিরুদ্ধে যেকোনো হুমকির জবাব তাৎক্ষণিক ও কঠোরভাবে দেওয়া হবে।
সূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট
মন্তব্যসমূহ