ক্রোয়েশিয়ার কিংবদন্তি মিডফিল্ডার লুকা মদ্রিচ আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছেন। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশে পর্তুগালের কাছে ২-১ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যায় ক্রোয়েশিয়া। আর সেই ম্যাচটিই জাতীয় দলের জার্সিতে ৪০ বছর বয়সী এই তারকার শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ হয়ে থাকল।
টরন্টোর নাটকীয় ম্যাচে প্রথমে এগিয়ে গিয়েছিল ক্রোয়েশিয়া। তবে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পেনাল্টি গোলে সমতায় ফেরে পর্তুগাল। শেষ মুহূর্তে গনসালো রামোসের গোলে জয় নিশ্চিত করে রোনালদোদের দল। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই হার ক্রোয়েশিয়ার জন্য বড় এক অধ্যায়ের সমাপ্তির ইঙ্গিত, কারণ ৪০ বছর বয়সী অধিনায়ক মদ্রিচের বিশ্বকাপ যাত্রা কার্যত এখানেই শেষ হয়ে গেল।
পর্তুগালের বিপক্ষে লড়াই করে হারার পর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানার সিদ্ধান্ত জানান মদ্রিচ। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ক্রোয়েশিয়ার মাঝমাঠের প্রাণভোমরা হয়ে ওঠা এই ফুটবলার দেশের হয়ে খেলেছেন ২০১ ম্যাচ, করেছেন ২৯ গোল। তবে সংখ্যার চেয়েও বড় ছিল তাঁর প্রভাব, নেতৃত্ব আর ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণের অসাধারণ ক্ষমতা।
যুদ্ধবিধ্বস্ত শৈশব পেরিয়ে উঠে আসা মদ্রিচ ক্রোয়েশিয়ার ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা নাম। ২০১৮ বিশ্বকাপে দলকে প্রথমবারের মতো ফাইনালে তুলতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন তিনি। সেই আসরে গোল্ডেন বল জেতেন মদ্রিচ। একই বছর ব্যালন ডি’অর জিতে ভেঙে দেন মেসি-রোনালদোর দীর্ঘদিনের আধিপত্য। ২০২২ বিশ্বকাপেও ক্রোয়েশিয়াকে সেমিফাইনালে তুলেছিলেন এই মিডফিল্ডার।
ক্লাব ক্যারিয়ারেও সাফল্যের ঝলক ছড়িয়েছেন মদ্রিচ। টটেনহ্যাম হটস্পার ছেড়ে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দিয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন বিশ্বের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডার হিসেবে। তবে তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয় হয়ে থাকবে ক্রোয়েশিয়ার জার্সিতে। ছোট্ট এক ফুটবল জাতিকে বিশ্বমঞ্চে বারবার আলোচনায় এনেছেন তিনি।
মদ্রিচের বিদায়ে তাই শুধু একজন ফুটবলারের ক্যারিয়ার শেষ হলো না, শেষ হলো ক্রোয়েশিয়ার ফুটবলের এক সোনালি অধ্যায়ও। যে অধ্যায়ে ছিল লড়াই, নেতৃত্ব, শিল্প আর অদম্য মানসিকতার গল্প।
সূত্র: রয়টার্স
মন্তব্যসমূহ