ডাবলিন বিমানবন্দরে সপরিবারে ভ্রমণের সময় বৈষম্যমূলক আচরণের শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন শ্রীলঙ্কার সাবেক অধিনায়ক কুমার সাঙ্গাকারা। আইরিশ বিমান সংস্থা রায়ানএয়ারের কর্মীদের আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি জানিয়েছেন, ডাবলিনে এমন তিক্ত অভিজ্ঞতা এর আগে কখনো হয়নি তার।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে সাঙ্গাকারা জানান, বিমানবন্দরে রায়ানএয়ারের গেটকর্মীদের কাছ থেকে তার পরিবারকে অসম্মানজনক ও হুমকিমূলক আচরণের মুখোমুখি হতে হয়েছে। বিষয়টিকে যেকোনো যাত্রীর জন্যই অগ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সাঙ্গাকারার অভিযোগের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় বিতর্ক। মেডা ক্যারি নামের এক ব্যবহারকারী তার পোস্টের প্রতিক্রিয়ায় দাবি করেন, সাঙ্গাকারা হয়তো বিশেষ সুবিধা পাওয়ার প্রত্যাশা করেছিলেন। তার মতে, সব যাত্রীর সঙ্গে একই ধরনের আচরণ করা বৈষম্য নয়।
ওই ব্যবহারকারী লেখেন, ‘সবার সাথে হুবহু একই রকম আচরণ করা বৈষম্য নয়, যদিও বিশেষ সুবিধায় অভ্যস্ত কেউ এতে অপমানিত বোধ করতে পারেন। কারও মর্যাদাকে স্বীকৃতি না দেওয়াটা কেবলই নিরপেক্ষতা। এক জ্ঞানী ব্যক্তি একবার বলেছিলেন, মানুষ যখন বিশেষ সুবিধা পেতে অভ্যস্ত হয়ে যায়, তখন সমান আচরণকেও বৈষম্য বলে মনে হয়। রায়ানএয়ার কোনো বাড়তি সুবিধার প্রতিশ্রুতি দেয় না।’
তবে ওই মন্তব্যের জবাবে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন সাঙ্গাকারা। তিনি বলেন, বিষয়টি কোনো বিশেষ সুবিধা পাওয়ার প্রত্যাশা নয়, বরং বর্ণবাদী আচরণের প্রতিবাদ।
সাঙ্গাকারার ভাষ্য, ‘যখন কেউ বলে আপনাদের মতো পাসপোর্টধারী ব্যক্তির এমন আচরণই পাওয়া উচিত এবং সেই জঘন্য মন্তব্যের যদি আমরা বিরোধিতা করি, তাহলে আমাদেরকে অন্য যাত্রীদের জন্য হুমকি হিসেবে গণ্য করে বিমানে উঠতে না দেয়, তাহলে সেটা সবার সঙ্গে সমান আচরণ নয়, বর্ণবাদী।’
এর আগে নিজের পোস্টে বিমানবন্দরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সাঙ্গাকারা লিখেছিলেন, ‘ডাবলিনে রায়ানএয়ারের কোনো গেটকর্মীর বৈষম্যমূলক আচরণের শিকার কি কেউ হয়েছিলেন? আমার পরিবার ও আমার কেবলই এমন অভিজ্ঞতা হলো। এটা ছিল বিস্ময়কর। সম্বোধনের ভঙ্গি, পদ্ধতিগত ত্রুটি এবং হুমকিমূলক আচরণ। যে কোনো যাত্রীর জন্য অগ্রহণযোগ্য। ডাবলিনে এমন বাজে অভিজ্ঞতা প্রথমবার হলো।’
উল্লেখ্য, রায়ানএয়ার আয়ারল্যান্ডভিত্তিক একটি অতি-স্বল্প খরচের বিমান সংস্থা। প্রতিষ্ঠানটির সদর দপ্তর দেশটির ডাবলিন কাউন্টির সোর্ডস শহরে অবস্থিত। যাত্রী পরিবহন, বিমানবহরের আকার এবং ফ্লাইটের সংখ্যার বিবেচনায় এটি ইউরোপের বৃহত্তম বিমান সংস্থা।
মন্তব্যসমূহ