বর্তমানে প্রায় ১৩০ কোটি ডলারে থাকা বাংলাদেশ ও তুরস্কের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ২০০ কোটি ডলার বা তার বেশি পর্যায়ে নিতে চায় ঢাকা। এ লক্ষ্য অর্জনে বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়ানো, পণ্যের বৈচিত্র্য আনা এবং দুই দেশের ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ঢাকার একটি হোটেলে তুরস্কের ১০৩তম প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে দেশটির দূতাবাস আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘বাজারে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি, পণ্যের বহুমুখীকরণ এবং ব্যবসায়িক পর্যায়ে অংশীদারিত্ব জোরদারের মাধ্যমে আমরা দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ২০০ কোটি ডলার ও এর বেশি পর্যায়ে উন্নীত করতে প্রস্তুত।’
তাঁর মতে, অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হলে দুই দেশের মানুষের জন্য কর্মসংস্থান, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ও সমৃদ্ধির নতুন সুযোগ তৈরি হবে।
বাংলাদেশ ও তুরস্কের সম্পর্ককে ঐতিহাসিক সংহতি এবং ক্রমবর্ধমান সহযোগিতার ওপর প্রতিষ্ঠিত বহুমাত্রিক অংশীদারিত্ব হিসেবে বর্ণনা করেন আসাদুজ্জামান। তিনি জানান, রাজনৈতিক সংলাপের পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও মানবিক সহায়তাসহ নানা ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা বিস্তৃত হয়েছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, এটি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও গভীর ও বহুমুখী করার যৌথ অঙ্গীকারের প্রতিফলন।
রোহিঙ্গা সংকটে তুরস্কের মানবিক সহায়তা ও বাংলাদেশের প্রতি সংহতির জন্য কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। পাশাপাশি ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার আন্তর্জাতিক উদ্যোগে তুরস্কের সমর্থনের কথা উল্লেখ করেন। বাংলাদেশের আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতেও দেশটির সহযোগিতা কামনা করেন আইনমন্ত্রী।
বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘কামাল পাশা’ কবিতার উল্লেখ করে তিনি বলেন, এতে তুরস্কের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতি বাংলাদেশের মানুষের শ্রদ্ধা ও অনুরাগের প্রকাশ ঘটেছে।
অনুষ্ঠানে তুরস্কের রাষ্ট্রদূত রামিস সেন জানান, বাংলাদেশে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের নতুন ক্ষেত্র খুঁজে দেখতে তুর্কি ব্যবসায়ীদের উৎসাহিত করছে তাঁর দেশ। বাংলাদেশে তুর্কি কোম্পানিগুলোর উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ রয়েছে বলেও জানান তিনি। তাঁর মতে, ঢাকা-ইস্তাম্বুলের সরাসরি যাত্রী ও পণ্যবাহী বিমান চলাচল দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
রাষ্ট্রদূত আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ১১ ও ১২ নভেম্বর তুরস্কের আনতালিয়ায় অনুষ্ঠেয় কপ-৩১ সম্মেলনের বিশ্বনেতাদের শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেবেন। তিনি এ বছরের ৫ ও ৬ জুন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের বাংলাদেশ সফর এবং আন্তর্জাতিক বিচার সম্মেলন ২০২৬-এ অংশ নিতে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামানের সাম্প্রতিক তুরস্ক সফরের কথাও স্মরণ করেন।
এ ছাড়া যৌথ অর্থনৈতিক কমিশনের পরবর্তী বৈঠক আগামী ২১ জানুয়ারি ২০২৭ ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান রামিস সেন। বৈঠকটি দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক পর্যালোচনার সুযোগ তৈরি করবে।
অনুষ্ঠানে তুরস্ক প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা গাজী মুস্তাফা কামাল আতাতুর্কের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। ১৯২৩ সালের ২৯ অক্টোবর তুরস্কে প্রজাতন্ত্র ঘোষণার স্মরণে এ সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছিল। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার অতিথি ও কূটনীতিকরা অংশ নেন।
মন্তব্যসমূহ