ঢাকা    শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ ১৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

জাকের-নাঈমের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ানোর আশা, বাংলাদেশের লিড ১০৬

জাকের-নাঈমের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ানোর আশা, বাংলাদেশের লিড ১০৬
ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

মিরপুর টেস্টের তৃতীয় দিনে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে অলআউট করার পর নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছে বাংলাদেশ। ক্যারিবীয় বোলারদের সামনে একপর্যায়ে ৩৫ রানেই ৫ উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। তবে জাকের আলি অনিক ও নাঈম হাসানের ব্যাটে লিড একশ ছাড়িয়েছে। আলোকস্বল্পতার কারণে দিনের খেলা বন্ধ হওয়ার সময় বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৬ উইকেটে ৭৯ রান। প্রথম ইনিংস মিলিয়ে তাদের লিড দাঁড়িয়েছে ১০৬ রানে।

দ্বিতীয় ইনিংসে শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। শামার জোসেফের ফুল লেন্থের বল ফ্লিক করতে গিয়ে গালিতে ক্যাচ দেন তানজিদ হাসান তামিম। আগের ইনিংসে ৭ রান করা এই ওপেনার এবার কোনো রান না করেই ফেরেন। দলীয় সংগ্রহ তখন মাত্র ১।

এরপর অধিনায়ক শান্ত ও সাদমান ইসলামের জুটিতে বাংলাদেশের লিড ৫০ রান ছাড়ায়। তবে ইনিংসের ১১তম ওভারে মাত্র তিন বলের ব্যবধানে দুই উইকেট হারায় দল। আগের ইনিংসে সেঞ্চুরি করা সাদমান ৩০ বলে ১৩ রান করে রোস্টন চেজের বলে বোল্ড হন। পরের বলগুলোর মধ্যে বড় শট খেলতে গিয়ে মিড-অনে শামার জোসেফের হাতে ক্যাচ দেন তাওহিদ হৃদয়। আগের ইনিংসে ৪২ রান করা এই ব্যাটার এবার রানের খাতা খুলতে পারেননি।

এরপর শান্তও সাজঘরে ফেরেন। ফিল্ডিংয়ের সময় মাথায় আঘাত পাওয়ায় মুমিনুল হকের কানকাশন বদলি হিসেবে ব্যাট করতে নামেন জাকের আলি অনিক। তবে দলীয় সংগ্রহে আর মাত্র এক রান যোগ হতেই মিরপুরে বৃষ্টি শুরু হয়। এ কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই চা বিরতি দেওয়া হয়। বিরতির আগে ৩৪ রান তুলতেই ৪ উইকেট হারিয়েছিল বাংলাদেশ।

চা বিরতির পর খেলা শুরু হলে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি লিটন কুমার দাস। জোমেল ওয়ারিকানের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন তিনি। ১০ বলে তাঁর সংগ্রহ ৪ রান।

এরপর ৩৫ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। জাকেরের সঙ্গে জুটি গড়ার চেষ্টা করেন মেহেদী হাসান মিরাজ। কিন্তু ৯ রান করে ওয়ারিকানের বলে আউট হন তিনি। ফলে ৩৫ রানের মধ্যেই ষষ্ঠ উইকেট হারায় স্বাগতিকরা।

অন্যদিকে, দিনের শুরুতে ৪ উইকেটে ১৩৪ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তেজনারায়ণ চন্দরপল ১৮৪ বল মোকাবিলা করে ৬ চার ও ১ ছক্কায় ৫৬ রান করেন। শরিফুল ইসলামের বলে স্লিপে শান্তর হাতে ক্যাচ দিয়ে তাঁর ইনিংস শেষ হয়। এর আগে জাস্টিন গ্রিভসের সঙ্গে ৬৫ রানের জুটি গড়েছিলেন তিনি।

গ্রিভসও একবার জীবন পেয়েছিলেন। মুমিনুল হক তাঁর সহজ ক্যাচ ছাড়েন। পরে নাঈম হাসানের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন এই ব্যাটার। ১০৩ বলে ২ চারে তাঁর সংগ্রহ ছিল ৪৬ রান।

মধ্যাহ্নভোজের বিরতির পর বাংলাদেশের দুই অফস্পিনার বাকি চারটি উইকেট ভাগাভাগি করে নেন। অভিষিক্ত ক্যারিবীয় অলরাউন্ডার জশুয়া বিশপ তিনটি চার মেরে শুরু করলেও ১৫ রানের বেশি করতে পারেননি। মিরাজের বলে স্টাম্পিং হয়ে ফেরেন তিনি।

এরপর শামার জোসেফকে ৪ রানে উইকেটকিপার লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন নাঈম। একই বোলারের বলে জোমেল ওয়ারিকান শূন্য রানে এলবিডব্লিউ হন। জেইডেন সিলসও কোনো রান না করে মিরাজের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। এভাবেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংসের সমাপ্তি ঘটে।

বাংলাদেশের হয়ে নাঈম হাসান চারটি উইকেট নিয়েছেন। এর মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে ৫০ টেস্ট উইকেটের মাইলফলক পূর্ণ করেছেন তিনি। মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলাম দুটি করে এবং হাসান মাহমুদ ও শরিফুল ইসলাম একটি করে উইকেট পেয়েছেন।

তবে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং বিপর্যয়ের পর জাকের ও নাঈমের জুটি বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দিনের খেলা শেষ হওয়ার আগে তাঁদের ব্যাটে লিড ১০৬ রানে পৌঁছেছে।

ট্যাগ : বাংলাদেশ ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট মিরপুর টেস্ট

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬


জাকের-নাঈমের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ানোর আশা, বাংলাদেশের লিড ১০৬

প্রকাশের তারিখ : ৩০ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

মিরপুর টেস্টের তৃতীয় দিনে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে অলআউট করার পর নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছে বাংলাদেশ। ক্যারিবীয় বোলারদের সামনে একপর্যায়ে ৩৫ রানেই ৫ উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। তবে জাকের আলি অনিক ও নাঈম হাসানের ব্যাটে লিড একশ ছাড়িয়েছে। আলোকস্বল্পতার কারণে দিনের খেলা বন্ধ হওয়ার সময় বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৬ উইকেটে ৭৯ রান। প্রথম ইনিংস মিলিয়ে তাদের লিড দাঁড়িয়েছে ১০৬ রানে।

দ্বিতীয় ইনিংসে শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। শামার জোসেফের ফুল লেন্থের বল ফ্লিক করতে গিয়ে গালিতে ক্যাচ দেন তানজিদ হাসান তামিম। আগের ইনিংসে ৭ রান করা এই ওপেনার এবার কোনো রান না করেই ফেরেন। দলীয় সংগ্রহ তখন মাত্র ১।

এরপর অধিনায়ক শান্ত ও সাদমান ইসলামের জুটিতে বাংলাদেশের লিড ৫০ রান ছাড়ায়। তবে ইনিংসের ১১তম ওভারে মাত্র তিন বলের ব্যবধানে দুই উইকেট হারায় দল। আগের ইনিংসে সেঞ্চুরি করা সাদমান ৩০ বলে ১৩ রান করে রোস্টন চেজের বলে বোল্ড হন। পরের বলগুলোর মধ্যে বড় শট খেলতে গিয়ে মিড-অনে শামার জোসেফের হাতে ক্যাচ দেন তাওহিদ হৃদয়। আগের ইনিংসে ৪২ রান করা এই ব্যাটার এবার রানের খাতা খুলতে পারেননি।

এরপর শান্তও সাজঘরে ফেরেন। ফিল্ডিংয়ের সময় মাথায় আঘাত পাওয়ায় মুমিনুল হকের কানকাশন বদলি হিসেবে ব্যাট করতে নামেন জাকের আলি অনিক। তবে দলীয় সংগ্রহে আর মাত্র এক রান যোগ হতেই মিরপুরে বৃষ্টি শুরু হয়। এ কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই চা বিরতি দেওয়া হয়। বিরতির আগে ৩৪ রান তুলতেই ৪ উইকেট হারিয়েছিল বাংলাদেশ।

চা বিরতির পর খেলা শুরু হলে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি লিটন কুমার দাস। জোমেল ওয়ারিকানের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন তিনি। ১০ বলে তাঁর সংগ্রহ ৪ রান।

এরপর ৩৫ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। জাকেরের সঙ্গে জুটি গড়ার চেষ্টা করেন মেহেদী হাসান মিরাজ। কিন্তু ৯ রান করে ওয়ারিকানের বলে আউট হন তিনি। ফলে ৩৫ রানের মধ্যেই ষষ্ঠ উইকেট হারায় স্বাগতিকরা।

অন্যদিকে, দিনের শুরুতে ৪ উইকেটে ১৩৪ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তেজনারায়ণ চন্দরপল ১৮৪ বল মোকাবিলা করে ৬ চার ও ১ ছক্কায় ৫৬ রান করেন। শরিফুল ইসলামের বলে স্লিপে শান্তর হাতে ক্যাচ দিয়ে তাঁর ইনিংস শেষ হয়। এর আগে জাস্টিন গ্রিভসের সঙ্গে ৬৫ রানের জুটি গড়েছিলেন তিনি।

গ্রিভসও একবার জীবন পেয়েছিলেন। মুমিনুল হক তাঁর সহজ ক্যাচ ছাড়েন। পরে নাঈম হাসানের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন এই ব্যাটার। ১০৩ বলে ২ চারে তাঁর সংগ্রহ ছিল ৪৬ রান।

মধ্যাহ্নভোজের বিরতির পর বাংলাদেশের দুই অফস্পিনার বাকি চারটি উইকেট ভাগাভাগি করে নেন। অভিষিক্ত ক্যারিবীয় অলরাউন্ডার জশুয়া বিশপ তিনটি চার মেরে শুরু করলেও ১৫ রানের বেশি করতে পারেননি। মিরাজের বলে স্টাম্পিং হয়ে ফেরেন তিনি।

এরপর শামার জোসেফকে ৪ রানে উইকেটকিপার লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন নাঈম। একই বোলারের বলে জোমেল ওয়ারিকান শূন্য রানে এলবিডব্লিউ হন। জেইডেন সিলসও কোনো রান না করে মিরাজের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। এভাবেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংসের সমাপ্তি ঘটে।

বাংলাদেশের হয়ে নাঈম হাসান চারটি উইকেট নিয়েছেন। এর মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে ৫০ টেস্ট উইকেটের মাইলফলক পূর্ণ করেছেন তিনি। মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলাম দুটি করে এবং হাসান মাহমুদ ও শরিফুল ইসলাম একটি করে উইকেট পেয়েছেন।

তবে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং বিপর্যয়ের পর জাকের ও নাঈমের জুটি বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দিনের খেলা শেষ হওয়ার আগে তাঁদের ব্যাটে লিড ১০৬ রানে পৌঁছেছে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ