ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ ১৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মাহবুব উল আলম হানিফের মৃত্যুদণ্ড

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মাহবুব উল আলম হানিফের মৃত্যুদণ্ড
ফাইল ছবি
ফলো করুন

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই মামলায় অপর তিন আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই রায় ঘোষণা করেন বলে প্রকাশিত সংবাদে জানানো হয়েছে।

মামলার চার আসামিই পলাতক রয়েছেন। তাঁদের অনুপস্থিতিতে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

হানিফ ছাড়া মামলার অন্য তিন আসামি হলেন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সদর উদ্দিন খান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসগর আলী এবং কুষ্টিয়া পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান।

রায়ের তথ্য অনুযায়ী, এই তিনজনকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে কুষ্টিয়ায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মামলাটি করা হয়।

প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, চার আসামির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছিল।

অভিযোগগুলোর মধ্যে কুষ্টিয়া শহরে ছয়জনকে হত্যা, আন্দোলনকারীদের ওপর হামলায় উসকানি এবং দমন-পীড়নের পরিকল্পনা ও নির্দেশনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয় রয়েছে।

তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদনে আসামিদের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার ওপর হামলার নির্দেশ দেওয়া এবং হামলার কার্যক্রমে অংশগ্রহণের অভিযোগ আনা হয়।

প্রসিকিউশনের দাবি ছিল, কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত অনুসারে কুষ্টিয়ায় আন্দোলন দমনের কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছিল।

মামলার যুক্তিতর্কে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামীম বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দমনে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ও দলীয় নেতৃত্ব রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মাহবুব উল আলম হানিফ সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ভূমিকা পালন করেন।

প্রসিকিউটর দাবি করেন, হানিফ অধীনস্থ ব্যক্তিদের নির্দেশনা দেওয়ার পাশাপাশি টেলিফোনে যোগাযোগের মাধ্যমে আন্দোলন দমনের কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছিলেন।

তাঁর বিরুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণের পাশাপাশি অন্যদের মাধ্যমে অপরাধ সংঘটনে ভূমিকা রাখার অভিযোগও আনা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্কে চার আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি চাওয়া হয়েছিল।

প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামীম জানান, মামলার বিচারিক কার্যক্রমের একটি পর্যায়ে অতিরিক্ত তথ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করা হয়। পরে সেসব প্রমাণের ভিত্তিতে আবারও যুক্তিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়।

তিনি বলেন, হানিফের রাজনৈতিক অবস্থান ও নির্দেশনার সঙ্গে কুষ্টিয়ার ঘটনাগুলোর সম্পর্ক তুলে ধরে ট্রাইব্যুনালে তথ্যপ্রমাণ দেওয়া হয়েছে।

প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, একই ধরনের অভিযোগে আওয়ামী লীগের অন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের বিরুদ্ধে দেওয়া আগের রায়ের বিষয়টিও যুক্তিতর্কে তুলে ধরা হয়েছিল।

এসব বিবেচনায় হানিফসহ চার আসামির সর্বোচ্চ সাজা চেয়েছিল রাষ্ট্রপক্ষ।

মাহবুব উল আলম হানিফসহ মামলার চার আসামিই পলাতক থাকায় তাঁদের অনুপস্থিতিতে বিচার চলে।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের পাশাপাশি আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীও আইনি বক্তব্য দেন।

এর আগে ২০২৫ সালের ২ নভেম্বর চার আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

বিচারিক কার্যক্রমে তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ১৯ জন সাক্ষ্য দেন।

গত ৭ অক্টোবর উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ার পর মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়। পরে ২৯ অক্টোবর রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করা হয়।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত রায়ের তথ্য অনুযায়ী, হানিফের মৃত্যুদণ্ড এবং বাকি তিন আসামির আমৃত্যু কারাদণ্ড হয়েছে।

তবে পূর্ণাঙ্গ রায়ের পর্যবেক্ষণ, অভিযোগভিত্তিক সাজা এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের বিস্তারিত তথ্য এখনো সরবরাহকৃত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

ট্যাগ : আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মাহবুব উল আলম হানিফ

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬


মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মাহবুব উল আলম হানিফের মৃত্যুদণ্ড

প্রকাশের তারিখ : ২৯ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই মামলায় অপর তিন আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই রায় ঘোষণা করেন বলে প্রকাশিত সংবাদে জানানো হয়েছে।

মামলার চার আসামিই পলাতক রয়েছেন। তাঁদের অনুপস্থিতিতে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

হানিফ ছাড়া মামলার অন্য তিন আসামি হলেন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সদর উদ্দিন খান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসগর আলী এবং কুষ্টিয়া পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান।

রায়ের তথ্য অনুযায়ী, এই তিনজনকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে কুষ্টিয়ায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মামলাটি করা হয়।

প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, চার আসামির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছিল।

অভিযোগগুলোর মধ্যে কুষ্টিয়া শহরে ছয়জনকে হত্যা, আন্দোলনকারীদের ওপর হামলায় উসকানি এবং দমন-পীড়নের পরিকল্পনা ও নির্দেশনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয় রয়েছে।

তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদনে আসামিদের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার ওপর হামলার নির্দেশ দেওয়া এবং হামলার কার্যক্রমে অংশগ্রহণের অভিযোগ আনা হয়।

প্রসিকিউশনের দাবি ছিল, কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত অনুসারে কুষ্টিয়ায় আন্দোলন দমনের কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছিল।

মামলার যুক্তিতর্কে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামীম বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দমনে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ও দলীয় নেতৃত্ব রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মাহবুব উল আলম হানিফ সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ভূমিকা পালন করেন।

প্রসিকিউটর দাবি করেন, হানিফ অধীনস্থ ব্যক্তিদের নির্দেশনা দেওয়ার পাশাপাশি টেলিফোনে যোগাযোগের মাধ্যমে আন্দোলন দমনের কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছিলেন।

তাঁর বিরুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণের পাশাপাশি অন্যদের মাধ্যমে অপরাধ সংঘটনে ভূমিকা রাখার অভিযোগও আনা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্কে চার আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি চাওয়া হয়েছিল।

প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামীম জানান, মামলার বিচারিক কার্যক্রমের একটি পর্যায়ে অতিরিক্ত তথ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করা হয়। পরে সেসব প্রমাণের ভিত্তিতে আবারও যুক্তিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়।

তিনি বলেন, হানিফের রাজনৈতিক অবস্থান ও নির্দেশনার সঙ্গে কুষ্টিয়ার ঘটনাগুলোর সম্পর্ক তুলে ধরে ট্রাইব্যুনালে তথ্যপ্রমাণ দেওয়া হয়েছে।

প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, একই ধরনের অভিযোগে আওয়ামী লীগের অন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের বিরুদ্ধে দেওয়া আগের রায়ের বিষয়টিও যুক্তিতর্কে তুলে ধরা হয়েছিল।

এসব বিবেচনায় হানিফসহ চার আসামির সর্বোচ্চ সাজা চেয়েছিল রাষ্ট্রপক্ষ।

মাহবুব উল আলম হানিফসহ মামলার চার আসামিই পলাতক থাকায় তাঁদের অনুপস্থিতিতে বিচার চলে।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের পাশাপাশি আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীও আইনি বক্তব্য দেন।

এর আগে ২০২৫ সালের ২ নভেম্বর চার আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

বিচারিক কার্যক্রমে তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ১৯ জন সাক্ষ্য দেন।

গত ৭ অক্টোবর উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ার পর মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়। পরে ২৯ অক্টোবর রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করা হয়।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত রায়ের তথ্য অনুযায়ী, হানিফের মৃত্যুদণ্ড এবং বাকি তিন আসামির আমৃত্যু কারাদণ্ড হয়েছে।

তবে পূর্ণাঙ্গ রায়ের পর্যবেক্ষণ, অভিযোগভিত্তিক সাজা এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের বিস্তারিত তথ্য এখনো সরবরাহকৃত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ