ফুটবল মাঠের দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবার নতুন মাত্রা পেল ভক্তদের ভোটে। ব্যালন ডি’অরের ৭০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ ভোটাভুটিতে লিওনেল মেসিকে পেছনে ফেলে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। পর্তুগিজ তারকার ২০০৮ সালের ব্যালন ডি’অরজয়ী পারফরম্যান্সকে এই ভোটে সর্বকালের সেরা হিসেবে বেছে নিয়েছেন অংশগ্রহণকারীরা।
‘ব্যালন ডি’অর অব অল টাইম’ বা বিওএটি নামে এই বিশেষ ভোটের আয়োজন করে ফরাসি সাময়িকী ফ্রান্স ফুটবলের ব্যালন ডি’অর কর্তৃপক্ষ।
গত ১ অক্টোবর শুরু হওয়া ভোটগ্রহণ শেষ হয় মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর)। এরপর প্রকাশিত চূড়ান্ত ফলাফলে রোনালদোর ২০০৮ সালের পারফরম্যান্স প্রথম এবং মেসির ২০১২ সালের পারফরম্যান্স দ্বিতীয় স্থান পায়।
২০০৭-০৮ মৌসুমে ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে দুর্দান্ত সময় কাটিয়েছিলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।
সেই মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৪৯ ম্যাচে ৪২ গোল করেন তিনি। তাঁর পারফরম্যান্সে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ ও উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা জেতে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড।
দলীয় সাফল্যের পাশাপাশি ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে ২০০৮ সালে প্রথমবারের মতো ব্যালন ডি’অর জেতেন রোনালদো।
পরবর্তী সময়ে আরও চারবার পুরস্কারটি জিতেছেন পর্তুগিজ তারকা। তাঁর মোট ব্যালন ডি’অরের সংখ্যা পাঁচটি।
বিশেষ ভোটাভুটিতে রোনালদোর ক্যারিয়ারের এই প্রথম ব্যালন ডি’অরজয়ী বছরটিই সবচেয়ে বেশি সমর্থন পেয়েছে।
ভোটের দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসির ২০১২ সালের ব্যালন ডি’অরজয়ী পারফরম্যান্স।
ওই বছর গোল করার অসাধারণ ধারাবাহিকতায় ফুটবল ইতিহাসে নতুন রেকর্ড গড়েছিলেন মেসি।
২০১২ পঞ্জিকাবর্ষে বার্সেলোনার হয়ে ৭৯টি এবং আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে ১২টি গোল করেন তিনি। সব মিলিয়ে তাঁর গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ৯১-এ।
এর মাধ্যমে ১৯৭২ সালে গার্ড মুলারের করা ৮৫ গোলের রেকর্ড ভেঙে দেন আর্জেন্টাইন তারকা।
অন্যদিকে ২০১১-১২ ক্লাব মৌসুমে বার্সেলোনার হয়ে ৬০ ম্যাচে ৭৩ গোল করেছিলেন মেসি। সেই মৌসুমে তাঁর দল কোপা দেল রে ও স্প্যানিশ সুপার কাপ জেতে।
২০১২ সালে টানা চতুর্থবারের মতো ব্যালন ডি’অর জেতেন তিনি।
তবে এবারের বিশেষ ভোটে মেসির রেকর্ডগড়া ২০১২ সালকে পেছনে ফেলেছে রোনালদোর ২০০৮ সালের পারফরম্যান্স।
এই বিশেষ ভোটাভুটিতে অংশ নেওয়ার জন্য ভক্তদের প্রতিটি ভোটের বিপরীতে এক ইউরো দিতে হয়েছে।
একজন অংশগ্রহণকারী চাইলে একাধিকবার ভোট দিতে পারতেন।
আয়োজকদের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মোট ৫ হাজার ৯ জন ব্যবহারকারী একাধিকবার ভোট দিয়েছেন।
তাঁদের মধ্যে ৪৪ জন ১০ থেকে ২৬ বার, ৩০০ জন পাঁচ থেকে নয়বার এবং ৪ হাজার ৬৬৫ জন দুই থেকে চারবার ভোট দিয়েছেন।
একাধিকবার ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকায় এই ফলাফলকে প্রত্যেক স্বতন্ত্র ভোটারের ব্যক্তিগত পছন্দের সরাসরি পরিমাপ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।
ভোটের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর আয়োজকেরা একাধিকবার ভোট দেওয়ার এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করেন।
ভোটের চূড়ান্ত ফলাফলে প্রথম ১২টি স্থান দখল করেছেন মেসি ও রোনালদো।
প্রথম স্থানে রোনালদোর ২০০৮ সাল, দ্বিতীয় স্থানে মেসির ২০১২ সাল এবং তৃতীয় স্থানে রোনালদোর ২০১৭ সালের ব্যালন ডি’অরজয়ী পারফরম্যান্স রয়েছে।
চতুর্থ স্থানে জায়গা পেয়েছে মেসির ২০২৩ সালের অর্জন।
এরপরের অবস্থানগুলোতেও পালাক্রমে উঠে এসেছে দুই তারকার বিভিন্ন ব্যালন ডি’অরজয়ী বছর।
তালিকার ১৩তম স্থানে রয়েছেন ব্রাজিলের সাবেক তারকা রোনালদো নাজারিও। তাঁর ২০০২ সালের ব্যালন ডি’অরজয়ী পারফরম্যান্স এই অবস্থান পেয়েছে।
ব্যালন ডি’অরের ইতিহাসে অন্তত দুবার পুরস্কারজয়ী ১০ জন ফুটবলারকে নিয়ে আয়োজন করা হয় এই বিশেষ ভোট।
তালিকায় ছিলেন আটবারের বিজয়ী লিওনেল মেসি ও পাঁচবারের বিজয়ী ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।
এ ছাড়া ছিলেন তিনবারের বিজয়ী ইয়োহান ক্রুইফ, মিশেল প্লাতিনি ও মার্কো ফন বাস্তেন।
অন্য মনোনীত ফুটবলাররা হলেন ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার, রোনালদো নাজারিও, কার্ল-হেইঞ্জ রুমেনিগে, কেভিন কিগান ও আলফ্রেডো দি স্তেফানো।
এই ফুটবলারদের বিভিন্ন ব্যালন ডি’অরজয়ী বছরের পারফরম্যান্সকে ভোটের জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়।
বিশেষ ভোটে প্রথম হলেও রোনালদোর হাতে নতুন কোনো ব্যালন ডি’অর ট্রফি তুলে দেওয়া হবে না।
আয়োজকদের ঘোষণা অনুযায়ী, এটি ভক্তদের অংশগ্রহণে পরিচালিত একটি বিশেষ স্বীকৃতি। নিয়মিত ব্যালন ডি’অর পুরস্কারের মতো আলাদা আনুষ্ঠানিক ট্রফি এতে নেই।
ফলে রোনালদোর ব্যালন ডি’অরজয়ের সংখ্যা পাঁচটিই থাকছে।
একইভাবে এই ভোটের ফলাফল দিয়ে মেসি ও রোনালদোর পুরো ক্যারিয়ারের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে সর্বকালের সেরা ফুটবলার নির্ধারণ করা হয়নি।
এবারের স্বীকৃতি শুধু ব্যালন ডি’অরজয়ী নির্দিষ্ট বছরগুলোর পারফরম্যান্স নিয়ে আয়োজিত বিশেষ ভক্তভোটের ফলাফল।
মন্তব্যসমূহ