ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ ১৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

মস্কোর দিকে রাতভর ৬১৩ ড্রোন, অধিকাংশ ভূপাতিতের দাবি রাশিয়ার

মস্কোর দিকে রাতভর ৬১৩ ড্রোন, অধিকাংশ ভূপাতিতের দাবি রাশিয়ার
ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর দিকে রাতভর ৬১৩টি ড্রোন পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন শহরটির মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, মস্কোর কাছে পৌঁছানোর আগেই ২৩১টি ড্রোন ধ্বংস করেছে রুশ আকাশ প্রতিরক্ষাবাহিনী। বাকি ড্রোনগুলোর অধিকাংশ দূরবর্তী এলাকাতেই প্রতিহত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।

মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন জানিয়েছেন, বুধবার (২৮ অক্টোবর) স্থানীয় সময় রাত ৮টা ৩০ মিনিট থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা পর্যন্ত মস্কো অঞ্চলের দিকে ৬১৩টি চালকবিহীন আকাশযান বা ড্রোন এগিয়ে আসে।

তাঁর দাবি, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এসব ড্রোন প্রতিহত করতে অভিযান চালায়।

বেশির ভাগ ড্রোন মস্কো থেকে দূরবর্তী এলাকাতেই নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। রাজধানীর কাছাকাছি আসার পর আরও ২৩১টি ড্রোন ধ্বংস করা হয়।

রুশ কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে মস্কো অঞ্চলকে লক্ষ্য করে পরিচালিত বড় ধরনের ড্রোন হামলার ঘটনাগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম।

তবে মোট কতটি ড্রোন নির্দিষ্ট কোন এলাকায় ভূপাতিত হয়েছে এবং কোনো ড্রোন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

ড্রোন তৎপরতার মধ্যে মস্কোর কয়েকটি বিমানবন্দরের কার্যক্রমেও সাময়িক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।

রুশ সংবাদমাধ্যম ইন্টারফ্যাক্স জানিয়েছে, রাতের বিভিন্ন সময়ে দোমোদেদোভো, ভনুকোভো এবং ঝুকোভস্কি বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল।

পরে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটে বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করা হয়।

মস্কো ও আশপাশের অঞ্চলে এর আগেও বড় ধরনের ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে।

রুশ কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বরে আকাশ প্রতিরক্ষাবাহিনী ১ হাজার ৬০০টির বেশি হামলাকারী ড্রোন ধ্বংস করেছিল।

সেই ঘটনার পর বৃহস্পতিবার আবারও শত শত ড্রোন মস্কোর দিকে এগিয়ে আসার দাবি করল রাশিয়া।

তবে এসব ড্রোনের সংখ্যা ও ভূপাতিত হওয়ার তথ্য মূলত রুশ কর্তৃপক্ষের দেওয়া হিসাবের ওপর নির্ভরশীল।

এদিকে রাশিয়া ও ইউক্রেনের পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যে ইউক্রেনের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর খারকিভেও হামলার ঘটনা ঘটেছে।

শহরটির মেয়র ইহর তেরেখভ জানিয়েছেন, রুশ হামলায় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বার্তায় তিনি এই ক্ষয়ক্ষতির কথা জানান।

ইউক্রেনীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, খারকিভের খোলোদনোহিরস্কি ও সালতিভস্কি এলাকায় ড্রোন হামলার খবর পাওয়া যায়। একটি হামলার স্থানে আগুন লাগার কথাও জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনায় হতাহতের কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা সরবরাহকৃত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

রাশিয়ার রাজধানীমুখী ড্রোন উৎক্ষেপণের দাবি এবং একই রাতে খারকিভে রুশ হামলার খবর ইউক্রেন যুদ্ধের চলমান সামরিক পরিস্থিতির নতুন দুটি ঘটনা।

মস্কো কর্তৃপক্ষ শত শত ড্রোন প্রতিহত করার দাবি করলেও ইউক্রেনের পক্ষ থেকে এই নির্দিষ্ট সংখ্যার বিষয়ে কোনো বক্তব্য সরবরাহকৃত প্রতিবেদনে নেই।

অন্যদিকে খারকিভের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য জানিয়েছেন স্থানীয় মেয়র।

দুই পক্ষের দাবি ও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র জানতে পরবর্তী আনুষ্ঠানিক তথ্যের প্রয়োজন রয়েছে।

সূত্র : আল জাজিরা

ট্যাগ : ইউক্রেন রাশিয়া

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬


মস্কোর দিকে রাতভর ৬১৩ ড্রোন, অধিকাংশ ভূপাতিতের দাবি রাশিয়ার

প্রকাশের তারিখ : ২৯ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর দিকে রাতভর ৬১৩টি ড্রোন পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন শহরটির মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, মস্কোর কাছে পৌঁছানোর আগেই ২৩১টি ড্রোন ধ্বংস করেছে রুশ আকাশ প্রতিরক্ষাবাহিনী। বাকি ড্রোনগুলোর অধিকাংশ দূরবর্তী এলাকাতেই প্রতিহত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।

মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন জানিয়েছেন, বুধবার (২৮ অক্টোবর) স্থানীয় সময় রাত ৮টা ৩০ মিনিট থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা পর্যন্ত মস্কো অঞ্চলের দিকে ৬১৩টি চালকবিহীন আকাশযান বা ড্রোন এগিয়ে আসে।

তাঁর দাবি, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এসব ড্রোন প্রতিহত করতে অভিযান চালায়।

বেশির ভাগ ড্রোন মস্কো থেকে দূরবর্তী এলাকাতেই নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। রাজধানীর কাছাকাছি আসার পর আরও ২৩১টি ড্রোন ধ্বংস করা হয়।

রুশ কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে মস্কো অঞ্চলকে লক্ষ্য করে পরিচালিত বড় ধরনের ড্রোন হামলার ঘটনাগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম।

তবে মোট কতটি ড্রোন নির্দিষ্ট কোন এলাকায় ভূপাতিত হয়েছে এবং কোনো ড্রোন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

ড্রোন তৎপরতার মধ্যে মস্কোর কয়েকটি বিমানবন্দরের কার্যক্রমেও সাময়িক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।

রুশ সংবাদমাধ্যম ইন্টারফ্যাক্স জানিয়েছে, রাতের বিভিন্ন সময়ে দোমোদেদোভো, ভনুকোভো এবং ঝুকোভস্কি বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল।

পরে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটে বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করা হয়।

মস্কো ও আশপাশের অঞ্চলে এর আগেও বড় ধরনের ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে।

রুশ কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বরে আকাশ প্রতিরক্ষাবাহিনী ১ হাজার ৬০০টির বেশি হামলাকারী ড্রোন ধ্বংস করেছিল।

সেই ঘটনার পর বৃহস্পতিবার আবারও শত শত ড্রোন মস্কোর দিকে এগিয়ে আসার দাবি করল রাশিয়া।

তবে এসব ড্রোনের সংখ্যা ও ভূপাতিত হওয়ার তথ্য মূলত রুশ কর্তৃপক্ষের দেওয়া হিসাবের ওপর নির্ভরশীল।

এদিকে রাশিয়া ও ইউক্রেনের পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যে ইউক্রেনের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর খারকিভেও হামলার ঘটনা ঘটেছে।

শহরটির মেয়র ইহর তেরেখভ জানিয়েছেন, রুশ হামলায় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বার্তায় তিনি এই ক্ষয়ক্ষতির কথা জানান।

ইউক্রেনীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, খারকিভের খোলোদনোহিরস্কি ও সালতিভস্কি এলাকায় ড্রোন হামলার খবর পাওয়া যায়। একটি হামলার স্থানে আগুন লাগার কথাও জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনায় হতাহতের কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা সরবরাহকৃত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

রাশিয়ার রাজধানীমুখী ড্রোন উৎক্ষেপণের দাবি এবং একই রাতে খারকিভে রুশ হামলার খবর ইউক্রেন যুদ্ধের চলমান সামরিক পরিস্থিতির নতুন দুটি ঘটনা।

মস্কো কর্তৃপক্ষ শত শত ড্রোন প্রতিহত করার দাবি করলেও ইউক্রেনের পক্ষ থেকে এই নির্দিষ্ট সংখ্যার বিষয়ে কোনো বক্তব্য সরবরাহকৃত প্রতিবেদনে নেই।

অন্যদিকে খারকিভের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য জানিয়েছেন স্থানীয় মেয়র।

দুই পক্ষের দাবি ও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র জানতে পরবর্তী আনুষ্ঠানিক তথ্যের প্রয়োজন রয়েছে।

সূত্র : আল জাজিরা


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ