ঢাকা    শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ ১৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

দুই মাসে অগ্রগতি না হলে ওয়াসার প্রকল্প পরিচালকরা অপসারিত হবেন: প্রতিমন্ত্রী

দুই মাসে অগ্রগতি না হলে ওয়াসার প্রকল্প পরিচালকরা অপসারিত হবেন: প্রতিমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

ঢাকা ওয়াসার চলমান প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়নে আগামী দুই মাসের মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজের গতি না বাড়লে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ কর্মকর্তাদের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ঢাকা ওয়াসা ভবনের সম্মেলনকক্ষে সংস্থাটির সার্বিক কার্যক্রম পর্যালোচনায় আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

দীর্ঘদিন ধরে অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়নে বিলম্ব হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, প্রকল্প অনুমোদনের পর বছরের পর বছর কাজ ঝুলিয়ে রাখা গ্রহণযোগ্য নয়।

ঢাকা ওয়াসার কর্মকর্তাদের উদ্দেশে মীর শাহে আলম জানান, দুই মাস পর তিনি আবার সংস্থাটির কার্যক্রম পর্যালোচনা করবেন।

এই সময়ের মধ্যে চলমান প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন এবং নাগরিক সেবায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখতে চান তিনি।

প্রতিমন্ত্রীর মতে, পানির মতো জরুরি সেবায় দীর্ঘসূত্রতার কারণে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। তাই দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাজের অগ্রগতি নিশ্চিত করতে হবে।

গত সাত মাসে ঢাকা ওয়াসার কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য নতুন উদ্যোগ কিংবা প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি দেখতে পাননি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

পর্যালোচনা সভায় ঢাকা ওয়াসাসহ দেশের অন্যান্য ওয়াসার পরিচালনা বোর্ড নিয়েও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

তিনি জানান, বিদ্যমান আইনে ওয়াসাগুলোতে বোর্ড রাখার বিধান রয়েছে। তবে সরকার প্রয়োজন অনুযায়ী বোর্ড গঠন বা ভেঙে দিতে পারে।

মন্ত্রণালয়ের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে বোর্ডের হস্তক্ষেপে গুরুত্বপূর্ণ জনসেবামূলক কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি করেন মীর শাহে আলম।

এ অবস্থায় আইন সংশোধনের মাধ্যমে দেশের সব ওয়াসা থেকে বোর্ড তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

তবে সিদ্ধান্তের কথা জানানো হলেও আইন সংশোধনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে কিংবা ইতোমধ্যে সব বোর্ড বিলুপ্ত করা হয়েছে—এমন তথ্য দেওয়া হয়নি।

ঢাকার পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নে দাসেরকান্দি স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের সঙ্গে গুলশান, বনানী ও বারিধারা এলাকার পাইপলাইন সংযোগের কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী।

পাশাপাশি পূর্বাচল এলাকায় পানি সরবরাহের নতুন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে বলেন তিনি।

এ জন্য দ্রুত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব বা ডিপিপি প্রস্তুত করে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

ঢাকার ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার সঙ্গে পানির চাহিদা বাড়ার বিষয়টি তুলে ধরেন মীর শাহে আলম।

তিনি জানান, রাজধানীতে বর্তমানে দৈনিক পানির চাহিদা প্রায় ৩১৪ কোটি লিটার। ঢাকা ওয়াসার দৈনিক সরবরাহও একই পরিমাণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তবে জনসংখ্যা ও বাসাবাড়ি বাড়ার কারণে ভবিষ্যতে চাহিদা আরও বাড়বে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, পানির সংকট দেখা দিলে তার দায় সরকারের ওপরই বর্তায়। তাই পরিস্থিতি জটিল হওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

নগরবাসী নিয়মিত বিল পরিশোধ করেও প্রয়োজনীয় পানি না পেলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ঢাকা ওয়াসার পানি সরবরাহে ভূগর্ভস্থ উৎসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী।

তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীতে সরবরাহ করা পানির ৭৪ শতাংশ আসে ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে। বাকি ২৬ শতাংশ সংগ্রহ করা হয় উপরিভাগের পানির উৎস থেকে।

এই নির্ভরতা কমিয়ে ভূগর্ভস্থ পানির অংশ ২০ থেকে ২৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য তুলে ধরেন তিনি।

এ জন্য নদীসহ উপরিভাগের পানিনির্ভর প্রকল্পগুলো দ্রুত শেষ করার তাগিদ দেন মীর শাহে আলম।

ভূগর্ভস্থ পানির অতিরিক্ত উত্তোলনের কারণে সৃষ্ট পরিবেশগত ঝুঁকি ও ভূমিকম্পসংক্রান্ত উদ্বেগের বিষয়টিও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।

ওয়াসার আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, নাগরিক সেবার মান বজায় রেখে সংস্থাটিকে নিজস্ব রাজস্ব আয় বাড়াতে হবে। এতে বিদেশি ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।

নিজস্ব তহবিল থেকে জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নের সক্ষমতা গড়ে তোলার নির্দেশ দেন তিনি।

একই সঙ্গে পানির মিটার রিডিং এবং বিল প্রস্তুতের কাজ আরও বেশি স্বয়ংক্রিয় বা অটোমেশনভিত্তিক করার তাগিদ দেন।

দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ঢাকা ওয়াসার জন্য আধুনিক ও পূর্ণাঙ্গ জনবল কাঠামো তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।

তিনি জানান, ২০৫০ সালের সম্ভাব্য চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে সংস্থাটির নতুন অর্গানোগ্রাম প্রস্তুত করতে হবে।

প্রস্তাবিত জনবল কাঠামো অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়ার নির্দেশও দেন তিনি।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ ও গোপন পানির সংযোগ শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন মীর শাহে আলম।

এসব কার্যক্রমে প্রভাবশালী ব্যক্তি বা রাজনৈতিক পরিচয়ধারী কেউ জড়িত থাকলে তাঁদের বিরুদ্ধেও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে বলেন তিনি।

পাশাপাশি ওয়াসার সিবিএ ও অন্যান্য কর্মচারী সংগঠনকে সতর্ক করে প্রতিমন্ত্রী জানান, রাজনৈতিক বা দলীয় প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষের সেবা ব্যাহত করা যাবে না।

নাগরিকদের পানির অপচয় রোধেও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বিশেষ করে দাঁত ব্রাশ করা বা শেভ করার সময় অপ্রয়োজনে পানির কল খোলা না রাখার বিষয়ে জনসচেতনতামূলক প্রচার চালাতে ওয়াসাকে নির্দেশ দেন।

সভায় প্রতিমন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন, আগামী দুই মাসের মধ্যে সংস্থাটির কার্যক্রমে দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখতে চান তিনি।

পানি সরবরাহের মান উন্নয়ন, প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি বৃদ্ধি এবং নাগরিক ভোগান্তি কমানোই এই সময়ের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মুহা. মনিরুজ্জামান।

এতে ঢাকা ওয়াসার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রকৌশলী সমিতি, ডিপ্লোমা অ্যাসোসিয়েশন ও সিবিএর নেতাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মীরা অংশ নেন।

ট্যাগ : স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ঢাকা ওয়াসা মীর শাহে আলম

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬


দুই মাসে অগ্রগতি না হলে ওয়াসার প্রকল্প পরিচালকরা অপসারিত হবেন: প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ২৯ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ঢাকা ওয়াসার চলমান প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়নে আগামী দুই মাসের মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজের গতি না বাড়লে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ কর্মকর্তাদের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ঢাকা ওয়াসা ভবনের সম্মেলনকক্ষে সংস্থাটির সার্বিক কার্যক্রম পর্যালোচনায় আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

দীর্ঘদিন ধরে অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়নে বিলম্ব হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, প্রকল্প অনুমোদনের পর বছরের পর বছর কাজ ঝুলিয়ে রাখা গ্রহণযোগ্য নয়।

ঢাকা ওয়াসার কর্মকর্তাদের উদ্দেশে মীর শাহে আলম জানান, দুই মাস পর তিনি আবার সংস্থাটির কার্যক্রম পর্যালোচনা করবেন।

এই সময়ের মধ্যে চলমান প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন এবং নাগরিক সেবায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখতে চান তিনি।

প্রতিমন্ত্রীর মতে, পানির মতো জরুরি সেবায় দীর্ঘসূত্রতার কারণে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। তাই দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাজের অগ্রগতি নিশ্চিত করতে হবে।

গত সাত মাসে ঢাকা ওয়াসার কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য নতুন উদ্যোগ কিংবা প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি দেখতে পাননি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

পর্যালোচনা সভায় ঢাকা ওয়াসাসহ দেশের অন্যান্য ওয়াসার পরিচালনা বোর্ড নিয়েও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

তিনি জানান, বিদ্যমান আইনে ওয়াসাগুলোতে বোর্ড রাখার বিধান রয়েছে। তবে সরকার প্রয়োজন অনুযায়ী বোর্ড গঠন বা ভেঙে দিতে পারে।

মন্ত্রণালয়ের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে বোর্ডের হস্তক্ষেপে গুরুত্বপূর্ণ জনসেবামূলক কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি করেন মীর শাহে আলম।

এ অবস্থায় আইন সংশোধনের মাধ্যমে দেশের সব ওয়াসা থেকে বোর্ড তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

তবে সিদ্ধান্তের কথা জানানো হলেও আইন সংশোধনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে কিংবা ইতোমধ্যে সব বোর্ড বিলুপ্ত করা হয়েছে—এমন তথ্য দেওয়া হয়নি।

ঢাকার পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নে দাসেরকান্দি স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের সঙ্গে গুলশান, বনানী ও বারিধারা এলাকার পাইপলাইন সংযোগের কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী।

পাশাপাশি পূর্বাচল এলাকায় পানি সরবরাহের নতুন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে বলেন তিনি।

এ জন্য দ্রুত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব বা ডিপিপি প্রস্তুত করে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

ঢাকার ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার সঙ্গে পানির চাহিদা বাড়ার বিষয়টি তুলে ধরেন মীর শাহে আলম।

তিনি জানান, রাজধানীতে বর্তমানে দৈনিক পানির চাহিদা প্রায় ৩১৪ কোটি লিটার। ঢাকা ওয়াসার দৈনিক সরবরাহও একই পরিমাণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তবে জনসংখ্যা ও বাসাবাড়ি বাড়ার কারণে ভবিষ্যতে চাহিদা আরও বাড়বে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, পানির সংকট দেখা দিলে তার দায় সরকারের ওপরই বর্তায়। তাই পরিস্থিতি জটিল হওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

নগরবাসী নিয়মিত বিল পরিশোধ করেও প্রয়োজনীয় পানি না পেলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ঢাকা ওয়াসার পানি সরবরাহে ভূগর্ভস্থ উৎসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী।

তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীতে সরবরাহ করা পানির ৭৪ শতাংশ আসে ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে। বাকি ২৬ শতাংশ সংগ্রহ করা হয় উপরিভাগের পানির উৎস থেকে।

এই নির্ভরতা কমিয়ে ভূগর্ভস্থ পানির অংশ ২০ থেকে ২৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য তুলে ধরেন তিনি।

এ জন্য নদীসহ উপরিভাগের পানিনির্ভর প্রকল্পগুলো দ্রুত শেষ করার তাগিদ দেন মীর শাহে আলম।

ভূগর্ভস্থ পানির অতিরিক্ত উত্তোলনের কারণে সৃষ্ট পরিবেশগত ঝুঁকি ও ভূমিকম্পসংক্রান্ত উদ্বেগের বিষয়টিও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।

ওয়াসার আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, নাগরিক সেবার মান বজায় রেখে সংস্থাটিকে নিজস্ব রাজস্ব আয় বাড়াতে হবে। এতে বিদেশি ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।

নিজস্ব তহবিল থেকে জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নের সক্ষমতা গড়ে তোলার নির্দেশ দেন তিনি।

একই সঙ্গে পানির মিটার রিডিং এবং বিল প্রস্তুতের কাজ আরও বেশি স্বয়ংক্রিয় বা অটোমেশনভিত্তিক করার তাগিদ দেন।

দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ঢাকা ওয়াসার জন্য আধুনিক ও পূর্ণাঙ্গ জনবল কাঠামো তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।

তিনি জানান, ২০৫০ সালের সম্ভাব্য চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে সংস্থাটির নতুন অর্গানোগ্রাম প্রস্তুত করতে হবে।

প্রস্তাবিত জনবল কাঠামো অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়ার নির্দেশও দেন তিনি।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ ও গোপন পানির সংযোগ শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন মীর শাহে আলম।

এসব কার্যক্রমে প্রভাবশালী ব্যক্তি বা রাজনৈতিক পরিচয়ধারী কেউ জড়িত থাকলে তাঁদের বিরুদ্ধেও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে বলেন তিনি।

পাশাপাশি ওয়াসার সিবিএ ও অন্যান্য কর্মচারী সংগঠনকে সতর্ক করে প্রতিমন্ত্রী জানান, রাজনৈতিক বা দলীয় প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষের সেবা ব্যাহত করা যাবে না।

নাগরিকদের পানির অপচয় রোধেও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বিশেষ করে দাঁত ব্রাশ করা বা শেভ করার সময় অপ্রয়োজনে পানির কল খোলা না রাখার বিষয়ে জনসচেতনতামূলক প্রচার চালাতে ওয়াসাকে নির্দেশ দেন।

সভায় প্রতিমন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন, আগামী দুই মাসের মধ্যে সংস্থাটির কার্যক্রমে দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখতে চান তিনি।

পানি সরবরাহের মান উন্নয়ন, প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি বৃদ্ধি এবং নাগরিক ভোগান্তি কমানোই এই সময়ের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মুহা. মনিরুজ্জামান।

এতে ঢাকা ওয়াসার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রকৌশলী সমিতি, ডিপ্লোমা অ্যাসোসিয়েশন ও সিবিএর নেতাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মীরা অংশ নেন।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ