যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার অসুস্থ ও আহত শিশুদের চিকিৎসার জন্য ১ লাখ পাউন্ডের বেশি অর্থ সংগ্রহের কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের তারকা হামজা দেওয়ান চৌধুরী। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকার বেশি। সংগৃহীত অর্থ গাজার যেসব শিশুকে জরুরি চিকিৎসার জন্য অন্যত্র স্থানান্তর করা প্রয়োজন, তাদের সহায়তায় ব্যয় করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) নিজের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ ও ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে দেওয়া পোস্টে এই উদ্যোগের বিস্তারিত তুলে ধরেন হামজা। একই সঙ্গে আয়োজন সফল করতে সহযোগিতা করা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
হামজা জানান, গাজার শিশুদের জন্য আয়োজিত তহবিল সংগ্রহ কার্যক্রমে প্রত্যাশিত সাড়া পাওয়া গেছে।
নিজের পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আমরা গাজার শিশুদের জন্য ১০০০০০ পাউন্ডেরও বেশি অর্থ সংগ্রহ করতে পেরেছি। যারা এই আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন, অনুদান দিয়েছেন, সমর্থন জুগিয়েছেন এবং এই আয়োজনকে সফল করতে অবদান রেখেছেন, তাদের সবাইকে জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ।’
সংগৃহীত অর্থ ব্যবহার করা হবে ‘চিলড্রেন নট নাম্বারস’ নামের একটি মানবিক সহায়তা সংস্থার কার্যক্রমে।
সংস্থাটি গাজার গুরুতর অসুস্থ ও আহত শিশুদের চিকিৎসাসেবা পেতে সহায়তা করে। যেসব শিশুর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গাজায় সম্ভব হচ্ছে না, তাদের অন্য দেশে বা নিরাপদ চিকিৎসাকেন্দ্রে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করাও প্রতিষ্ঠানটির কাজের অংশ।
হামজা জানিয়েছেন, তহবিলে সংগৃহীত পুরো অর্থ জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন থাকা শিশুদের মেডিকেল ইভাকুয়েশন বা চিকিৎসার উদ্দেশ্যে স্থানান্তরের কাজে ব্যয় করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে হামজার সঙ্গে কাজ করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংস্থা নুজুম স্পোর্টস।
সংগঠনটি যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশের মুসলিম ক্রীড়াবিদদের মানসিক স্বাস্থ্য, ধর্মীয় অনুশাসন পালন এবং পেশাগত পরিবেশে তাঁদের অধিকার রক্ষার বিষয়ে কাজ করে।
ব্রিটিশ ফুটবলের বিভিন্ন ক্লাবে মুসলিম খেলোয়াড়দের ধর্মীয় ও ব্যক্তিগত চাহিদা বিবেচনায় নেওয়ার উদ্দেশ্যে তৈরি ‘মুসলিম অ্যাথলেট চার্টার’-এর জন্যও প্রতিষ্ঠানটি পরিচিত।
হামজা বিভিন্ন দাতব্য কার্যক্রমে এই সংস্থার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।
গাজার শিশুদের জন্য তহবিল সংগ্রহের আয়োজনটি বাস্তবে রূপ দিতে সময় ও শ্রম দেওয়ায় নুজুম স্পোর্টসকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।
গাজার শিশুদের জন্য এই তহবিল সংগ্রহের আয়োজন অনুষ্ঠিত হয় যুক্তরাজ্যের পূর্ব লন্ডনে।
নুজুম স্পোর্টসের সহযোগিতায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে হামজার সঙ্গে আলোচনা পর্বের পাশাপাশি দাতব্য নিলামেরও ব্যবস্থা ছিল।
নিলামে ক্রীড়াবিদদের স্বাক্ষরিত জার্সি, পদক ও বিভিন্ন স্মারক সামগ্রী রাখা হয়। হামজার ব্যক্তিগত ফুটবল ক্যারিয়ারের স্মারকও এতে অন্তর্ভুক্ত ছিল।
আয়োজনে অংশ নেওয়া ব্যক্তি ও দাতাদের সহযোগিতায় অল্প সময়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অর্থ সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে।
তহবিল সংগ্রহের সাফল্যে সন্তুষ্ট হলেও গাজার মানুষের চলমান দুর্ভোগের তুলনায় এই সহায়তা সীমিত বলে মনে করেন হামজা।
তিনি জানান, মানুষের বিপুল কষ্ট লাঘবে আরও অনেক কাজ করার প্রয়োজন রয়েছে। ছোট ছোট উদ্যোগও পরিবর্তন আনতে পারে বলে বিশ্বাস করেন তিনি।
পোস্টের শেষাংশে নিজেদের প্রচেষ্টা কবুল করার জন্য মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন হামজা। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনের মানুষের কষ্ট লাঘব, শক্তি, ধৈর্য ও স্থায়ী শান্তি কামনা করেন।
গাজার শিশুদের চিকিৎসায় পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগের মধ্য দিয়ে ফুটবল মাঠের বাইরেও মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে নিজের সম্পৃক্ততার কথা তুলে ধরলেন বাংলাদেশি এই ফুটবলার।
মন্তব্যসমূহ