অপরাধ দমন, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) পরিচালিত ধারাবাহিক অভিযানে ১৪ লাখ ৮৪ হাজার পিস ইয়াবা, ক্রিস্টাল মেথ (আইস), অবৈধ অস্ত্র, স্বর্ণসহ বিপুল পরিমাণ চোরাচালানি পণ্য উদ্ধার করা হয়েছে। ১১ থেকে ২৪ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত পরিচালিত এসব অভিযানে উদ্ধার করা অস্ত্র, মাদক ও বিভিন্ন চোরাচালানি পণ্যের আনুমানিক মূল্য ১৩১ কোটি ২৩ লাখ টাকা। এ সময় ৭৩ জনকে গ্রেপ্তার এবং ৬০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
উদ্ধার অস্ত্র, মাদক ও চোরাচালানি পণ্য
বিজিবির অভিযানে একটি এসএমজি, দুটি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন ও ১১৩ রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া ১৪ লাখ ৮৪ হাজার পিস ইয়াবা, ৭ দশমিক ০৯৭ কেজি ক্রিস্টাল মেথ (আইস), ১ দশমিক ৩১৮ কেজি স্বর্ণ এবং কষ্টিপাথরের দুটি মূর্তি উদ্ধার করা হয়েছে।
একই সময়ে সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ৭৯৫ কেজি রাসায়নিক ও জৈব সার উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা এসব সারের আনুমানিক মূল্য ৫৪ হাজার ৩০০ টাকা।
সীমান্তে পুশইন ও অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে চুয়াডাঙ্গা, পঞ্চগড়, মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, লালমনিরহাট, মৌলভীবাজার, ফেনী ও সিলেট সীমান্তের ১২টি পয়েন্টে পুশইনের ১২টি প্রচেষ্টা প্রতিহত করেছে বিজিবি। এসব ঘটনায় মোট ৯০ জনকে পুশইনের প্রচেষ্টা প্রতিহত করা হয়।
অন্যদিকে, মিয়ানমার সীমান্তের সাতটি পয়েন্টে সাতটি ঘটনায় ১০৭ জনের অনুপ্রবেশের প্রচেষ্টা ব্যর্থ করা হয়েছে। একই সময়ে ১৫ জন বাংলাদেশি নাগরিকের প্রত্যাবাসন সম্পন্ন হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও নিরাপত্তায় বিজিবি মোতায়েন
দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সময়ে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ৭৮ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন ছিল।
প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে চট্টগ্রামে দুই, রাজশাহীতে পাঁচ ও রংপুরে তিন প্লাটুনসহ মোট ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়। এ ছাড়া শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ৪৪৫ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়।
সীমান্তে মাদক, অবৈধ অস্ত্র, মানবপাচার ও চোরাচালান প্রতিরোধে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত রেখেছে বিজিবি। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার ও দেশের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্যসমূহ