যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত তেলের মজুত চার দশকের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। তবে সরবরাহ সংকুচিত হলেও আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশটির কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুত থেকে আরও ৫৫ লাখ ব্যারেল তেল ছাড়ার পর মোট মজুত কমে ৩২ কোটি ৫৭ লাখ ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে। এটি ১৯৮৩ সালের মে মাসের পর সর্বনিম্ন।
ইরান যুদ্ধের পর বৈশ্বিক সরবরাহ ঘাটতি মোকাবিলা এবং জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগত মজুত থেকে মোট ১৭ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেল ছাড়ার পরিকল্পনা নিয়েছে। এর অংশ হিসেবেই জরুরি মজুত দ্রুত কমছে।
শুধু কৌশলগত মজুত নয়, শক্তিশালী রপ্তানি ও শোধনাগারগুলোর উচ্চ চাহিদার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক অপরিশোধিত তেলের মজুতও সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কমেছে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে সংঘাত শুরুর পর থেকে বাণিজ্যিক ও কৌশলগত মজুত মিলিয়ে দেশটির মোট তেল মজুত ১১ কোটি ১৪ লাখ ব্যারেল কমে ৭৪ কোটি ৩৩ লাখ ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে। এটি ১৯৮৪ সালের পর সর্বনিম্ন।
তবে সরবরাহ কমলেও তেলের দামে উল্টো প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আরও কমেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্ভাব্য আলোচনাকে ঘিরে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্ক আশাবাদ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে তেলের দামে।
আগস্ট সরবরাহের ব্রেন্ট ক্রুডের দাম কমে ব্যারেলপ্রতি ৭২ দশমিক ৫১ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭০ দশমিক ৩৬ ডলারে নেমেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, তেলের দাম কমার বড় কারণ হলো ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা কমার প্রত্যাশা। দোহায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্ভাব্য কারিগরি যোগাযোগ এবং হরমুজ প্রণালিতে তেল পরিবহন স্বাভাবিক হওয়ার আশাবাদ বাজারে প্রভাব ফেলছে।
বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, বিনিয়োগকারীরা এখনো পুরোপুরি স্বস্তিতে ফেরেননি। তবে উত্তেজনা কমার বাস্তব ইঙ্গিতের অপেক্ষায় আছেন তারা।
এদিকে ইরান জানিয়েছে, ওমানের সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের পথ পুনর্নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা শুরু হবে। তবে তেহরান একই সঙ্গে বলেছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক বৈঠকের পরিকল্পনা নেই।
অন্যদিকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় অপরিশোধিত তেল আমদানিকারক দেশ চীনের দুর্বল চাহিদা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। দেশটির আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ার স্পষ্ট লক্ষণ না থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা ও সাম্প্রতিক জাহাজে হামলার পরও তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানি অব্যাহত রেখেছে উৎপাদক দেশগুলো। গত সপ্তাহে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল যুদ্ধ শুরুর পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে বাজার সূত্রগুলো জানিয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
মন্তব্যসমূহ