ঢাকা    বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ ১৭ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

তুরস্কের শেয়ারবাজারে বড় কেলেঙ্কারি, ঝুঁকিতে সাড়ে ৪ লাখ বিনিয়োগকারী

তুরস্কের শেয়ারবাজারে বড় কেলেঙ্কারি, ঝুঁকিতে সাড়ে ৪ লাখ বিনিয়োগকারী
ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

তুরস্কের পুঁজিবাজারে বড় ধরনের বিনিয়োগ তহবিল সংকট দেখা দিয়েছে। দেশটির নিয়ন্ত্রক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ১৩১টি বিনিয়োগ তহবিলে থাকা ৪ লাখ ৫৫ হাজার ৭৫৮ জন বিনিয়োগকারী এ সংকটের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন। এসব তহবিলের মোট সম্পদের মূল্য বিভিন্ন প্রতিবেদনে ১৭ থেকে ১৮ বিলিয়ন ডলার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

তহবিলগুলোর মূল্যায়নে কারসাজি এবং তারল্য সংকটের অভিযোগের পর তুরস্কের পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা ক্যাপিটাল মার্কেটস বোর্ড (এসপিকে) ১৩১টি তহবিল অবসানের সিদ্ধান্ত নেয়। এর আগে কয়েকটি তহবিল বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার চাপে পড়লে বাজারে ব্যাপক বিক্রির চাপ তৈরি হয়। এতে তুরস্কের শেয়ারবাজারে বড় ধরনের দরপতন দেখা দেয়।

তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, কিছু তহবিল তুলনামূলক কম লেনদেন হওয়া শেয়ারের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে নিজেদের বিনিয়োগের মূল্য বেশি দেখিয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ধরনের কারসাজির মাধ্যমে তহবিলের পারফরম্যান্স আকর্ষণীয় করে বিনিয়োগকারীদের অর্থ আকৃষ্ট করা হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্তের অংশ।

সংকটের পর সংশ্লিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও তহবিল ব্যবস্থাপকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তুরস্কের কর্তৃপক্ষের তদন্তে একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এদিকে ক্ষমতাসীন একে পার্টির উপপ্রধান ও সাবেক পরিবারমন্ত্রী ফাতমা বেতুল সায়ান কায়া শেয়ার লেনদেন নিয়ে ওঠা অভিযোগের পর দলীয় পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। বিরোধী দলের এক নেতা অভিযোগ করেন, বাজারে বড় ধরনের দরপতনের আগে কায়া ও তার স্বামী নির্দিষ্ট কিছু শেয়ারে বড় অঙ্কের লেনদেন করে উল্লেখযোগ্য মুনাফা করেছেন। কায়া অভিযোগের বিষয়ে সরাসরি স্বীকারোক্তি দেননি; তদন্তের সুযোগ করে দিতে তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তুরস্কের পুঁজিবাজারে নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা ও তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে দেশটির অর্থমন্ত্রী মেহমেত শিমশেক বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত তহবিলগুলো ধাপে ধাপে অবসানের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরতের প্রক্রিয়া পরিচালনা করছে।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানও অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। সরকার সংকট মোকাবিলায় বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা এবং আর্থিক বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেছে।

কর্তৃপক্ষের নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট তহবিলগুলোর অবসান প্রক্রিয়া কয়েক মাস সময় নিতে পারে। বিনিয়োগকারীরা তাদের অংশের সম্পদ বিক্রি ও হিসাব নিষ্পত্তির পর অর্থ ফেরত পাওয়ার কথা রয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত কত অর্থ উদ্ধার করা সম্ভব হবে, তা অবসান প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই স্পষ্ট হবে।

ট্যাগ : তুরস্ক পুঁজিবাজার শেয়ারবাজার

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

বাংলা ভিউজ

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


তুরস্কের শেয়ারবাজারে বড় কেলেঙ্কারি, ঝুঁকিতে সাড়ে ৪ লাখ বিনিয়োগকারী

প্রকাশের তারিখ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

তুরস্কের পুঁজিবাজারে বড় ধরনের বিনিয়োগ তহবিল সংকট দেখা দিয়েছে। দেশটির নিয়ন্ত্রক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ১৩১টি বিনিয়োগ তহবিলে থাকা ৪ লাখ ৫৫ হাজার ৭৫৮ জন বিনিয়োগকারী এ সংকটের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন। এসব তহবিলের মোট সম্পদের মূল্য বিভিন্ন প্রতিবেদনে ১৭ থেকে ১৮ বিলিয়ন ডলার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

তহবিলগুলোর মূল্যায়নে কারসাজি এবং তারল্য সংকটের অভিযোগের পর তুরস্কের পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা ক্যাপিটাল মার্কেটস বোর্ড (এসপিকে) ১৩১টি তহবিল অবসানের সিদ্ধান্ত নেয়। এর আগে কয়েকটি তহবিল বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার চাপে পড়লে বাজারে ব্যাপক বিক্রির চাপ তৈরি হয়। এতে তুরস্কের শেয়ারবাজারে বড় ধরনের দরপতন দেখা দেয়।

তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, কিছু তহবিল তুলনামূলক কম লেনদেন হওয়া শেয়ারের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে নিজেদের বিনিয়োগের মূল্য বেশি দেখিয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ধরনের কারসাজির মাধ্যমে তহবিলের পারফরম্যান্স আকর্ষণীয় করে বিনিয়োগকারীদের অর্থ আকৃষ্ট করা হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্তের অংশ।

সংকটের পর সংশ্লিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও তহবিল ব্যবস্থাপকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তুরস্কের কর্তৃপক্ষের তদন্তে একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এদিকে ক্ষমতাসীন একে পার্টির উপপ্রধান ও সাবেক পরিবারমন্ত্রী ফাতমা বেতুল সায়ান কায়া শেয়ার লেনদেন নিয়ে ওঠা অভিযোগের পর দলীয় পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। বিরোধী দলের এক নেতা অভিযোগ করেন, বাজারে বড় ধরনের দরপতনের আগে কায়া ও তার স্বামী নির্দিষ্ট কিছু শেয়ারে বড় অঙ্কের লেনদেন করে উল্লেখযোগ্য মুনাফা করেছেন। কায়া অভিযোগের বিষয়ে সরাসরি স্বীকারোক্তি দেননি; তদন্তের সুযোগ করে দিতে তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তুরস্কের পুঁজিবাজারে নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা ও তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে দেশটির অর্থমন্ত্রী মেহমেত শিমশেক বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত তহবিলগুলো ধাপে ধাপে অবসানের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরতের প্রক্রিয়া পরিচালনা করছে।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানও অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। সরকার সংকট মোকাবিলায় বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা এবং আর্থিক বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেছে।

কর্তৃপক্ষের নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট তহবিলগুলোর অবসান প্রক্রিয়া কয়েক মাস সময় নিতে পারে। বিনিয়োগকারীরা তাদের অংশের সম্পদ বিক্রি ও হিসাব নিষ্পত্তির পর অর্থ ফেরত পাওয়ার কথা রয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত কত অর্থ উদ্ধার করা সম্ভব হবে, তা অবসান প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই স্পষ্ট হবে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ