গ্রুপ পর্বে দাপুটে পারফরম্যান্সের পর এবার বিশ্বকাপের নকআউট মিশনে নামছে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স। শেষ বত্রিশের লড়াইয়ে দিদিয়ের দেশমের দলের প্রতিপক্ষ ইউরোপের আরেক দল সুইডেন।
বাংলাদেশ সময় রাত ৩টায় নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে। কাগজে-কলমে শক্তিমত্তা, অভিজ্ঞতা ও সাম্প্রতিক ফর্মে ফ্রান্স পরিষ্কার ফেভারিট। তবে নকআউট ম্যাচের অনিশ্চয়তা এবং সুইডেনের আক্রমণভাগের সামর্থ্য লড়াইটিকে রোমাঞ্চকর করে তুলতে পারে।
গ্রুপ পর্বে অসাধারণ ছন্দে ছিল ফ্রান্স। প্রথম ম্যাচে সেনেগালকে ৩-১ গোলে হারানোর পর ইরাককে ৩-০ এবং শেষ ম্যাচে নরওয়েকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দেয় তারা। তিন ম্যাচে ফরাসিরা করেছে ১০ গোল, হজম করেছে মাত্র ২টি।
ফরাসি আক্রমণভাগের সবচেয়ে বড় ভরসা অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। গ্রুপ পর্বের প্রতিটি ম্যাচেই গোল পেয়েছেন তিনি। নরওয়ের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করা উসমান দেম্বেলেও রয়েছেন দুর্দান্ত ছন্দে। তাদের সঙ্গে মাইকেল অলিসে ও ডেজায়ার দুয়ের গতি সুইডেনের রক্ষণকে কঠিন পরীক্ষায় ফেলতে পারে।
অন্যদিকে সুইডেনের নকআউটে ওঠার পথ ছিল নাটকীয়। তিউনিসিয়ার বিপক্ষে জয় দিয়ে শুরু করলেও নেদারল্যান্ডসের কাছে ৫-১ গোলের বড় ব্যবধানে হারে তারা। শেষ ম্যাচে জাপানের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে সেরা তৃতীয় দলগুলোর একটি হিসেবে শেষ বত্রিশে জায়গা করে নেয় সুইডেন।
তিন ম্যাচে ৭ গোল করলেও সমান ৭ গোল হজম করেছে সুইডেন। এই নড়বড়ে রক্ষণই কোচ গ্রাহাম পটারের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা। জাপানের বিপক্ষে ডিফেন্ডার ইসাক হিয়েন চোট পাওয়ায় রক্ষণ আরও দুর্বল হয়ে পড়েছে।
তবে সুইডেনের ভরসা আক্রমণে। অ্যালেকজান্ডার ইসাক, ভিক্টর গিয়োকেরেস ও অ্যান্থনি এলাঙ্গা ফরাসি রক্ষণে চাপ তৈরি করতে পারেন। সুইডেন কোচ গ্রাহাম পটার বলেছেন, ফ্রান্সের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে জিততে হলে তাদের প্রায় নিখুঁত পারফরম্যান্স করতে হবে।
ফ্রান্স শিবিরে বড় স্বস্তির খবর, পিঠের সামান্য চোট কাটিয়ে একাদশে ফিরতে পারেন উইলিয়াম সালিবা। রক্ষণে তার সঙ্গে থাকতে পারেন দায়ো উপামেকানো। মাঝমাঠে অহিলিয়েন চুয়ামেনি ও আদ্রিয়েন রাবিওতের জুটি ফ্রান্সকে ভারসাম্য দেবে।
ফ্রান্স কোচ দিদিয়ের দেশম বলেছেন, তার দল আক্রমণাত্মক মনোভাব ধরে রাখতে চায়। তিনি সুইডেনের শারীরিক শক্তি ও আক্রমণভাগের সামর্থ্যের প্রশংসা করলেও নিজের দলের বিপজ্জনক আক্রমণভাগের ওপর আস্থা রাখছেন।
পরিসংখ্যানেও এগিয়ে ফ্রান্স। দুই দলের সাম্প্রতিক লড়াইয়ে ফরাসিদের দাপট বেশি। তবে নকআউটে এক মুহূর্তের ভুলই ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারে। তাই ফ্রান্স ফেভারিট হলেও সুইডেনকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।
সব হিসাব মিলিয়ে আজকের ম্যাচে ফ্রান্সের আক্রমণভাগের সঙ্গে সুইডেনের প্রতিরোধের লড়াই দেখার অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব। জয়ী দল শেষ ষোলোতে প্যারাগুয়ের মুখোমুখি হবে।
সূত্র: রয়টার্স
মন্তব্যসমূহ