ঢাকা    সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

লিভারপুলে ছন্দে ফিরেছেন ইসাক, সাত ম্যাচে ছয় গোল

লিভারপুলে ছন্দে ফিরেছেন ইসাক, সাত ম্যাচে ছয় গোল
ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

চোট আর ফিটনেস সমস্যায় লিভারপুলে প্রথম মৌসুমটা প্রত্যাশামতো কাটেনি আলেক্সান্ডার ইসাকের। তবে সেই হতাশা পেছনে ফেলে নতুন মৌসুমে গোলের ধারায় ফিরেছেন সুইডিশ এই স্ট্রাইকার। প্রিমিয়ার লিগে টানা কয়েকটি ম্যাচে গোল করে আবারও আলোচনায় উঠে এসেছেন তিনি।

২০২৬-২৭ মৌসুমে প্রথম সাত লিগ ম্যাচে ছয় গোল করেছেন ২৭ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। নিউক্যাসল ইউনাইটেডে থাকাকালে যে গোল করার দক্ষতায় নজর কেড়েছিলেন, লিভারপুলের জার্সিতেও সেই সামর্থ্যের পরিচয় দিতে শুরু করেছেন ইসাক।

এবারের মৌসুমে নটিংহাম ফরেস্টের বিপক্ষে প্রথম গোলের দেখা পান ইসাক। এরপর ইপসউইচ টাউনের বিপক্ষে করেন জোড়া গোল।

বোর্নমাউথ, ব্রেন্টফোর্ড ও ব্রাইটনের বিপক্ষেও একটি করে গোল করেন তিনি।

এই পাঁচ ম্যাচে ছয় গোলের সুবাদে প্রথম সাত লিগ ম্যাচ শেষে তাঁর গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ছয়টিতে।

গত মৌসুমের তুলনায় গোল করার ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন এসেছে ইসাকের পারফরম্যান্সে।

২০২৫ সালে নিউক্যাসল ছেড়ে লিভারপুলে যোগ দেন ইসাক। তবে নতুন ক্লাবে শুরু থেকেই ছন্দ খুঁজে পেতে সমস্যায় পড়েন তিনি।

ফিটনেসের ঘাটতির পাশাপাশি চোট তাঁর মাঠে থাকার সময়ও কমিয়ে দেয়।

২০২৫ সালের ডিসেম্বরে টটেনহাম হটস্পারের বিপক্ষে ম্যাচে গোল করার সময় চোট পান ইসাক। পরে পরীক্ষায় তাঁর পায়ের ফিবুলা হাড়ে ফাটল ধরা পড়ে। অস্ত্রোপচারের পর দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকতে হয় তাঁকে।

ফলে ২০২৫-২৬ মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে ১৪ ম্যাচ খেলে মাত্র তিন গোল করতে পেরেছিলেন তিনি।

লিভারপুলে যোগ দেওয়ার আগে নিউক্যাসল ইউনাইটেডের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আক্রমণভাগের খেলোয়াড় ছিলেন ইসাক।

২০২৩-২৪ মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে ৩০ ম্যাচে ২১ গোল করেছিলেন এই সুইডিশ ফরোয়ার্ড।

তাঁর ধারাবাহিক পারফরম্যান্স নজর কেড়েছিল আর্সেনালেরও। তবে ২০২৫ সালে ইসাককে ঘিরে লিভারপুল ও নিউক্যাসলের আলোচনা চলার সময় তাঁকে দলে নেওয়ার প্রতিযোগিতায় নামেনি লন্ডনের ক্লাবটি।

একজন খেলোয়াড়ের পেছনে বড় অঙ্ক ব্যয় করার পরিবর্তে একাধিক পজিশনে দল শক্তিশালী করার পথ বেছে নেয় আর্সেনাল।

লিভারপুল কোচ আন্দোনি ইরাওলা ইসাকের গোল করার সামর্থ্য সম্পর্কে ইতিবাচক হলেও একজন স্ট্রাইকারের দায়িত্বকে কেবল গোল করার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চান না।

আক্রমণ তৈরিতে অংশ নেওয়া, সতীর্থদের সঙ্গে সমন্বয় এবং দলের সম্মিলিত খেলায় অবদান রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।

নিউক্যাসলে থাকাকালে আক্রমণের বিভিন্ন পর্যায়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতেন ইসাক। লিভারপুলেও সেই পর্যায়ে পৌঁছানোর প্রত্যাশা রয়েছে তাঁকে ঘিরে।

তাই গোলসংখ্যা বাড়লেও দলের সামগ্রিক খেলায় আরও প্রভাব রাখার সুযোগ রয়েছে সুইডিশ ফরোয়ার্ডের।

অন্যদিকে আর্সেনালের আক্রমণভাগে ভিক্টর গিওকেরেসের পারফরম্যান্স নিয়েও আলোচনা চলছে।

নতুন এই স্ট্রাইকার গোলের সুযোগ কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে এখনো প্রত্যাশিত ধারাবাহিকতা দেখাতে পারেননি বলে সমালোচনা রয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে ইসাকের গোল করার দক্ষতা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। আর্সেনাল তাঁকে দলে নিলে আক্রমণভাগে কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারত, তা নিয়েও তুলনা হচ্ছে।

তবে দুই খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্স ও ক্লাবের দলবদল-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তকে সরাসরি এক করে দেখার সুযোগ নেই।

লিভারপুলে প্রথম মৌসুমে চোটের কারণে নিজের সামর্থ্য পুরোপুরি দেখাতে পারেননি ইসাক। এবার শুরুতেই গোলের ধারায় ফিরে সেই হতাশা কাটানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন।

সাত ম্যাচে ছয় গোল তাঁর প্রত্যাবর্তনের বড় প্রমাণ। এখন পুরো মৌসুমে এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখা এবং দলের আক্রমণভাগে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখাই তাঁর সামনে চ্যালেঞ্জ।

ট্যাগ : লিভারপুল আলেক্সান্ডার ইসাক

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬


লিভারপুলে ছন্দে ফিরেছেন ইসাক, সাত ম্যাচে ছয় গোল

প্রকাশের তারিখ : ০২ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

চোট আর ফিটনেস সমস্যায় লিভারপুলে প্রথম মৌসুমটা প্রত্যাশামতো কাটেনি আলেক্সান্ডার ইসাকের। তবে সেই হতাশা পেছনে ফেলে নতুন মৌসুমে গোলের ধারায় ফিরেছেন সুইডিশ এই স্ট্রাইকার। প্রিমিয়ার লিগে টানা কয়েকটি ম্যাচে গোল করে আবারও আলোচনায় উঠে এসেছেন তিনি।

২০২৬-২৭ মৌসুমে প্রথম সাত লিগ ম্যাচে ছয় গোল করেছেন ২৭ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। নিউক্যাসল ইউনাইটেডে থাকাকালে যে গোল করার দক্ষতায় নজর কেড়েছিলেন, লিভারপুলের জার্সিতেও সেই সামর্থ্যের পরিচয় দিতে শুরু করেছেন ইসাক।

এবারের মৌসুমে নটিংহাম ফরেস্টের বিপক্ষে প্রথম গোলের দেখা পান ইসাক। এরপর ইপসউইচ টাউনের বিপক্ষে করেন জোড়া গোল।

বোর্নমাউথ, ব্রেন্টফোর্ড ও ব্রাইটনের বিপক্ষেও একটি করে গোল করেন তিনি।

এই পাঁচ ম্যাচে ছয় গোলের সুবাদে প্রথম সাত লিগ ম্যাচ শেষে তাঁর গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ছয়টিতে।

গত মৌসুমের তুলনায় গোল করার ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন এসেছে ইসাকের পারফরম্যান্সে।

২০২৫ সালে নিউক্যাসল ছেড়ে লিভারপুলে যোগ দেন ইসাক। তবে নতুন ক্লাবে শুরু থেকেই ছন্দ খুঁজে পেতে সমস্যায় পড়েন তিনি।

ফিটনেসের ঘাটতির পাশাপাশি চোট তাঁর মাঠে থাকার সময়ও কমিয়ে দেয়।

২০২৫ সালের ডিসেম্বরে টটেনহাম হটস্পারের বিপক্ষে ম্যাচে গোল করার সময় চোট পান ইসাক। পরে পরীক্ষায় তাঁর পায়ের ফিবুলা হাড়ে ফাটল ধরা পড়ে। অস্ত্রোপচারের পর দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকতে হয় তাঁকে।

ফলে ২০২৫-২৬ মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে ১৪ ম্যাচ খেলে মাত্র তিন গোল করতে পেরেছিলেন তিনি।

লিভারপুলে যোগ দেওয়ার আগে নিউক্যাসল ইউনাইটেডের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আক্রমণভাগের খেলোয়াড় ছিলেন ইসাক।

২০২৩-২৪ মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে ৩০ ম্যাচে ২১ গোল করেছিলেন এই সুইডিশ ফরোয়ার্ড।

তাঁর ধারাবাহিক পারফরম্যান্স নজর কেড়েছিল আর্সেনালেরও। তবে ২০২৫ সালে ইসাককে ঘিরে লিভারপুল ও নিউক্যাসলের আলোচনা চলার সময় তাঁকে দলে নেওয়ার প্রতিযোগিতায় নামেনি লন্ডনের ক্লাবটি।

একজন খেলোয়াড়ের পেছনে বড় অঙ্ক ব্যয় করার পরিবর্তে একাধিক পজিশনে দল শক্তিশালী করার পথ বেছে নেয় আর্সেনাল।

লিভারপুল কোচ আন্দোনি ইরাওলা ইসাকের গোল করার সামর্থ্য সম্পর্কে ইতিবাচক হলেও একজন স্ট্রাইকারের দায়িত্বকে কেবল গোল করার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চান না।

আক্রমণ তৈরিতে অংশ নেওয়া, সতীর্থদের সঙ্গে সমন্বয় এবং দলের সম্মিলিত খেলায় অবদান রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।

নিউক্যাসলে থাকাকালে আক্রমণের বিভিন্ন পর্যায়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতেন ইসাক। লিভারপুলেও সেই পর্যায়ে পৌঁছানোর প্রত্যাশা রয়েছে তাঁকে ঘিরে।

তাই গোলসংখ্যা বাড়লেও দলের সামগ্রিক খেলায় আরও প্রভাব রাখার সুযোগ রয়েছে সুইডিশ ফরোয়ার্ডের।

অন্যদিকে আর্সেনালের আক্রমণভাগে ভিক্টর গিওকেরেসের পারফরম্যান্স নিয়েও আলোচনা চলছে।

নতুন এই স্ট্রাইকার গোলের সুযোগ কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে এখনো প্রত্যাশিত ধারাবাহিকতা দেখাতে পারেননি বলে সমালোচনা রয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে ইসাকের গোল করার দক্ষতা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। আর্সেনাল তাঁকে দলে নিলে আক্রমণভাগে কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারত, তা নিয়েও তুলনা হচ্ছে।

তবে দুই খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্স ও ক্লাবের দলবদল-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তকে সরাসরি এক করে দেখার সুযোগ নেই।

লিভারপুলে প্রথম মৌসুমে চোটের কারণে নিজের সামর্থ্য পুরোপুরি দেখাতে পারেননি ইসাক। এবার শুরুতেই গোলের ধারায় ফিরে সেই হতাশা কাটানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন।

সাত ম্যাচে ছয় গোল তাঁর প্রত্যাবর্তনের বড় প্রমাণ। এখন পুরো মৌসুমে এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখা এবং দলের আক্রমণভাগে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখাই তাঁর সামনে চ্যালেঞ্জ।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ