ছেলে জুড বেলিংহাম রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে গোল করে আলোচনায় থাকেন নিয়মিত। এবার ফুটবল মাঠে চমক দেখালেন তাঁর বাবা মার্ক বেলিংহাম। ৫০ বছর বয়সে ইংল্যান্ডের প্রবীণ ফুটবল দলে অভিষেক ম্যাচেই সাত গোল করে নজর কেড়েছেন তিনি। তাঁর অসাধারণ পারফরম্যান্সে রিপাবলিক অব আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ১৩-১ গোলের বড় জয় পেয়েছে ইংল্যান্ড।
গত শনিবার (৩১ অক্টোবর) ইংল্যান্ডের কেমব্রিজশায়ারে প্রবীণদের ফুটবল ম্যাচে মুখোমুখি হয় ইংল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ড।
ইংল্যান্ডের ৫০ বছরের বেশি বয়সীদের দলে প্রথমবার সুযোগ পেয়েই আক্রমণভাগে খেলতে নামেন মার্ক। আর অভিষেক ম্যাচটিকে স্মরণীয় করে রাখেন দুর্দান্ত গোল করার দক্ষতায়।
ম্যাচের শুরু থেকেই আয়ারল্যান্ডের রক্ষণভাগের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে ওঠেন মার্ক বেলিংহাম।
প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই তিনি ছয়বার বল পাঠান প্রতিপক্ষের জালে। অর্থাৎ বিরতির আগেই পূর্ণ করেন দুটি হ্যাটট্রিক।
দ্বিতীয়ার্ধে আরও একবার গোল করেন ৫০ বছর বয়সী এই ফুটবলার। পাশাপাশি সতীর্থের একটি গোলে সহায়তাও করেন তিনি।
সব মিলিয়ে সাত গোল ও একটি অ্যাসিস্ট নিয়ে ইংল্যান্ডের ১৩-১ ব্যবধানের জয়ের সবচেয়ে আলোচিত খেলোয়াড় হয়ে ওঠেন মার্ক।
মার্ক বেলিংহামের ফুটবল ক্যারিয়ার নতুন নয়। দীর্ঘ ১৭ বছর অপেশাদার ফুটবলে খেলেছেন তিনি।
এ সময়ে লেমিংটন ও ব্রমসগ্রোভ স্পোর্টিংসহ ২২টি ক্লাবের হয়ে মাঠে নামেন মার্ক। নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে চেল্টেনহ্যাম টাউন ও নিউপোর্ট কাউন্টির হয়েও খেলেছেন তিনি।
২০১৯ সালে নিয়মিত ফুটবল থেকে অবসর নেন মার্ক। তবে ফুটবলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেননি। এরপরও প্রবীণদের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে থাকেন।
অবশেষে ৫০ বছর বয়সে ইংল্যান্ডের প্রবীণ দলে ডাক পান তিনি। জাতীয় দলের জার্সিতে প্রথম ম্যাচেই সাত গোল করে নিজের সামর্থ্যের নতুন পরিচয় দিলেন এই অভিজ্ঞ ফুটবলার।
বাবার এমন পারফরম্যান্সের পাশাপাশি বড় ছেলে জুড বেলিংহামের জন্যও সপ্তাহটি ছিল বিশেষ।
স্প্যানিশ লা লিগায় রেসিং সান্তাদারের বিপক্ষে রিয়াল মাদ্রিদের ৩-০ গোলের জয়ের ম্যাচে একটি গোল করেন জুড।
এই গোলের মাধ্যমে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে নিজের ৫০তম গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেন ইংলিশ মিডফিল্ডার।
অন্যদিকে বেলিংহাম পরিবারের ছোট ছেলে জোবি বেলিংহামও বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের হয়ে ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন।
বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে বুন্দেসলিগার ম্যাচে ডর্টমুন্ড ২-২ গোলে ড্র করে। ওই ম্যাচে জোবি দলের মাঝমাঠে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
তবে ম্যাচসেরার স্বীকৃতি নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে যে দাবি রয়েছে, সেটি বুন্দেসলিগার আনুষ্ঠানিক তথ্যের সঙ্গে মেলে না।
একই সপ্তাহে বাবা মার্কের সাত গোল, জুডের ৫০তম গোলের মাইলফলক এবং জোবির মাঠের পারফরম্যান্স বেলিংহাম পরিবারকে ফুটবলপ্রেমীদের আলোচনায় নিয়ে এসেছে।
সূত্র : দ্য মিরর
মন্তব্যসমূহ