জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে খাদ্যনিরাপত্তা ও পুষ্টি ঝুঁকিতে থাকা নারী, শিশু এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় বাংলাদেশকে কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ার জন্য জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম। একই সঙ্গে খাদ্যশস্যের দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ এবং পুষ্টিকর খাদ্যের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে সংস্থাটির গবেষণা ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সচিবালয়ে খাদ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন এফএওর বাংলাদেশ প্রতিনিধি জিয়াওকুন শি (Jiaoqun Shi) এবং সহকারী প্রতিনিধি (প্রোগ্রাম) ইমানুন নবী খান। বৈঠকে দেশের খাদ্যনিরাপত্তা, নারী ও শিশুর পুষ্টি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় দুই পক্ষের সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
সাক্ষাৎকালে এফএওর প্রতিনিধিরা বাংলাদেশে সংস্থাটির চলমান কার্যক্রম সম্পর্কে মন্ত্রীকে জানান। দেশের খাদ্যনিরাপত্তা ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সংস্থাটির সম্ভাব্য সহযোগিতা, বিশেষ করে প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও কারিগরি সহায়তা নিয়ে বিস্তারিত জানতে চান আফরোজা খানম।
মন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমাজের ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর খাদ্যনিরাপত্তা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের পুষ্টি সুরক্ষায় বাংলাদেশে এফএওর বিদ্যমান কর্মসূচি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চান তিনি। এ জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।
খাদ্যশস্য সংরক্ষণের চ্যালেঞ্জ নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। আফরোজা খানম জানান, জলবায়ুগত প্রতিকূলতায় দীর্ঘ সময় খাদ্যশস্যের গুণগত মান অক্ষুণ্ন রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে ছয় মাসের বেশি সময় শস্য মজুদ রাখলে তা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। এ সমস্যা সমাধানে আধুনিক সংরক্ষণ প্রযুক্তি, দীর্ঘমেয়াদি মজুদের উপযোগী পদ্ধতি এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ে এফএওর সহযোগিতা চান তিনি।
দেশের আয়তনের তুলনায় জনসংখ্যার আধিক্যের বিষয়টি উল্লেখ করে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্যচাহিদা পূরণে নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাবারের পর্যাপ্ত প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা জরুরি। এ লক্ষ্য অর্জনে এফএওর গবেষণাভিত্তিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা কীভাবে কাজে লাগানো যায়, তা নিয়েও আলোচনা করেন তিনি।
এ ছাড়া ফর্টিফায়েড রাইসের পুষ্টিগত কার্যকারিতা এবং জনস্বাস্থ্যের ওপর এর প্রকৃত প্রভাব যাচাই করতে গবেষণা পরিচালনায় এফএওর সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন খাদ্যমন্ত্রী।
জবাবে এফএওর বাংলাদেশ প্রতিনিধি জিয়াওকুন শি জানান, বাংলাদেশের খাদ্যনিরাপত্তা জোরদার এবং জনগণের জন্য নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাবারের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে সংস্থাটি ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী। এ ক্ষেত্রে এফএওর অভিজ্ঞতা, কারিগরি জ্ঞান ও চলমান কার্যক্রমের মাধ্যমে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।
বৈঠকে খাদ্যসচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা, খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জসিম উদ্দিন খান, খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ ইউনিটের (এফপিএমইউ) মহাপরিচালক মো. মাহবুবুর রহমানসহ খাদ্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্যসমূহ