যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলার নতুন পর্ব এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহন ধীর হয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আবারও বেড়েছে। এতে দুই দেশের মধ্যকার অন্তর্বর্তী শান্তি চুক্তির ভঙ্গুরতা নতুন করে সামনে এসেছে।
সোমবার (২৯ জুন) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, দিনের শুরুতে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দাম ৫৮ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭২ দশমিক ৫৭ ডলারে ওঠে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ৮৮ সেন্ট বা ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭০ দশমিক ১১ ডলারে দাঁড়ায়।
রয়টার্সের হালনাগাদ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সাম্প্রতিক হামলা বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে আলোচনা পুনরায় শুরুর বিষয়ে সম্মত হওয়ায় বাজার কিছুটা স্থির হয়। ব্রেন্ট ক্রুড ৭২ দশমিক ০৩ ডলার এবং ডব্লিউটিআই ৬৯ দশমিক ৬৭ ডলারের কাছাকাছি ছিল।
বাজার বিশ্লেষণী প্রতিষ্ঠান আইএনজি এক নোটে বলেছে, তেলের বাজার এখনো উল্লেখযোগ্য ঝুঁকির মুখে। তবে বাজারের অংশগ্রহণকারীরা মূলত তেলের সরবরাহ পুনরুদ্ধার অব্যাহত থাকলে বৈশ্বিক বাজারের ভারসাম্যে তার কী প্রভাব পড়বে, সেটির দিকে বেশি নজর দিচ্ছেন।
আইএনজির বিশ্লেষকদের মতে, বাজারে যে আত্মতুষ্টি দেখা যাচ্ছে তা কিছুটা অস্বাভাবিক। সরবরাহ স্বাভাবিক হতে বিলম্ব হলে দামের আরও বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
এর আগে গত সপ্তাহে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১০ দশমিক ৬ শতাংশ কমে যায়, যা ছিল টানা তৃতীয় সাপ্তাহিক পতন। কারণ, হরমুজ প্রণালি দিয়ে অপরিশোধিত তেল পরিবহন বেড়ে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল।
তবে বৃহস্পতিবার থেকে প্রণালিতে আবারও জাহাজে হামলার ঘটনা শুরু হলে পরিবহন গতি কমে যায়। হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়া জাহাজগুলোর মধ্যে কাতার-সংশ্লিষ্ট একটি তেলবাহী ট্যাংকারও ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তেলের দাম আরও দ্রুত বাড়ার গতি কিছুটা সীমিত হয়েছে কূটনৈতিক উদ্যোগে। রোববার এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, উপসাগরীয় অঞ্চলে সাম্প্রতিক সংঘাত বন্ধ রাখা এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে বিরোধের বিষয়ে নতুন আলোচনা শুরু করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সম্মত হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক ব্যাংকিং গ্রুপ এএনজেড বলেছে, পারস্য উপসাগর থেকে তেলের সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে বাজার যে ধারণা করেছিল, তা এখন পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন হতে পারে।
এদিকে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকো হরমুজ প্রণালির পশ্চিমে অবস্থিত রাস তানুরা টার্মিনালে আবার অপরিশোধিত তেল লোডিং শুরু করেছে। রয়টার্স জানিয়েছে, প্রায় চার মাস বন্ধ থাকার পর আরামকো ওই টার্মিনালে লোডিং কার্যক্রম পুনরায় শুরু করেছে। একই এলাকায় রোববার আরামকোর একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে ১৪ জন নিহত হলেও তেল লোডিং কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
এএনজেডের বিশ্লেষকদের মতে, ট্যাংকার জট, অবকাঠামোগত ক্ষতি এবং উৎপাদন বন্ধ থাকার কারণে প্রকৃত সরবরাহ এখনো সীমাবদ্ধ। সংঘাত শুরুর আগের পর্যায়ে সরবরাহ ফিরিয়ে আনতে বছরের বাকি সময়ও লেগে যেতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স
মন্তব্যসমূহ