ঢাকা    সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ২৯ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

কন্যাশিশুর নিরাপত্তায় জিরো টলারেন্স বাস্তবায়নের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

কন্যাশিশুর নিরাপত্তায় জিরো টলারেন্স বাস্তবায়নের আহ্বান রাষ্ট্রপতির
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা, যৌন হয়রানি ও নির্যাতন প্রতিরোধে কঠোর আইন প্রয়োগ এবং জিরো টলারেন্স নীতি কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে শিশুবিয়ে বন্ধ, শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং পরিবার ও সমাজে মেয়েদের সমান মর্যাদা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

সোমবার (১২ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বাংলাদেশ শিশু অ্যাকাডেমিতে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং ন্যাশনাল গার্ল চাইল্ড অ্যাডভোকেসি ফোরামের (এনজিসিএএফ) যৌথ উদ্যোগে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন।

এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য ‘শিশু বিয়ে আর নয়, কন্যা করবে বিশ্বজয়’ উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, অল্প বয়সে বিয়ে একটি মেয়ের স্বাভাবিক শৈশব ও শিক্ষাজীবনে বাধা সৃষ্টি করে। এর ফলে তার সম্ভাবনা বিকাশের সুযোগ কমে যাওয়ার পাশাপাশি অকাল মাতৃত্ব, স্বাস্থ্যঝুঁকি, অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতা এবং সহিংসতার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।

কন্যাশিশুদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিদ্যালয়ে যাতায়াত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ থেকে শুরু করে অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যন্ত সব জায়গায় নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ এবং যৌন হয়রানির ঘটনায় দ্রুত তদন্ত, কার্যকর বিচার ও আইনের কঠোর প্রয়োগের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

রাষ্ট্রপতির মতে, কন্যাশিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠার অন্যতম শর্ত হলো পরিবার ও সমাজের মানসিকতার পরিবর্তন। ছেলেদের মতো মেয়েদেরও সমান গুরুত্ব দিয়ে তাদের স্বপ্নপূরণের সুযোগ তৈরি করতে হবে।

অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কন্যাসন্তানকে পরিবারের বোঝা হিসেবে না দেখে সম্ভাবনাময় মানুষ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। সন্তানদের মধ্যে সমান মর্যাদাবোধ গড়ে তোলার পাশাপাশি ছেলেদের ছোটবেলা থেকেই মেয়েদের প্রতি সম্মানজনক আচরণ শেখানোর আহ্বান জানান তিনি।

মেয়েদের ভবিষ্যৎ গড়ার ক্ষেত্রে বিয়ের জন্য অর্থ সঞ্চয়ের পরিবর্তে তাদের শিক্ষা ও কল্যাণে বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরামর্শ দেন রাষ্ট্রপতি।

নিজের দুই কন্যার কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, প্রতিটি কন্যাশিশুর মধ্যে তিনি নিজের সন্তানদের প্রতিচ্ছবি দেখতে পান। তাই কন্যাশিশুর নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর উদ্বেগ শুধু রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এর সঙ্গে ব্যক্তিগত মমতাও জড়িয়ে রয়েছে।

দেশের নারীদের বিভিন্ন অর্জনের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, ক্রীড়া, প্রযুক্তি, গণমাধ্যম, ব্যবসা এবং রাষ্ট্রীয় প্রশাসনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীরা যোগ্যতার পরিচয় দিচ্ছেন।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের আন্তর্জাতিক সাফল্য এবং নিশাত মজুমদারের এভারেস্ট জয়ের উদাহরণ তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি। এসব অর্জনকে দেশের জন্য গৌরবের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, কন্যাসন্তান স্রষ্টার নেয়ামত। অথচ সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের অবহেলা ও অবমূল্যায়ন করা হয়। সব ধর্মের নৈতিক শিক্ষাতেই নারী ও কন্যাশিশুর অধিকার এবং মর্যাদা রক্ষার গুরুত্ব রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

কন্যাশিশুদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি বলেন, নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি পড়াশোনা ও দক্ষতা অর্জনে মনোযোগী হতে হবে। ভবিষ্যতে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ারও পরামর্শ দেন তিনি।

কোনো ধরনের অন্যায়, নির্যাতন বা নিপীড়নের শিকার হলে বিষয়টি বিশ্বস্ত অভিভাবক, শিক্ষক কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। একই সঙ্গে আত্মরক্ষার সক্ষমতা বাড়াতে মেয়েদের মার্শাল আর্ট শেখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

নারী শিক্ষার প্রসারে বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথাও স্মরণ করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, নারীদের শিক্ষাবৃত্তি এবং বিনা বেতনে পড়াশোনার সুযোগ তৈরিতে খালেদা জিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।

নারীর নিরাপত্তা ও উন্নয়নে সরকারি দলের রাজনৈতিক অঙ্গীকারকে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান।

ট্যাগ : রাষ্ট্রপতি আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬


কন্যাশিশুর নিরাপত্তায় জিরো টলারেন্স বাস্তবায়নের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

প্রকাশের তারিখ : ১২ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা, যৌন হয়রানি ও নির্যাতন প্রতিরোধে কঠোর আইন প্রয়োগ এবং জিরো টলারেন্স নীতি কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে শিশুবিয়ে বন্ধ, শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং পরিবার ও সমাজে মেয়েদের সমান মর্যাদা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

সোমবার (১২ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বাংলাদেশ শিশু অ্যাকাডেমিতে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং ন্যাশনাল গার্ল চাইল্ড অ্যাডভোকেসি ফোরামের (এনজিসিএএফ) যৌথ উদ্যোগে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন।

এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য ‘শিশু বিয়ে আর নয়, কন্যা করবে বিশ্বজয়’ উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, অল্প বয়সে বিয়ে একটি মেয়ের স্বাভাবিক শৈশব ও শিক্ষাজীবনে বাধা সৃষ্টি করে। এর ফলে তার সম্ভাবনা বিকাশের সুযোগ কমে যাওয়ার পাশাপাশি অকাল মাতৃত্ব, স্বাস্থ্যঝুঁকি, অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতা এবং সহিংসতার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।

কন্যাশিশুদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিদ্যালয়ে যাতায়াত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ থেকে শুরু করে অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যন্ত সব জায়গায় নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ এবং যৌন হয়রানির ঘটনায় দ্রুত তদন্ত, কার্যকর বিচার ও আইনের কঠোর প্রয়োগের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

রাষ্ট্রপতির মতে, কন্যাশিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠার অন্যতম শর্ত হলো পরিবার ও সমাজের মানসিকতার পরিবর্তন। ছেলেদের মতো মেয়েদেরও সমান গুরুত্ব দিয়ে তাদের স্বপ্নপূরণের সুযোগ তৈরি করতে হবে।

অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কন্যাসন্তানকে পরিবারের বোঝা হিসেবে না দেখে সম্ভাবনাময় মানুষ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। সন্তানদের মধ্যে সমান মর্যাদাবোধ গড়ে তোলার পাশাপাশি ছেলেদের ছোটবেলা থেকেই মেয়েদের প্রতি সম্মানজনক আচরণ শেখানোর আহ্বান জানান তিনি।

মেয়েদের ভবিষ্যৎ গড়ার ক্ষেত্রে বিয়ের জন্য অর্থ সঞ্চয়ের পরিবর্তে তাদের শিক্ষা ও কল্যাণে বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরামর্শ দেন রাষ্ট্রপতি।

নিজের দুই কন্যার কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, প্রতিটি কন্যাশিশুর মধ্যে তিনি নিজের সন্তানদের প্রতিচ্ছবি দেখতে পান। তাই কন্যাশিশুর নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর উদ্বেগ শুধু রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এর সঙ্গে ব্যক্তিগত মমতাও জড়িয়ে রয়েছে।

দেশের নারীদের বিভিন্ন অর্জনের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, ক্রীড়া, প্রযুক্তি, গণমাধ্যম, ব্যবসা এবং রাষ্ট্রীয় প্রশাসনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীরা যোগ্যতার পরিচয় দিচ্ছেন।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের আন্তর্জাতিক সাফল্য এবং নিশাত মজুমদারের এভারেস্ট জয়ের উদাহরণ তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি। এসব অর্জনকে দেশের জন্য গৌরবের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, কন্যাসন্তান স্রষ্টার নেয়ামত। অথচ সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের অবহেলা ও অবমূল্যায়ন করা হয়। সব ধর্মের নৈতিক শিক্ষাতেই নারী ও কন্যাশিশুর অধিকার এবং মর্যাদা রক্ষার গুরুত্ব রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

কন্যাশিশুদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি বলেন, নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি পড়াশোনা ও দক্ষতা অর্জনে মনোযোগী হতে হবে। ভবিষ্যতে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ারও পরামর্শ দেন তিনি।

কোনো ধরনের অন্যায়, নির্যাতন বা নিপীড়নের শিকার হলে বিষয়টি বিশ্বস্ত অভিভাবক, শিক্ষক কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। একই সঙ্গে আত্মরক্ষার সক্ষমতা বাড়াতে মেয়েদের মার্শাল আর্ট শেখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

নারী শিক্ষার প্রসারে বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথাও স্মরণ করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, নারীদের শিক্ষাবৃত্তি এবং বিনা বেতনে পড়াশোনার সুযোগ তৈরিতে খালেদা জিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।

নারীর নিরাপত্তা ও উন্নয়নে সরকারি দলের রাজনৈতিক অঙ্গীকারকে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ