সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট থেকে জন্ম নেওয়া ভারতের তরুণদের নতুন প্ল্যাটফর্ম ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) এখন ক্ষমতাসীন নরেন্দ্র মোদি সরকারের সামনে বড় ধরনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বেকারত্ব, শিক্ষাব্যবস্থার সংকট এবং সম্প্রতি জাতীয় ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া নিয়ে রাজপথে সরব হয়ে ওঠা এই প্ল্যাটফর্মটি প্রথাগত বিরোধী দলগুলোর বাইরে গিয়ে স্বাধীন জনমত তৈরি করছে।
কর্মসূচিকে ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে শনিবার দিল্লিতে পৌঁছানোর পরপরই সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ৩১ বছর বয়সী অভিজিৎ দীপকে আটক করে পুলিশ। ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে নির্বাচন কমিশন ঘেরাও কর্মসূচিতে যোগ দিতে তিনি রাজধানীতে এসেছিলেন। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এই বিক্ষোভ দমনে রাজধানীতে ব্যাপক নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয় এবং আন্দোলনকারী, শিক্ষার্থী, অধিকারকর্মী ও বিরোধী দলের নেতাসহ দুই হাজারের বেশি মানুষকে আটক করা হয়।
আন্দোলনটির সূচনা চলতি বছরের মে মাসে। তরুণদের ব্যঙ্গ করে করা এক মন্তব্যের জবাবে অভিজিৎ দীপকের ‘সব তেলাপোকা একসঙ্গে হলে কী হবে?’ শীর্ষক পোস্টটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোড়ন তোলে। এরপর মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ সামনে এনে ২০ লাখ পরীক্ষার্থীর পক্ষ নিয়ে তারা বড় ধরনের আন্দোলন গড়ে তোলে, যার ধারাবাহিকতায় গত ২৫ জুলাই তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করতে বাধ্য হন—যা মোদি মন্ত্রিসভায় সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বিরল ঘটনা হিসেবে দেখা হয়।
বর্তমানে সংগঠনটি ভারতের খসড়া ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ১৩ কোটি নাম বাদ পড়ার অভিযোগ তুলে আন্দোলনে নেমেছে। বিরোধী দল ও আন্দোলনকারীদের দাবি, এই সংশোধনের মাধ্যমে যোগ্য ভোটারদের বাদ দিয়ে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টিকে (বিজেপি) বাড়তি নির্বাচনী সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। যদিও বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন যাবতীয় অনিয়মের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। কমিশনের ভাষ্য, এটি নিয়মিত সংশোধন প্রক্রিয়া এবং বাদ পড়া যোগ্য ভোটারদের পুনরায় নিবন্ধনের সুযোগ রয়েছে। ইতোমধ্যে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট এই ভোটার তালিকা বিতর্ক নিয়ে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে কংগ্রেস মোদি সরকারের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে থাকলেও সিজেপির এই উত্থান প্রমাণ করছে যে ভারতের তরুণ সমাজের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ এখন প্রথাগত দলীয় কাঠামোর বাইরে গিয়ে নতুন শক্তির জন্ম দিচ্ছে।
মন্তব্যসমূহ