নারীর ক্ষমতায়ন, সামাজিক ন্যায়বিচার ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দেশব্যাপী ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় পরিবারের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করেছে সরকার। সোমবার (১২ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে সমাজসেবা অধিদপ্তর ভবনে আয়োজিত কেন্দ্রীয় সংবাদ ব্রিফিংয়ে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
বিএনপির নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
একই দিনে গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভাওয়াল সম্মেলন কক্ষে পৃথক সংবাদ ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে জেলার জরিপ ও তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মো. নুরুল করিম ভূঁইয়া।
জেলা প্রশাসক জানান, গাজীপুরে মোট ১৮ লাখ ৬৭ হাজার ৩৪টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ কাজে ২ হাজার ৬৬৫ জন তথ্য সংগ্রহকারী এবং ২৬৬ জন সুপারভাইজার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
প্রথম পর্যায়ে সোমবার থেকে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ১৩, ২১, ৪১ ও ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডে জরিপ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি জেলার পাঁচটি উপজেলার মধ্যে সদর উপজেলার দুটি এবং অন্য চার উপজেলার একটি করে ওয়ার্ড বা ইউনিয়ন এলাকায় তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।
প্রাথমিক পর্যায়ের কার্যক্রমে মোট ১০টি ওয়ার্ড বা এলাকা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ৯৪ হাজার ৪৩৮টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এ জন্য মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন ১০২ জন প্রশিক্ষিত তথ্য সংগ্রহকারী এবং ১৩ জন সুপারভাইজার।
তথ্য সংগ্রহকারীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিশেষায়িত ট্যাবলেট ডিভাইসের মাধ্যমে পরিবারের প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করবেন। সংগৃহীত তথ্য সরাসরি অনলাইন ডেটাবেইজে সংরক্ষণ করা হবে।
জরিপ কার্যক্রম সহজ করতে সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোকে প্রয়োজনীয় পরিচয়পত্র ও আর্থিক হিসাবের তথ্য প্রস্তুত রাখার অনুরোধ জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।
বিশেষ করে প্রতিটি পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠ নারী সদস্যের জাতীয় পরিচয়পত্র ও মোবাইল ব্যাংকিং হিসাব নম্বর এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা জন্মনিবন্ধন সনদ প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে।
গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শাহরিয়ার নজির, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মতিয়ার রহমান, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ইলিশায় রিছিল এবং গাজীপুর শহর সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
মন্তব্যসমূহ