সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে টানা দুই দিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ফ্লাইট পরিচালনা ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) বিমানবন্দরটির নির্ধারিত ফ্লাইটের ৬০ শতাংশ বাতিল করা হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা কিরিয়ামের তথ্য থেকে জানা গেছে।
এর আগে শনিবার ও রোববার বিমানবন্দরটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইয়েমেনের হুথি বাহিনী। হামলার পর রোববার নির্ধারিত ফ্লাইটের ৯৯ দশমিক ৭ শতাংশ বাতিল করে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।
পরদিন সোমবারও বিপুলসংখ্যক ফ্লাইট বাতিলের ঘটনা ঘটে। আগের দিনের হামলা ও বিমানবন্দর পরিচালনায় সৃষ্ট পরিস্থিতির ধারাবাহিকতায় এসব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সরবরাহকৃত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথিদের হামলায় ১২ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হন।
রোববার একই বিমানবন্দরে দ্বিতীয় দফার হামলায় আরও একজন নিহত ও ১১ জন আহত হন। দুই দিনের হামলায় মোট ১৩ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে।
এদিকে রোববার সৌদি আরবের দাম্মাম শহরের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে হুথি বাহিনী। তবে ওই হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
রিয়াদ ও দাম্মামের বিমানবন্দরে হামলার দায় স্বীকার করেছে হুথি গোষ্ঠী।
রোববার টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে সংগঠনটির শীর্ষ মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া কাসিম সারী হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে আরও হামলার হুঁশিয়ারি দেন।
তিনি বলেন, “সামনের দিনগুলোতে সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে আরও কঠিন হামলা করা হবে। বিমান পরিষেবা সংস্থা সংস্থা, বিমানবন্দরের কর্মী এবং ভ্রমণকারীরা যেন ভবিষ্যতের সম্ভাব্য হামলা সম্পর্কে সতর্ক থাকেন।”
হুথি বাহিনীর এই হুঁশিয়ারির মধ্যে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরগুলোর ফ্লাইট পরিচালনা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে বিমান চলাচল কবে পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে সরবরাহকৃত প্রতিবেদনে কোনো নির্দিষ্ট সময় উল্লেখ করা হয়নি।
সূত্র : এএফপি
মন্তব্যসমূহ