ঢাকা    সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ২৯ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

ধর্ম নয়, নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করাই দায়িত্ব: প্রধানমন্ত্রী

ধর্ম নয়, নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করাই দায়িত্ব: প্রধানমন্ত্রী
ফাইল ছবি
ফলো করুন

ধর্মীয় পরিচয়ের পরিবর্তে নাগরিক হিসেবে প্রত্যেক মানুষের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দেশের সব নাগরিকের ন্যায্য প্রাপ্য নিশ্চিত করা সরকারপ্রধান হিসেবে তাঁর দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালনে নিজের অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন তিনি।

সোমবার (১২ অক্টোবর) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ঢাকা-১৭ আসনের হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ঢাকা-১৭ আসনের আটটি মন্দিরের প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তাঁকে পূজার আমন্ত্রণ জানান।

আলোচনায় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন। বিশেষ করে পূজার ছুটি ও অনুদান বাড়ানোর জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান তাঁরা।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা নিজেরাই বলেছেন এই অল্প সময়ের মধ্যে যতটুকু কাজ হয়েছে, আমরা তা করেছি। আরও কিছু বিষয়ে আমরা চেষ্টা করছি। এ থেকেই প্রমাণ হয়, আমাদের সদিচ্ছা রয়েছে।’

দেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণের কথা তুলে ধরেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, তাঁর বাবা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। সেই সংগ্রামে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে দেশের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছেন।

একইভাবে ১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের আন্দোলনেও ধর্ম-বর্ণের পার্থক্য ছাড়াই সাধারণ মানুষ অংশ নিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির ক্রান্তিলগ্নে যখন আমরা ধর্মকে বিবেচনায় আনিনি, তখন অন্য কাজে কেন ধর্মকে বিবেচনা করব? দেশটা সবাই মিলে স্বাধীন করেছি। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও সবাই অংশ নিয়েছি।’

আওয়ামী লীগের শাসনামলে রাজনৈতিক আন্দোলনে অংশ নেওয়া বিভিন্ন ধর্মের নেতাকর্মীদের নির্যাতনের শিকার হওয়ার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক কারণে মুসলমান ও হিন্দু উভয় সম্প্রদায়ের নেতাকর্মীরাই নির্যাতিত হয়েছেন।

নাগরিক নিরাপত্তার বিষয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে তারেক রহমান বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, আল্লাহতালা আমাকে একটি সুযোগ দিয়েছেন। আমি আমার অবস্থান থেকে চেষ্টা করব, ধর্মের পরিপ্রেক্ষিতে নয়, বরং মানুষ হিসেবে প্রত্যেককে আমার ক্ষমতার মধ্যে যতটুকু নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব, তা নিশ্চিত করতে।’

তিনি আরও বলেন, ‘একজন দেশের নাগরিক হিসেবে, একজন মানুষ হিসেবে আপনার যে অধিকার, আপনার যা প্রাপ্য, সরকারপ্রধান হিসেবে আমার যে কর্তব্য, আমি সেটাই পালন করার চেষ্টা করছি।’

মতবিনিময় সভায় হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তাঁরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করছেন এবং কোনো সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন না। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিএনপিকে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল বলে সরকারের কার্যক্রমে তাঁরা মনে করছেন। ভবিষ্যতেও সরকারের প্রতি সমর্থন ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা জানান তাঁরা।

সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য রমেশ দত্ত, গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের সভাপতি অলক সাহা, বারিধারা ডিওএইচ পূজা কমিটির সভাপতি জীবন কানাই দাস, ব্রিটিশ চন্দ্র কর্মকার, নারায়ণ চন্দ্র সাহা, প্রদীপ চন্দ্র দাস, শিখা রানী দাস, শ্যামল কুমার দাস ও রাজিব কুমার আচার্য।

এ ছাড়া ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য তারেক রহমানের প্রতিনিধি আব্দুর রহমান সানি এবং বনানী সোসাইটির কোষাধ্যক্ষ সফিকুজ্জামান রতনও মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।

ট্যাগ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুর্গাপূজা ধর্মীয় সম্প্রীতি

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬


ধর্ম নয়, নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করাই দায়িত্ব: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ১২ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ধর্মীয় পরিচয়ের পরিবর্তে নাগরিক হিসেবে প্রত্যেক মানুষের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দেশের সব নাগরিকের ন্যায্য প্রাপ্য নিশ্চিত করা সরকারপ্রধান হিসেবে তাঁর দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালনে নিজের অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন তিনি।

সোমবার (১২ অক্টোবর) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ঢাকা-১৭ আসনের হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ঢাকা-১৭ আসনের আটটি মন্দিরের প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তাঁকে পূজার আমন্ত্রণ জানান।

আলোচনায় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন। বিশেষ করে পূজার ছুটি ও অনুদান বাড়ানোর জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান তাঁরা।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা নিজেরাই বলেছেন এই অল্প সময়ের মধ্যে যতটুকু কাজ হয়েছে, আমরা তা করেছি। আরও কিছু বিষয়ে আমরা চেষ্টা করছি। এ থেকেই প্রমাণ হয়, আমাদের সদিচ্ছা রয়েছে।’

দেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণের কথা তুলে ধরেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, তাঁর বাবা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। সেই সংগ্রামে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে দেশের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছেন।

একইভাবে ১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের আন্দোলনেও ধর্ম-বর্ণের পার্থক্য ছাড়াই সাধারণ মানুষ অংশ নিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির ক্রান্তিলগ্নে যখন আমরা ধর্মকে বিবেচনায় আনিনি, তখন অন্য কাজে কেন ধর্মকে বিবেচনা করব? দেশটা সবাই মিলে স্বাধীন করেছি। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও সবাই অংশ নিয়েছি।’

আওয়ামী লীগের শাসনামলে রাজনৈতিক আন্দোলনে অংশ নেওয়া বিভিন্ন ধর্মের নেতাকর্মীদের নির্যাতনের শিকার হওয়ার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক কারণে মুসলমান ও হিন্দু উভয় সম্প্রদায়ের নেতাকর্মীরাই নির্যাতিত হয়েছেন।

নাগরিক নিরাপত্তার বিষয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে তারেক রহমান বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, আল্লাহতালা আমাকে একটি সুযোগ দিয়েছেন। আমি আমার অবস্থান থেকে চেষ্টা করব, ধর্মের পরিপ্রেক্ষিতে নয়, বরং মানুষ হিসেবে প্রত্যেককে আমার ক্ষমতার মধ্যে যতটুকু নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব, তা নিশ্চিত করতে।’

তিনি আরও বলেন, ‘একজন দেশের নাগরিক হিসেবে, একজন মানুষ হিসেবে আপনার যে অধিকার, আপনার যা প্রাপ্য, সরকারপ্রধান হিসেবে আমার যে কর্তব্য, আমি সেটাই পালন করার চেষ্টা করছি।’

মতবিনিময় সভায় হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তাঁরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করছেন এবং কোনো সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন না। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিএনপিকে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল বলে সরকারের কার্যক্রমে তাঁরা মনে করছেন। ভবিষ্যতেও সরকারের প্রতি সমর্থন ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা জানান তাঁরা।

সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য রমেশ দত্ত, গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের সভাপতি অলক সাহা, বারিধারা ডিওএইচ পূজা কমিটির সভাপতি জীবন কানাই দাস, ব্রিটিশ চন্দ্র কর্মকার, নারায়ণ চন্দ্র সাহা, প্রদীপ চন্দ্র দাস, শিখা রানী দাস, শ্যামল কুমার দাস ও রাজিব কুমার আচার্য।

এ ছাড়া ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য তারেক রহমানের প্রতিনিধি আব্দুর রহমান সানি এবং বনানী সোসাইটির কোষাধ্যক্ষ সফিকুজ্জামান রতনও মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ