বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চার উপপরিচালককে শৃঙ্খলাপরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে কমিশনের চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত ব্যাখ্যা জমা দিতে বলা হয়েছে।
রোববার (১১ অক্টোবর) বিটিআরসি কর্তৃপক্ষ পৃথক চিঠির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এ নির্দেশনা দেয়।
কারণ দর্শানোর নোটিশ পাওয়া কর্মকর্তারা হলেন উপপরিচালক (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) সনজিব কুমার সিংহ, উপপরিচালক (অর্থ, হিসাব ও রাজস্ব) মো. জাকির হোসেন খাঁন, উপপরিচালক (সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিসেস) কাজী আহসানুল হাবীব মিথুন এবং উপপরিচালক এস এম আফজাল রেজা।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অফিস চলাকালে এবং অফিস সময়ের বাইরে কমিশনের স্বাভাবিক কার্যক্রম, শৃঙ্খলা ও স্বার্থের পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত রয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এসব কর্মকাণ্ডে তাঁদের সঙ্গে অফিসের সহকর্মী ও বাইরের ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততার অভিযোগও তুলে ধরা হয়েছে।
বিটিআরসির পৃথক চিঠিতে বলা হয়েছে, উত্থাপিত অভিযোগগুলো বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (কর্মচারী) চাকরি প্রবিধানমালা, ২০২২-এর প্রবিধান ৪৮(খ) ও ৪৮(জ) এবং সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ২(খ) ও ৩(ঙ)-এর আওতাভুক্ত।
এ পরিস্থিতিতে অভিযোগের বিষয়ে নিজেদের অবস্থান ও ব্যাখ্যা লিখিতভাবে কমিশনের চেয়ারম্যানের কাছে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নোটিশে আরও জানানো হয়েছে, নির্ধারিত সাত কর্মদিবসের মধ্যে কোনো লিখিত জবাব পাওয়া না গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য নেই বলে ধরে নেওয়া হবে। এরপর প্রযোজ্য বিধিবিধান অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তবে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাওয়া কর্মকর্তারা এ পদক্ষেপের পেছনে ভিন্ন কারণ রয়েছে বলে দাবি করেছেন।
তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, বিটিআরসির অতীতের কিছু নিয়োগ ও প্রশাসনিক অনিয়মের বিরুদ্ধে গত মার্চে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দায়ের করেছিলেন ২০১২ সালে নিয়োগ পাওয়া ছয়জন উপপরিচালক।
শোকজ পাওয়া কর্মকর্তাদের দাবি, ওই রিট আবেদনের কারণেই তাঁদের বিরুদ্ধে বর্তমান প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তবে কর্মকর্তাদের এই দাবির বিষয়ে বিটিআরসি কর্তৃপক্ষের পৃথক কোনো বক্তব্য সরবরাহকৃত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
মন্তব্যসমূহ