ঢাকা    সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ২৯ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

সেন্টমার্টিনে পর্যটক প্রবেশের বিধিনিষেধ পুনর্বিবেচনা করবে সরকার: পরিবেশমন্ত্রী

সেন্টমার্টিনে পর্যটক প্রবেশের বিধিনিষেধ পুনর্বিবেচনা করবে সরকার: পরিবেশমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটক প্রবেশের সময়সীমা, দৈনিক পর্যটকের সংখ্যা এবং পর্যটকবাহী জাহাজ ছাড়ার স্থান পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দ্বীপের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার পাশাপাশি পর্যটকদের নিরাপত্তা এবং যাতায়াত ব্যবস্থাপনা বিবেচনায় নিয়ে এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) সচিবালয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এসব কথা জানান পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।

সভায় ২০২৬–২০২৭ পর্যটন মৌসুমে সেন্টমার্টিনে পর্যটকদের যাতায়াত ও অবস্থানসংক্রান্ত বিদ্যমান নিয়ম এবং সম্ভাব্য পরিবর্তনের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়।

পরিবেশমন্ত্রী বলেন, পর্যটন কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে সেন্টমার্টিনের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য অক্ষুণ্ন রাখতে হবে। পর্যটকদের উপস্থিতি দ্বীপের পরিবেশের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলছে, তা বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।

বিশেষ করে দ্বীপের পর্যটক ধারণক্ষমতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সুপেয় পানির প্রাপ্যতা এবং সামুদ্রিক প্রতিবেশের ওপর পর্যটনের প্রভাব পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি।

সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর মতামতের ভিত্তিতে পর্যটন ব্যবস্থাপনার বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানান মন্ত্রী।

সভায় ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর জারি করা প্রজ্ঞাপনের বিধানগুলো পর্যালোচনা করা হয়। ওই প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নভেম্বর মাসে পর্যটকেরা সেন্টমার্টিনে দিনের বেলায় ভ্রমণ করতে পারবেন, তবে রাত্রিযাপনের সুযোগ নেই।

ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে দ্বীপে রাত্রিযাপন করা যাবে। এ ছাড়া দৈনিক পর্যটকের গড় সংখ্যা দুই হাজারের বেশি হতে পারবে না। ফেব্রুয়ারি মাসে পর্যটকদের সেন্টমার্টিনে যাতায়াত বন্ধ রাখার বিধান রয়েছে।

এসব নিয়ম পুনর্বিবেচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পরিবর্তিত সময়সূচি বা নতুন পর্যটকসীমা চূড়ান্ত করা হয়নি।

অন্যদিকে, পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম পর্যটকদের জন্য নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড স্বীকৃত ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে ট্রাভেল পাস ও কিউআর কোডযুক্ত টিকিট সংগ্রহের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণসংক্রান্ত নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানান।

একই সঙ্গে দ্বীপে নিষিদ্ধ পলিথিন বহন বন্ধ, একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করা এবং পর্যটকদের নিজস্ব পানির ফ্লাস্ক সঙ্গে রাখার বিষয়ে গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী।

এদিকে সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল ও অন্যান্য জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞাগুলো বহাল থাকবে।

এসব বিধিনিষেধের মধ্যে রয়েছে রাতে সমুদ্রসৈকত ও আশপাশের এলাকায় আলো জ্বালানো, শব্দ সৃষ্টি এবং বারবিকিউ পার্টি আয়োজন নিষিদ্ধ রাখা। পাশাপাশি কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ ও কেনাবেচা এবং সৈকতে মোটরসাইকেলসহ অনুরূপ যানবাহন চালানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, কক্সবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী এবং ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য মীর আহমদ বিন কাসেম।

এ ছাড়া পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম, অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ নাভিদ শফিউল্লাহ, নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমডোর মো. শফিউল বারীসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

পর্যটন ব্যবসায়ী ও পরিবেশ সংগঠনের প্রতিনিধিরাও সভায় অংশ নেন। স্থানীয় প্রশাসন এবং পর্যটন ব্যবসায়ীদের কয়েকজন প্রতিনিধি অনলাইনে যুক্ত ছিলেন।

ট্যাগ : সেন্টমার্টিন পরিবেশ মন্ত্রণালয়

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬


সেন্টমার্টিনে পর্যটক প্রবেশের বিধিনিষেধ পুনর্বিবেচনা করবে সরকার: পরিবেশমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ১২ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটক প্রবেশের সময়সীমা, দৈনিক পর্যটকের সংখ্যা এবং পর্যটকবাহী জাহাজ ছাড়ার স্থান পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দ্বীপের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার পাশাপাশি পর্যটকদের নিরাপত্তা এবং যাতায়াত ব্যবস্থাপনা বিবেচনায় নিয়ে এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) সচিবালয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এসব কথা জানান পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।

সভায় ২০২৬–২০২৭ পর্যটন মৌসুমে সেন্টমার্টিনে পর্যটকদের যাতায়াত ও অবস্থানসংক্রান্ত বিদ্যমান নিয়ম এবং সম্ভাব্য পরিবর্তনের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়।

পরিবেশমন্ত্রী বলেন, পর্যটন কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে সেন্টমার্টিনের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য অক্ষুণ্ন রাখতে হবে। পর্যটকদের উপস্থিতি দ্বীপের পরিবেশের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলছে, তা বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।

বিশেষ করে দ্বীপের পর্যটক ধারণক্ষমতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সুপেয় পানির প্রাপ্যতা এবং সামুদ্রিক প্রতিবেশের ওপর পর্যটনের প্রভাব পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি।

সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর মতামতের ভিত্তিতে পর্যটন ব্যবস্থাপনার বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানান মন্ত্রী।

সভায় ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর জারি করা প্রজ্ঞাপনের বিধানগুলো পর্যালোচনা করা হয়। ওই প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নভেম্বর মাসে পর্যটকেরা সেন্টমার্টিনে দিনের বেলায় ভ্রমণ করতে পারবেন, তবে রাত্রিযাপনের সুযোগ নেই।

ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে দ্বীপে রাত্রিযাপন করা যাবে। এ ছাড়া দৈনিক পর্যটকের গড় সংখ্যা দুই হাজারের বেশি হতে পারবে না। ফেব্রুয়ারি মাসে পর্যটকদের সেন্টমার্টিনে যাতায়াত বন্ধ রাখার বিধান রয়েছে।

এসব নিয়ম পুনর্বিবেচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পরিবর্তিত সময়সূচি বা নতুন পর্যটকসীমা চূড়ান্ত করা হয়নি।

অন্যদিকে, পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম পর্যটকদের জন্য নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড স্বীকৃত ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে ট্রাভেল পাস ও কিউআর কোডযুক্ত টিকিট সংগ্রহের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণসংক্রান্ত নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানান।

একই সঙ্গে দ্বীপে নিষিদ্ধ পলিথিন বহন বন্ধ, একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করা এবং পর্যটকদের নিজস্ব পানির ফ্লাস্ক সঙ্গে রাখার বিষয়ে গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী।

এদিকে সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল ও অন্যান্য জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞাগুলো বহাল থাকবে।

এসব বিধিনিষেধের মধ্যে রয়েছে রাতে সমুদ্রসৈকত ও আশপাশের এলাকায় আলো জ্বালানো, শব্দ সৃষ্টি এবং বারবিকিউ পার্টি আয়োজন নিষিদ্ধ রাখা। পাশাপাশি কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ ও কেনাবেচা এবং সৈকতে মোটরসাইকেলসহ অনুরূপ যানবাহন চালানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, কক্সবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী এবং ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য মীর আহমদ বিন কাসেম।

এ ছাড়া পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম, অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ নাভিদ শফিউল্লাহ, নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমডোর মো. শফিউল বারীসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

পর্যটন ব্যবসায়ী ও পরিবেশ সংগঠনের প্রতিনিধিরাও সভায় অংশ নেন। স্থানীয় প্রশাসন এবং পর্যটন ব্যবসায়ীদের কয়েকজন প্রতিনিধি অনলাইনে যুক্ত ছিলেন।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ