ইউক্রেনে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজনের সুযোগ তৈরি করতে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির দেওয়া ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে রাশিয়া। ক্রেমলিন জানিয়েছে, সাময়িকভাবে লড়াই বন্ধ করার পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সমঝোতায় পৌঁছাতে চায় মস্কো।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ মস্কোর এ অবস্থান তুলে ধরেন।
পেসকভ বলেন, “ক্রেমলিনে প্রেসিডেন্ট পুতিনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা বারবার বলেছেন, আমরা যুদ্ধবিরতি চাই না। আমরা দীর্ঘমেয়াদি শান্তি চাই এবং তা অর্জনের জন্য সম্ভাব্য সবকিছু করতে প্রস্তুত।”
রোববার (১১ অক্টোবর) ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ৬০ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেন। তাঁর পরিকল্পনার উদ্দেশ্য ছিল চলমান সংঘাতের মধ্যে ইউক্রেনে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজনের উপযোগী পরিস্থিতি তৈরি করা।
তবে রাশিয়া এ প্রস্তাবে সম্মতি না দেওয়ায় নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
ক্রেমলিনের বক্তব্য অনুযায়ী, মস্কো এমন একটি শান্তি সমঝোতা চায়, যার মাধ্যমে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যকার সংঘাতের স্থায়ী অবসান ঘটানো সম্ভব হবে। যদিও প্রস্তাবিত দীর্ঘমেয়াদি শান্তিচুক্তির শর্ত বা বাস্তবায়নপ্রক্রিয়া সম্পর্কে পেসকভ বিস্তারিত কিছু জানাননি।
অন্যদিকে, অতীতে সাময়িক যুদ্ধবিরতির সমঝোতা লঙ্ঘনের জন্য রাশিয়াকে দায়ী করে আসছে ইউক্রেন। কিয়েভের এসব অভিযোগের কারণে নতুন যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ নিয়েও আস্থার সংকট রয়েছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত ‘জ্বালানি যুদ্ধবিরতি’ নিয়েও ক্রেমলিনের অবস্থান স্পষ্ট হয়নি।
রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে জ্বালানি স্থাপনা এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোয় হামলা বন্ধের উদ্যোগ সম্পর্কে সাংবাদিকেরা জানতে চাইলে পেসকভ সরাসরি মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকেন।
জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধের সম্ভাব্য ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা চললেও ট্রাম্পের ঘোষণার বিষয়ে মস্কোর সুস্পষ্ট বক্তব্য না থাকায় এর পরিধি ও বাস্তবায়ন সম্পর্কে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
ফলে একদিকে ইউক্রেনের প্রস্তাবিত ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতিতে রাশিয়ার অসম্মতি, অন্যদিকে জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধের উদ্যোগ নিয়ে ক্রেমলিনের নীরবতার কারণে নতুন কোনো সমঝোতার সম্ভাবনা এখনও স্পষ্ট নয়।
সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান
মন্তব্যসমূহ