সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্সের আমন্ত্রণে দেশটি সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ইতোমধ্যে তিনি সফরের আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন। তবে সফরের নির্দিষ্ট তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি।
শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সেমিনারে এ তথ্য জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
‘কর্মশক্তি থেকে কৌশলগত অংশীদারি : বাংলাদেশ-সৌদি আরব সম্পর্কের পুনর্কল্পনা’ শীর্ষক সেমিনারটি যৌথভাবে আয়োজন করে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ এবং নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, সৌদি ক্রাউন প্রিন্স বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন এবং সুবিধাজনক সময়ে সৌদি আরব সফর করবেন।
একই সঙ্গে সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্সও বাংলাদেশ সফরে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে জানান তিনি। হুমায়ুন কবির বলেন, ‘সৌদি ক্রাউন প্রিন্সও বাংলাদেশ সফরের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তার সুবিধাজনক সময়ে তাকে স্বাগত জানাতে আমরাও দৃঢ়ভাবে প্রস্তুত রয়েছি।’
দুই দেশের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়েও সেমিনারে আলোচনা করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, সমুদ্র নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে কাজ করছে বাংলাদেশ। পাশাপাশি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির সম্ভাবনা নিয়েও ইতিবাচক আলোচনা চলছে।
হুমায়ুন কবির বলেন, ‘মেরিটাইম সিকিউরিটির ক্ষেত্রে আমরা সৌদি আরবের একটি শক্তিশালী অংশীদার। পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির বিষয়ে আমরা ইতিবাচক আলোচনা করছি। যদি এটি বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের অনুকূলে থাকে এবং তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, তবে আমরা এটিকে ইতিবাচকভাবেই দেখছি।’
মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। বিশেষ করে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের দক্ষতা মুসলিম দেশগুলোর জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে বলে মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী।
সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশিদের অধিকার ও কল্যাণের বিষয়েও সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, প্রবাসী কর্মীদের মর্যাদা, নিরাপত্তা ও ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং শ্রমিক ও নিয়োগকর্তা উভয় পক্ষের স্বার্থ সুরক্ষায় সৌদি সরকারের সহযোগিতার প্রশংসা করেন তিনি।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, বাংলাদেশ চায় সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশিদের শুধু শ্রমশক্তি হিসেবে নয়, বরং দেশটির উন্নয়নের অংশীদার হিসেবে মূল্যায়ন করা হোক।
সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (দ্বিপক্ষীয়) ড. মো. নজরুল ইসলাম।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এ এস এম রিদওয়ানুর রহমান এবং নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল হান্নান চৌধুরীসহ অন্যরা।
মন্তব্যসমূহ