দিল্লির নিউ সীমাপুরি এলাকায় চারতলা একটি আবাসিক ভবন ধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে চারজনে দাঁড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে ঈদগাহ মাছলি মান্ডি এলাকায় ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে আরও একটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দুর্ঘটনায় আহত আটজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। একই সঙ্গে ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কেউ আটকা পড়ে আছেন কি না, তা খুঁজে দেখতে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আহতদের উদ্ধার করে তাহিরপুরের রাজীব গান্ধী সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। আহতদের মধ্যে রয়েছেন মোমিন মির্জা (৫৬), তিন বছর বয়সী এক শিশু, আবদুল রহমান (২৮), দেবরুদ্দিন (২৮), সালমা (৫০), ছোটে (৩৪), সাকিনা (৩৫) ও সামাদ (৩০)।
নিহতদের মধ্যে প্রায় ১২ বছর বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে। তার পরিচয় এখনো জানা যায়নি। আরেক নিহত নারীকে গুলাফসা (২১) হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তিনি প্রায় চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। নিহত তৃতীয় শিশুটির পরিচয় ও বিস্তারিত তথ্যও এখনো জানা যায়নি।
উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য ঘটনাস্থলে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি নেওয়া হয়েছে। সেখানে অ্যাম্বুলেন্স, দিল্লি ফায়ার সার্ভিস, দিল্লি মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা কাজ করছেন।
শাহদারা পুলিশের উপকমিশনার রাজেন্দ্র প্রসাদ মীনা জানান, ধসে পড়া ভবনটি চারতলা এবং এর আয়তন ২৫ বর্গগজ। তিনি বলেন, ‘আমরা বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে খবর পাই। এটি চারতলা ভবন। ভবনটির আয়তন ২৫ বর্গগজ। এখন পর্যন্ত সাতজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তারা আশঙ্কামুক্ত। উদ্ধার অভিযান চলছে। ঘটনাস্থলে সব সংস্থার সদস্যরা উপস্থিত আছেন। অ্যাম্বুলেন্স ও দিল্লি ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের মোতায়েন করা হয়েছে। দিল্লি মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের কর্মকর্তা, জেলা ম্যাজিস্ট্রেটসহ সবাই ঘটনাস্থলে আছেন।’
জ্যেষ্ঠ ফায়ার কর্মকর্তা মনীশ কুমার জানান, ধ্বংসস্তূপের নিচে কয়েকজন আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের নিয়ন্ত্রণকক্ষ বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে খবর পায়। বলা হচ্ছে, কয়েকজন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে আছেন। উদ্ধার অভিযান চলছে।’
উত্তর-পূর্ব দিল্লির জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অজয় কুমার জানান, বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটের দিকে রাস্তার একেবারে কোণায় থাকা ভবনটি ধসে পড়ে। ভবনটি প্রায় ২২ থেকে ২৫ বর্গগজ জায়গাজুড়ে ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে তিনি জানান, পাশের একটি ভবন ভাঙার কাজ চলছিল। সম্ভবত যন্ত্রপাতি ব্যবহারের ফলে সৃষ্ট কম্পনের প্রভাবেই ভবনটি ধসে পড়ে। দুর্ঘটনার সময় ভবনের ভেতরে প্রায় সাত থেকে আটজন ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অজয় কুমার বলেন, ‘বর্তমানে উদ্ধার অভিযান চলছে। আমরা জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী, দিল্লি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ও দিল্লি মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের যন্ত্রপাতি ও সদস্যদের মোতায়েন করেছি। অন্য সংস্থাগুলোর সদস্যরাও কাজ করছেন। এখন পর্যন্ত আটজন আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। একজন নারীকে হাসপাতালে নেওয়ার পর মৃত ঘোষণা করা হয়েছে। ভবনের ভেতরে আরও দুই থেকে তিনজন আটকা পড়ে থাকতে পারেন।’
দিল্লির সত্য নিকেতন এলাকায় গত ৬ সেপ্টেম্বর একটি ভবন ধসে সাতজন নিহত হওয়ার এক মাসের মাথায় সীমাপুরিতে নতুন এই দুর্ঘটনা ঘটল।
মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর দিল্লি ফায়ার সার্ভিস, দিল্লি পুলিশ, দিল্লি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ, দিল্লি মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন, সেন্ট্রালাইজড অ্যাক্সিডেন্ট অ্যান্ড ট্রমা সার্ভিস এবং জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। ধ্বংসস্তূপে আটকা পড়াদের উদ্ধারের পাশাপাশি আহতদের দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা ও কর্মকর্তাকে সমন্বয়ের মাধ্যমে উদ্ধারকাজ পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় সহায়তা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করতে বলেছেন। তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।’
দিল্লির পরিবেশমন্ত্রী মনজিন্দর সিং সিরসাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘দিল্লি ফায়ার সার্ভিস, দিল্লি পুলিশ, দিল্লি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ, দিল্লি মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন, সেন্ট্রালাইজড অ্যাক্সিডেন্ট অ্যান্ড ট্রমা সার্ভিস এবং জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর দল ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজে যুক্ত রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়া ব্যক্তিদের নিরাপদে উদ্ধারের জন্য ধারাবাহিকভাবে চেষ্টা চলছে। আহতদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তার নির্দেশে প্রশাসন পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সম্ভব সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।’
সূত্র : এএনআই নিউজ
মন্তব্যসমূহ