বাংলাদেশের জনশক্তিকে দক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানের করে গড়ে তুলতে কাজ করতে আগ্রহী সুইজারল্যান্ড। দেশটির রাষ্ট্রদূত রেতো রেংগলি বলেছেন, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নে আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করতে চায় সুইজারল্যান্ড।
রোববার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে তার দপ্তরে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন।
বৈঠকে সুইস রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ ও সুইজারল্যান্ডের মধ্যে গত ১৫ বছরের সুসম্পর্ক ও নিবিড় সহযোগিতার কথা তুলে ধরেন। বিদেশফেরত বাংলাদেশি কর্মীদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পুনর্বাসনের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
রেতো রেংগলি বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যাগত সুবিধা বা ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড একটি বড় সম্ভাবনা। এই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে বৈদেশিক কর্মসংস্থান গুরুত্বপূর্ণ হলেও দেশে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি আরও কার্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ।
বৈঠকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ ও সুইজারল্যান্ডের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ অভিবাসন ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করতে সুইজারল্যান্ড ধারাবাহিক সহযোগিতা দিয়ে আসছে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ও অস্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, এই সংকটের কারণে অনেক বাংলাদেশি কর্মী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং দেশে ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন। এ অবস্থায় প্রত্যাবর্তনকারী কর্মীদের পুনর্বাসন, কর্মসংস্থান ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি।
এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার মাধ্যমে সুইজারল্যান্ডের সহযোগিতার প্রশংসা করেন মন্ত্রী। ভবিষ্যতেও এ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
মন্ত্রী ‘ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট প্ল্যাটফর্ম’ উন্নয়নে সুইজারল্যান্ডের কারিগরি সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, এই প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশের অভিবাসন ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক, স্বচ্ছ ও কার্যকর করেছে।
তবে প্ল্যাটফর্মটি আরও শক্তিশালী করতে জনবল চাহিদা ব্যবস্থাপনা, মেডিক্যাল সেন্টার সংযুক্তকরণ, জব পোর্টাল উন্নয়ন এবং একটি ডেডিকেটেড মোবাইল অ্যাপ চালুর ক্ষেত্রে সুইজারল্যান্ডের কারিগরি সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, বর্তমান সরকার নিরাপদ কর্মপরিবেশ, শ্রমিক কল্যাণ, সামাজিক সুরক্ষা এবং দক্ষতা উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক শিল্পখাতের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে কারিগরি ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।
সুইজারল্যান্ডের কারিগরি শিক্ষা ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণের বৈশ্বিক সুনামের কথা উল্লেখ করে তিনি এ খাতে দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তরুণ ও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী। সুইজারল্যান্ডের স্বাস্থ্যসেবা, কেয়ারগিভিং, তথ্যপ্রযুক্তি, প্রকৌশল, হসপিটালিটি ও নির্মাণ খাতের মতো বিশেষায়িত ক্ষেত্রে বাংলাদেশি দক্ষ কর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারেন।
এ ছাড়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য সুইজারল্যান্ডের বৃত্তির সুযোগ বাড়াতে রাষ্ট্রদূতের সহযোগিতা কামনা করেন মন্ত্রী।
বৈঠকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ বলেন, সুইজারল্যান্ডে অবস্থানকারী বাংলাদেশি ডায়াসপোরা কমিউনিটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। দুই দেশের সম্পর্ক ও বিভিন্ন খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বাড়াতে এই কমিউনিটিকে কার্যকরভাবে কাজে লাগানো যেতে পারে।
বৈঠকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার, সুইজারল্যান্ডের মাইগ্রেশন ও প্রটেকশনের আঞ্চলিক উপদেষ্টা লিসা গ্রেমিঙ্গার, আঞ্চলিক প্রোগ্রাম ব্যবস্থাপক নাজিয়া হায়দারসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্যসমূহ