ঢাকা    সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ ২২ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

শিক্ষকরাই আগামীর বাংলাদেশ গড়ার প্রধান কারিগর: শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষকরাই আগামীর বাংলাদেশ গড়ার প্রধান কারিগর: শিক্ষামন্ত্রী
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

শিক্ষকরাই ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রধান কারিগর বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। শিক্ষকদের মর্যাদা কেবল আনুষ্ঠানিক সম্মাননার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বেতন, নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশেও তার বাস্তব প্রতিফলন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. মিলন বলেন, ‘শিক্ষকরাই আগামীর বাংলাদেশ গড়ার নির্মাতা। একটি শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক শুধু প্রতিদিন পাঠদান করেন না, তিনি প্রতিদিন আগামীর বাংলাদেশ গড়ে তোলেন।’

শিক্ষকদের দায়িত্বের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘ন্যায়সংগত আচরণ করা, শিক্ষার্থীদের মানবিক মূল্যবোধে শিক্ষিত করা এবং তাদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করাই শিক্ষকদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। শিক্ষকদের সম্ভাবনার বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। সময়ের চাহিদা অনুযায়ী তাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও প্রশিক্ষণের ব্যবহারিক প্রয়োগ নিশ্চিত করাও জরুরি।’

শিক্ষামন্ত্রীর মতে, একজন মানুষের প্রথম শিক্ষক তার বাবা-মা। সন্তান স্কুল-কলেজে যাওয়ার পর দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষকরা তার জ্ঞান, দক্ষতা ও মূল্যবোধ গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখেন। এ কারণে জাতি গঠনে শিক্ষক সমাজের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

শিক্ষকদের মর্যাদা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তবে শিক্ষকদের মর্যাদা শুধু ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। এর বাস্তব প্রতিফলন থাকতে হবে তাদের বেতন, নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশে। শিক্ষকদের সমস্যাগুলো শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে গুরুত্ব দিয়ে শুনতে হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।’

অভিজ্ঞ শিক্ষকদের শিক্ষা সংস্কারের সঙ্গে সম্পৃক্ত রাখার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন ড. মিলন। ভবিষ্যতে তাদের অভিজ্ঞতা ও মতামত কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

মেধাবী তরুণদের শিক্ষকতা পেশায় আকৃষ্ট করার প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এক সময় যারা শ্রেণিতে প্রথম হতো, তাদের অনেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা কিংবা শিক্ষা পেশায় আসতে আগ্রহী ছিল। বর্তমানে আমরা সেই জায়গা থেকে অনেক দূরে চলে গেছি। এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে মেধাবী তরুণরা শিক্ষকতাকে নিজেদের পেশা হিসেবে বেছে নেবে।’

শিক্ষার্থীদের প্রতি শিক্ষকদের আরও মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শ্রেণিকক্ষের পেছনের বেঞ্চে বসে থাকা নীরব শিক্ষার্থীটিকেও খুঁজে বের করতে হবে। তাকে প্রশ্ন করতে হবে, উৎসাহ দিতে হবে এবং সামনে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করতে হবে। কারণ আজকের সেই পেছনের বেঞ্চের শিক্ষার্থীই ভবিষ্যতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আসীন হতে পারে। শিক্ষকদের পাশে সরকার থাকবে। তাদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

বিশ্ব শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শিক্ষামন্ত্রী জানান, আগে এ দিবসে ১২ জন শিক্ষককে সম্মাননা দেওয়া হলেও এবার প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে সংখ্যাটি বাড়িয়ে ১০২ জন করা হয়েছে। সম্মাননা হিসেবে শিক্ষকদের পদক, দুই লাখ টাকার চেক ও সনদ দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. সেলিম ভূঁইয়া, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এবং জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ।

ট্যাগ : শিক্ষামন্ত্রী বিশ্ব শিক্ষক দিবস

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬


শিক্ষকরাই আগামীর বাংলাদেশ গড়ার প্রধান কারিগর: শিক্ষামন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ০৫ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

শিক্ষকরাই ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রধান কারিগর বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। শিক্ষকদের মর্যাদা কেবল আনুষ্ঠানিক সম্মাননার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বেতন, নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশেও তার বাস্তব প্রতিফলন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. মিলন বলেন, ‘শিক্ষকরাই আগামীর বাংলাদেশ গড়ার নির্মাতা। একটি শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক শুধু প্রতিদিন পাঠদান করেন না, তিনি প্রতিদিন আগামীর বাংলাদেশ গড়ে তোলেন।’

শিক্ষকদের দায়িত্বের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘ন্যায়সংগত আচরণ করা, শিক্ষার্থীদের মানবিক মূল্যবোধে শিক্ষিত করা এবং তাদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করাই শিক্ষকদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। শিক্ষকদের সম্ভাবনার বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। সময়ের চাহিদা অনুযায়ী তাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও প্রশিক্ষণের ব্যবহারিক প্রয়োগ নিশ্চিত করাও জরুরি।’

শিক্ষামন্ত্রীর মতে, একজন মানুষের প্রথম শিক্ষক তার বাবা-মা। সন্তান স্কুল-কলেজে যাওয়ার পর দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষকরা তার জ্ঞান, দক্ষতা ও মূল্যবোধ গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখেন। এ কারণে জাতি গঠনে শিক্ষক সমাজের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

শিক্ষকদের মর্যাদা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তবে শিক্ষকদের মর্যাদা শুধু ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। এর বাস্তব প্রতিফলন থাকতে হবে তাদের বেতন, নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশে। শিক্ষকদের সমস্যাগুলো শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে গুরুত্ব দিয়ে শুনতে হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।’

অভিজ্ঞ শিক্ষকদের শিক্ষা সংস্কারের সঙ্গে সম্পৃক্ত রাখার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন ড. মিলন। ভবিষ্যতে তাদের অভিজ্ঞতা ও মতামত কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

মেধাবী তরুণদের শিক্ষকতা পেশায় আকৃষ্ট করার প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এক সময় যারা শ্রেণিতে প্রথম হতো, তাদের অনেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা কিংবা শিক্ষা পেশায় আসতে আগ্রহী ছিল। বর্তমানে আমরা সেই জায়গা থেকে অনেক দূরে চলে গেছি। এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে মেধাবী তরুণরা শিক্ষকতাকে নিজেদের পেশা হিসেবে বেছে নেবে।’

শিক্ষার্থীদের প্রতি শিক্ষকদের আরও মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শ্রেণিকক্ষের পেছনের বেঞ্চে বসে থাকা নীরব শিক্ষার্থীটিকেও খুঁজে বের করতে হবে। তাকে প্রশ্ন করতে হবে, উৎসাহ দিতে হবে এবং সামনে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করতে হবে। কারণ আজকের সেই পেছনের বেঞ্চের শিক্ষার্থীই ভবিষ্যতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আসীন হতে পারে। শিক্ষকদের পাশে সরকার থাকবে। তাদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

বিশ্ব শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শিক্ষামন্ত্রী জানান, আগে এ দিবসে ১২ জন শিক্ষককে সম্মাননা দেওয়া হলেও এবার প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে সংখ্যাটি বাড়িয়ে ১০২ জন করা হয়েছে। সম্মাননা হিসেবে শিক্ষকদের পদক, দুই লাখ টাকার চেক ও সনদ দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. সেলিম ভূঁইয়া, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এবং জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ