হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের লাগেজ ও ট্রলি ব্যবস্থাপনা নিয়ে সরকারের সক্ষমতার প্রশ্ন তুলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম। একই সঙ্গে বিমানবন্দরের ঘটনায় মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার ও রিমান্ডে নেওয়ার সমালোচনা করেছেন তিনি।
শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেল ৪টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এসব কথা বলেন সাদিক কায়েম।
স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, ‘একটি দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর রাষ্ট্রের সক্ষমতা ও ব্যবস্থাপনার প্রতিচ্ছবি। অথচ ২০২৬ সালের স্কাইট্রাক্স র্যাংকিংয়ে সাউথ এশিয়া অঞ্চলের সেরা ১০ বিমানবন্দরের তালিকায়ও নেই ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর; বিশ্বের সেরা ১০০ বিমানবন্দরের তালিকাতেও জায়গা হয়নি।’
বিমানবন্দরে যাত্রীদের ভোগান্তির প্রসঙ্গ তুলে সাদিক কায়েম বলেন, ‘তিনি কথা বলেছিলেন সেই প্রবাসীদের পক্ষে, যারা বাংলাদেশের অর্থনীতির অক্সিজেন, যাদের পাঠানো রেমিট্যান্সে সরকার দেশ চালায়। প্রশ্ন তুলেছিলেন বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনা ও প্রবাসীদের ভোগান্তি নিয়ে। কিন্তু প্রতিবাদের জবাবে আমরা কি দেখলাম? যাদের ব্যর্থতার কারণে প্রবাসীদের ল্যাগেজ চুরি হয়, মালামাল ঠিকভাবে পাওয়া যায় না তাদের কিছু হলো না। অথচ যিনি ভোগান্তির শিকার হলেন, প্রতিবাদ করলেন, তাকে অ্যারেস্ট করা হলো মামলার ঘণ্টাখানেকের মধ্যে।’
রাড্ডায় হাসপাতাল ভাঙচুর এবং সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার ঘটনাও নিজের স্ট্যাটাসে টেনে আনেন ডাকসু ভিপি।
তিনি লিখেছেন, ‘যে সরকার রাড্ডায় হাসপাতাল ভাঙচুরকারীদের এক সপ্তাহেও গ্রেপ্তার করতে পারল না, সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলাকারীদের ধরতে পারল না, সেই ধ্বজভঙ্গ সরকার নাগরিক অধিকারের পক্ষে সোচ্চার হওয়ায় মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে মামলার ঘণ্টাখানেকের মধ্যে গ্রেপ্তার করে ফেলল! একজন সিনিয়র সিটিজেন ও মুক্তিযোদ্ধাকে হ্যান্ডকাফ ও মাথায় হেলমেট পরিয়ে আদালতে আনা হলো, রিমান্ড দেওয়া হলো। শেইম!’
সরকারের প্রবাসীনীতি নিয়েও অভিযোগ করেন সাদিক কায়েম। তিনি লিখেছেন, ‘বিএনপি সরকার শুরু থেকেই খুল্লামখুল্লা প্রবাসীবিদ্বেষী আচরণ করছে। তারা নির্বাচনের আগে থেকে বারবার প্রবাসীদের ভোটাধিকারের বিরোধিতা করেছে, তাদেরকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছে, আর এখন তাদের ভোগান্তি নিয়ে কথা বলায় একজন সিনিয়র সিটিজেনকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিচ্ছে।’
স্ট্যাটাসের শেষ দিকে সরকারের রাষ্ট্র পরিচালনার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সাদিক কায়েম বলেন, যে সরকার একটি বিমানবন্দরের ল্যাগেজ ও ট্রলি ম্যানেজমেন্ট করতে পারে না, সেই সরকার ৫ বছর ঠিকঠাক কীভাবে রাষ্ট্র চালাবে।
মন্তব্যসমূহ