ঢাকা    শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ ২০ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

হুথিবিরোধী লড়াইয়ে ইয়েমেনকে সামরিক সরঞ্জাম দিল পাকিস্তান

হুথিবিরোধী লড়াইয়ে ইয়েমেনকে সামরিক সরঞ্জাম দিল পাকিস্তান
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থিত ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সহায়তায় পাকিস্তান চারটি কার্গো বিমানে সামরিক সরঞ্জাম পাঠিয়েছে। সেপ্টেম্বরে পাঠানো এসব চালানে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, হালকা কামান, ড্রোন ও ড্রোন প্রতিরোধী সরঞ্জাম ছিল বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়েমেনে সৌদি সামরিক বাহিনীর সঙ্গে পাকিস্তানি সামরিক উপদেষ্টারাও কাজ করছেন। তবে পাকিস্তানসহ সৌদি আরবের মিত্র দেশগুলো সরাসরি যুদ্ধ অভিযানে অংশ নেবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে না। তাদের সহায়তা মূলত প্রতিরক্ষামূলক পর্যায়ে থাকার কথা।

এমন সময়ে পাকিস্তানের সামরিক সহায়তার তথ্য সামনে এলো, যখন ইরান-সমর্থিত হুথিদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে সৌদি আরব। আঞ্চলিক ও পশ্চিমা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে অভিযান শুরু হতে পারে।

পরিকল্পিত অভিযানে স্থলভাগে নেতৃত্ব দেওয়ার কথা সৌদি আরবের তত্ত্বাবধানে থাকা ইয়েমেনি বাহিনীর। তাদের সহায়তায় সৌদি আরব বিমান হামলা চালাবে। অভিযানের পরিধির ওপর নির্ভর করে এক লাখের বেশি ইয়েমেনি সেনা মোতায়েন করা হতে পারে।

সৌদি আরবের সামনে অভিযানের দুটি বিকল্প রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একটি হলো বাব আল-মান্দেব প্রণালির আশপাশের এলাকায় সীমিত অভিযান। অন্য পরিকল্পনায় আল-বাইদা, মারিব, তাইজ ও আল-জাওফসহ ইয়েমেনের একাধিক ফ্রন্টে সমন্বিতভাবে বড় অভিযান চালানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

হুথিরা গত মাসে দ্রুত অগ্রসর হয়ে ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পাশাপাশি কৌশলগত বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেয়। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার সৌদি আরবের পরিকল্পিত অভিযানের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

ইয়েমেনের সংঘাত সাম্প্রতিক সময়ে আবারও তীব্র হয়েছে। বিশেষ করে তাইজসহ বিভিন্ন এলাকায় লড়াই বেড়েছে। হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার জবাবে সৌদি আরবও বিমান হামলা চালাচ্ছে।

অন্যদিকে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের সামরিক সহযোগিতাও সম্প্রতি আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। তিন দেশ গত ৭ আগস্ট ‘মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স অ্যাগ্রিমেন্ট’ স্বাক্ষর করে। চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

গত ২৫ সেপ্টেম্বর রিয়াদে তিন দেশের সামরিক প্রধানরা বৈঠক করেন। সেখানে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, সামরিক সমন্বয় ও সক্ষমতার সমন্বয় আরও বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। হুথিদের সৌদি আরবের বেসামরিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে চালানো হামলারও নিন্দা করেন তারা।

এদিকে হুথিদের মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমর্থন জোরদারের পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগও নিয়েছে রিয়াদ। গত ২৯ সেপ্টেম্বর আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্ট শেখ মনসুর বিন জায়েদ আল নাহিয়ান সৌদি আরব সফর করে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠক করেন।

সূত্র : রয়টার্স

ট্যাগ : সৌদি আরব পাকিস্তান হুথি ইয়েমেন

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬


হুথিবিরোধী লড়াইয়ে ইয়েমেনকে সামরিক সরঞ্জাম দিল পাকিস্তান

প্রকাশের তারিখ : ০৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থিত ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সহায়তায় পাকিস্তান চারটি কার্গো বিমানে সামরিক সরঞ্জাম পাঠিয়েছে। সেপ্টেম্বরে পাঠানো এসব চালানে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, হালকা কামান, ড্রোন ও ড্রোন প্রতিরোধী সরঞ্জাম ছিল বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়েমেনে সৌদি সামরিক বাহিনীর সঙ্গে পাকিস্তানি সামরিক উপদেষ্টারাও কাজ করছেন। তবে পাকিস্তানসহ সৌদি আরবের মিত্র দেশগুলো সরাসরি যুদ্ধ অভিযানে অংশ নেবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে না। তাদের সহায়তা মূলত প্রতিরক্ষামূলক পর্যায়ে থাকার কথা।

এমন সময়ে পাকিস্তানের সামরিক সহায়তার তথ্য সামনে এলো, যখন ইরান-সমর্থিত হুথিদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে সৌদি আরব। আঞ্চলিক ও পশ্চিমা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে অভিযান শুরু হতে পারে।

পরিকল্পিত অভিযানে স্থলভাগে নেতৃত্ব দেওয়ার কথা সৌদি আরবের তত্ত্বাবধানে থাকা ইয়েমেনি বাহিনীর। তাদের সহায়তায় সৌদি আরব বিমান হামলা চালাবে। অভিযানের পরিধির ওপর নির্ভর করে এক লাখের বেশি ইয়েমেনি সেনা মোতায়েন করা হতে পারে।

সৌদি আরবের সামনে অভিযানের দুটি বিকল্প রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একটি হলো বাব আল-মান্দেব প্রণালির আশপাশের এলাকায় সীমিত অভিযান। অন্য পরিকল্পনায় আল-বাইদা, মারিব, তাইজ ও আল-জাওফসহ ইয়েমেনের একাধিক ফ্রন্টে সমন্বিতভাবে বড় অভিযান চালানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

হুথিরা গত মাসে দ্রুত অগ্রসর হয়ে ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পাশাপাশি কৌশলগত বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেয়। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার সৌদি আরবের পরিকল্পিত অভিযানের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

ইয়েমেনের সংঘাত সাম্প্রতিক সময়ে আবারও তীব্র হয়েছে। বিশেষ করে তাইজসহ বিভিন্ন এলাকায় লড়াই বেড়েছে। হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার জবাবে সৌদি আরবও বিমান হামলা চালাচ্ছে।

অন্যদিকে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের সামরিক সহযোগিতাও সম্প্রতি আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। তিন দেশ গত ৭ আগস্ট ‘মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স অ্যাগ্রিমেন্ট’ স্বাক্ষর করে। চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

গত ২৫ সেপ্টেম্বর রিয়াদে তিন দেশের সামরিক প্রধানরা বৈঠক করেন। সেখানে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, সামরিক সমন্বয় ও সক্ষমতার সমন্বয় আরও বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। হুথিদের সৌদি আরবের বেসামরিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে চালানো হামলারও নিন্দা করেন তারা।

এদিকে হুথিদের মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমর্থন জোরদারের পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগও নিয়েছে রিয়াদ। গত ২৯ সেপ্টেম্বর আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্ট শেখ মনসুর বিন জায়েদ আল নাহিয়ান সৌদি আরব সফর করে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠক করেন।

সূত্র : রয়টার্স


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ