ঢাকা    শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ ২০ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

ট্রাম্পের প্রচারণাধর্মী বিজ্ঞাপনে বরাদ্দ ২ কোটি ডলার, সমালোচনা তুঙ্গে

ট্রাম্পের প্রচারণাধর্মী বিজ্ঞাপনে বরাদ্দ ২ কোটি ডলার, সমালোচনা তুঙ্গে
ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের নীতিগুলো তুলে ধরতে অন্তত ১৩টি প্রচারণাধর্মী বিজ্ঞাপন তৈরি করেছে হোয়াইট হাউস। করদাতাদের অর্থে পরিচালিত এই বিজ্ঞাপন উদ্যোগের জন্য মোট ২ কোটি ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে। রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাডইমপ্যাক্টের হিসাবে, ইতিমধ্যে অন্তত আনুমানিক ৫৬ লাখ ডলার ব্যয় হয়েছে।

বিপুল সরকারি অর্থে এসব বিজ্ঞাপন তৈরি ও প্রচার নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি কয়েকজন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাও প্রশ্ন তুলেছেন। তবে হোয়াইট হাউসের দাবি, এগুলো রাজনৈতিক প্রচারণার বিজ্ঞাপন নয়; বরং জনসেবামূলক ঘোষণা।

সিএনএন ১৩টি বিজ্ঞাপনের মধ্যে ১২টির ভিডিও ক্লিপ পেয়েছে। এগুলোর দৈর্ঘ্য ১৫ সেকেন্ড থেকে তিন মিনিট পর্যন্ত। ভিডিওগুলো বিজ্ঞাপন প্রচারের সরকারি চুক্তি পাওয়া প্রতিষ্ঠান এলএমডি পরিচালিত একটি ড্রপবক্স অ্যাকাউন্টে রাখা ছিল। প্রতিটি বিজ্ঞাপনের শেষে ‘পেইড ফর বাই দ্য ইউএস গভর্নমেন্ট’ বা ‘মার্কিন সরকারের অর্থায়নে’ লেখা রয়েছে।

বিজ্ঞাপনগুলোর মধ্যে তিনটিতে মার্কিন সামরিক বাহিনী এবং ইরান ও ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান তুলে ধরা হয়েছে। রয়েছে ‘গড মেড ট্রাম্প’ শিরোনামের তিন মিনিটের একটি ভিডিও এবং হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প আয়োজিত ইউএফসি লড়াইকে কেন্দ্র করে তৈরি আরেকটি বিজ্ঞাপন।

‘ফাইনাল ব্যাটল’ নামে আরেকটি বিজ্ঞাপন ওই ড্রপবক্স অ্যাকাউন্টে না থাকলেও সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সেটি প্রচার করা হয়েছে। তিনটি বিজ্ঞাপন সিবিএস, সিএনএন, এমএস নাও, ফক্স নিউজ ও ফক্সসহ বিভিন্ন টেলিভিশন নেটওয়ার্কে দেখানো হয়েছে। তবে সব বিজ্ঞাপন টেলিভিশন নাকি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রচার করা হবে, তা স্পষ্ট নয়।

বিজ্ঞাপনগুলোতে ট্রাম্পের বিভিন্ন সময়ের ছবি ও ভিডিওর পাশাপাশি তার বিষয়ে সংবাদ প্রতিবেদনে করা ইতিবাচক মন্তব্যের অডিও ব্যবহার করা হয়েছে। দেশাত্মবোধক বিভিন্ন দৃশ্যও রাখা হয়েছে। এর মধ্যে সামরিক বাহিনীর স্নাতক সমাপনী অনুষ্ঠানে ক্যাপ ছুড়ে দেওয়ার দৃশ্য, মাউন্ট রাশমোরে আতশবাজি এবং সামরিক বিমানের উড্ডয়ন প্রদর্শন রয়েছে। বেশ কয়েকটি বিজ্ঞাপনে ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পকেও দেখা গেছে।

এ ছাড়া ট্রাম্পের পাল্টা শুল্ক ঘোষণার দৃশ্য, সীমান্তপ্রাচীর, ২০১৫ সালে প্রেসিডেন্ট প্রার্থিতা ঘোষণার সময় ট্রাম্প টাওয়ারের এসকেলেটর দিয়ে নেমে আসার ভিডিও এবং তার ‘প্রেসিডেনশিয়াল ওয়াক অব ফেম’-এর বিভিন্ন দৃশ্য ব্যবহার করা হয়েছে।

সিএনএনের আগের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিজ্ঞাপন তৈরির প্রক্রিয়ায় ট্রাম্প নিজেও সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। কোন ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করা হবে, তা বাছাইয়েও তিনি সহায়তা করেছেন বলে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র জানিয়েছে। ট্রাম্পের দুই উপদেষ্টার ভাষ্য অনুযায়ী, হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ বিভাগের অধীন ভিডিও দল এসব বিজ্ঞাপন তৈরি করছে। তবে অন্তত একটি বিজ্ঞাপন ট্রাম্পপন্থী একটি মিম গ্রুপ তৈরি করেছে।

‘ইউএফসি ২৫০’ নামের বিজ্ঞাপনে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প আয়োজিত জুনের লড়াই তুলে ধরা হয়েছে। এতে ইউএফসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ডানা হোয়াইট, লড়াইয়ে অংশ নেওয়া খেলোয়াড়, অক্টাগনের ওপর আলোকিত ‘ক্ল’ এবং চ্যাম্পিয়নশিপ বেল্টের দৃশ্য রয়েছে।

‘মাদুরো’ শিরোনামের বিজ্ঞাপনে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর একটি ভাষণের সঙ্গে মার-আ-লাগোয় ট্রাম্প ও তার দলের সদস্যদের উপস্থিতির দৃশ্য যুক্ত করা হয়েছে। মাদুরোকে আটক করার পরের দৃশ্যও এতে রাখা হয়েছে।

‘মিলিটারি হাইপ’ বিজ্ঞাপনে যুদ্ধবিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের মতো দৃশ্যের পাশাপাশি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর ঘোষণা দিয়ে ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্পের দেওয়া ভাষণের অংশ রয়েছে।

সেখানে ট্রাম্পকে বলতে শোনা যায়, “এই শাসকগোষ্ঠী শিগগিরই বুঝতে পারবে, যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনীর শক্তি ও সামর্থ্যকে কারও চ্যালেঞ্জ করা উচিত নয়।”

দুই মিনিটের ‘কিং অব দ্য জঙ্গল’ ভিডিওতে ট্রাম্পের কয়েকজন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ছবি রয়েছে। তাদের মধ্যে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও জো বাইডেন, প্রতিনিধি পরিষদের সাবেক স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন এবং ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম রয়েছেন। ভিডিওতে সিংহের শিকার এবং পানির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়া একটি সাদা মাথার ঈগলের দৃশ্যও ব্যবহার করা হয়েছে।

‘গড মেড ট্রাম্প’ বিজ্ঞাপনটি ডালাসে রিপাবলিকানদের মধ্যবর্তী নির্বাচনসংক্রান্ত সম্মেলনে দেখানো হয়েছিল। পল হার্ভির ‘গড মেড আ ফার্মার’ বক্তব্যের আদলে তৈরি ভিডিওটির ভয়েসওভারে বলা হয়, “ঈশ্বর এমন একজনকে চাইলেন যাঁর বাহু এতটাই শক্তিশালী যে তা দিয়ে ডিপ স্টেট গুঁড়িয়ে দেওয়া যায়, আবার তা এতটাই কোমল যেমন কোমলতায় নিজের নাতি-নাতনিকে কোলে তুলে নেওয়া হয়। তাই ঈশ্বর ট্রাম্পকে সৃষ্টি করলেন।”

এনপিআরের তথ্য অনুযায়ী, বিজ্ঞাপনটি তৈরি করেছে ‘ডিলি মিম টিম’।

‘রেজিলিয়েন্স’ বিজ্ঞাপনে নিউইয়র্কে ট্রাম্পের রিয়েল এস্টেট ব্যবসার শুরুর সময় থেকে হোয়াইট হাউস পর্যন্ত তার জীবনের বিভিন্ন পর্যায় তুলে ধরা হয়েছে। এতে ‘দ্য অপরাহ উইনফ্রে শো’-তে তার উপস্থিতি, ২০১৫ সালের প্রেসিডেন্ট প্রার্থিতা ঘোষণা, ২০২৩ সালে জর্জিয়ার ফুলটন কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ে তোলা মাগশট এবং পেনসিলভানিয়ার বাটলারে তাকে হত্যাচেষ্টার ঘটনার ভিডিও রয়েছে।

বিজ্ঞাপনগুলোর অর্থায়ন নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুটি সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছে, অর্থ আসছে ইউএস কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি) থেকে। এই প্রচেষ্টার জন্য মোট ২ কোটি ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে।

এদিকে প্রতিনিধি পরিষদের জুডিশিয়ারি কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য জেমি রাসকিন এসব বিজ্ঞাপনে সরকারি সম্পদ ব্যবহারের বৈধতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন। কয়েকটি নজরদারি সংগঠনও দাবি করেছে, প্রচারণামূলক বা দলীয় উদ্দেশ্যে ফেডারেল অর্থ ব্যবহারে যে বিধিনিষেধ রয়েছে, এসব বিজ্ঞাপন তা লঙ্ঘন করতে পারে। তবে বিষয়টি এখনো আইনি প্রক্রিয়ায় চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হয়নি।

রিপাবলিকান সিনেটর থম টিলিসও সরকারি অর্থে বিজ্ঞাপন প্রচারের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, “দেখুন, আপনি যদি আপনার সুপার পিএসি (পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি) বা অন্য কোনো প্রচারণা তহবিল থেকে অর্থ খরচ করে এই বার্তা দিতে চান, তাহলে ঠিক আছে। কিন্তু এটি উপযুক্ত কোনো জনসেবামূলক ঘোষণা নয়। এটি নয়। আপনারা জানেন, করদাতার অর্থ এভাবে খরচ করা আমাদের উচিত নয়।”

টেক্সাসের রিপাবলিকান সিনেটর জন কর্নিনও এসব বিজ্ঞাপনকে করদাতার অর্থ ব্যবহারের উপযুক্ত উপায় বলে মনে করেন না।

সমালোচনার মধ্যেও বিজ্ঞাপনগুলো বন্ধে কংগ্রেস এখন পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। হোয়াইট হাউসও এগুলোকে জনসেবামূলক ঘোষণা হিসেবে সমর্থন করে প্রচারণাটি আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে।

সূত্র : সিএনএন

ট্যাগ : ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র হোয়াইট হাউস

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬


ট্রাম্পের প্রচারণাধর্মী বিজ্ঞাপনে বরাদ্দ ২ কোটি ডলার, সমালোচনা তুঙ্গে

প্রকাশের তারিখ : ০৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের নীতিগুলো তুলে ধরতে অন্তত ১৩টি প্রচারণাধর্মী বিজ্ঞাপন তৈরি করেছে হোয়াইট হাউস। করদাতাদের অর্থে পরিচালিত এই বিজ্ঞাপন উদ্যোগের জন্য মোট ২ কোটি ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে। রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাডইমপ্যাক্টের হিসাবে, ইতিমধ্যে অন্তত আনুমানিক ৫৬ লাখ ডলার ব্যয় হয়েছে।

বিপুল সরকারি অর্থে এসব বিজ্ঞাপন তৈরি ও প্রচার নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি কয়েকজন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাও প্রশ্ন তুলেছেন। তবে হোয়াইট হাউসের দাবি, এগুলো রাজনৈতিক প্রচারণার বিজ্ঞাপন নয়; বরং জনসেবামূলক ঘোষণা।

সিএনএন ১৩টি বিজ্ঞাপনের মধ্যে ১২টির ভিডিও ক্লিপ পেয়েছে। এগুলোর দৈর্ঘ্য ১৫ সেকেন্ড থেকে তিন মিনিট পর্যন্ত। ভিডিওগুলো বিজ্ঞাপন প্রচারের সরকারি চুক্তি পাওয়া প্রতিষ্ঠান এলএমডি পরিচালিত একটি ড্রপবক্স অ্যাকাউন্টে রাখা ছিল। প্রতিটি বিজ্ঞাপনের শেষে ‘পেইড ফর বাই দ্য ইউএস গভর্নমেন্ট’ বা ‘মার্কিন সরকারের অর্থায়নে’ লেখা রয়েছে।

বিজ্ঞাপনগুলোর মধ্যে তিনটিতে মার্কিন সামরিক বাহিনী এবং ইরান ও ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান তুলে ধরা হয়েছে। রয়েছে ‘গড মেড ট্রাম্প’ শিরোনামের তিন মিনিটের একটি ভিডিও এবং হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প আয়োজিত ইউএফসি লড়াইকে কেন্দ্র করে তৈরি আরেকটি বিজ্ঞাপন।

‘ফাইনাল ব্যাটল’ নামে আরেকটি বিজ্ঞাপন ওই ড্রপবক্স অ্যাকাউন্টে না থাকলেও সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সেটি প্রচার করা হয়েছে। তিনটি বিজ্ঞাপন সিবিএস, সিএনএন, এমএস নাও, ফক্স নিউজ ও ফক্সসহ বিভিন্ন টেলিভিশন নেটওয়ার্কে দেখানো হয়েছে। তবে সব বিজ্ঞাপন টেলিভিশন নাকি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রচার করা হবে, তা স্পষ্ট নয়।

বিজ্ঞাপনগুলোতে ট্রাম্পের বিভিন্ন সময়ের ছবি ও ভিডিওর পাশাপাশি তার বিষয়ে সংবাদ প্রতিবেদনে করা ইতিবাচক মন্তব্যের অডিও ব্যবহার করা হয়েছে। দেশাত্মবোধক বিভিন্ন দৃশ্যও রাখা হয়েছে। এর মধ্যে সামরিক বাহিনীর স্নাতক সমাপনী অনুষ্ঠানে ক্যাপ ছুড়ে দেওয়ার দৃশ্য, মাউন্ট রাশমোরে আতশবাজি এবং সামরিক বিমানের উড্ডয়ন প্রদর্শন রয়েছে। বেশ কয়েকটি বিজ্ঞাপনে ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পকেও দেখা গেছে।

এ ছাড়া ট্রাম্পের পাল্টা শুল্ক ঘোষণার দৃশ্য, সীমান্তপ্রাচীর, ২০১৫ সালে প্রেসিডেন্ট প্রার্থিতা ঘোষণার সময় ট্রাম্প টাওয়ারের এসকেলেটর দিয়ে নেমে আসার ভিডিও এবং তার ‘প্রেসিডেনশিয়াল ওয়াক অব ফেম’-এর বিভিন্ন দৃশ্য ব্যবহার করা হয়েছে।

সিএনএনের আগের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিজ্ঞাপন তৈরির প্রক্রিয়ায় ট্রাম্প নিজেও সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। কোন ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করা হবে, তা বাছাইয়েও তিনি সহায়তা করেছেন বলে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র জানিয়েছে। ট্রাম্পের দুই উপদেষ্টার ভাষ্য অনুযায়ী, হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ বিভাগের অধীন ভিডিও দল এসব বিজ্ঞাপন তৈরি করছে। তবে অন্তত একটি বিজ্ঞাপন ট্রাম্পপন্থী একটি মিম গ্রুপ তৈরি করেছে।

‘ইউএফসি ২৫০’ নামের বিজ্ঞাপনে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প আয়োজিত জুনের লড়াই তুলে ধরা হয়েছে। এতে ইউএফসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ডানা হোয়াইট, লড়াইয়ে অংশ নেওয়া খেলোয়াড়, অক্টাগনের ওপর আলোকিত ‘ক্ল’ এবং চ্যাম্পিয়নশিপ বেল্টের দৃশ্য রয়েছে।

‘মাদুরো’ শিরোনামের বিজ্ঞাপনে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর একটি ভাষণের সঙ্গে মার-আ-লাগোয় ট্রাম্প ও তার দলের সদস্যদের উপস্থিতির দৃশ্য যুক্ত করা হয়েছে। মাদুরোকে আটক করার পরের দৃশ্যও এতে রাখা হয়েছে।

‘মিলিটারি হাইপ’ বিজ্ঞাপনে যুদ্ধবিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের মতো দৃশ্যের পাশাপাশি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর ঘোষণা দিয়ে ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্পের দেওয়া ভাষণের অংশ রয়েছে।

সেখানে ট্রাম্পকে বলতে শোনা যায়, “এই শাসকগোষ্ঠী শিগগিরই বুঝতে পারবে, যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনীর শক্তি ও সামর্থ্যকে কারও চ্যালেঞ্জ করা উচিত নয়।”

দুই মিনিটের ‘কিং অব দ্য জঙ্গল’ ভিডিওতে ট্রাম্পের কয়েকজন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ছবি রয়েছে। তাদের মধ্যে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও জো বাইডেন, প্রতিনিধি পরিষদের সাবেক স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন এবং ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম রয়েছেন। ভিডিওতে সিংহের শিকার এবং পানির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়া একটি সাদা মাথার ঈগলের দৃশ্যও ব্যবহার করা হয়েছে।

‘গড মেড ট্রাম্প’ বিজ্ঞাপনটি ডালাসে রিপাবলিকানদের মধ্যবর্তী নির্বাচনসংক্রান্ত সম্মেলনে দেখানো হয়েছিল। পল হার্ভির ‘গড মেড আ ফার্মার’ বক্তব্যের আদলে তৈরি ভিডিওটির ভয়েসওভারে বলা হয়, “ঈশ্বর এমন একজনকে চাইলেন যাঁর বাহু এতটাই শক্তিশালী যে তা দিয়ে ডিপ স্টেট গুঁড়িয়ে দেওয়া যায়, আবার তা এতটাই কোমল যেমন কোমলতায় নিজের নাতি-নাতনিকে কোলে তুলে নেওয়া হয়। তাই ঈশ্বর ট্রাম্পকে সৃষ্টি করলেন।”

এনপিআরের তথ্য অনুযায়ী, বিজ্ঞাপনটি তৈরি করেছে ‘ডিলি মিম টিম’।

‘রেজিলিয়েন্স’ বিজ্ঞাপনে নিউইয়র্কে ট্রাম্পের রিয়েল এস্টেট ব্যবসার শুরুর সময় থেকে হোয়াইট হাউস পর্যন্ত তার জীবনের বিভিন্ন পর্যায় তুলে ধরা হয়েছে। এতে ‘দ্য অপরাহ উইনফ্রে শো’-তে তার উপস্থিতি, ২০১৫ সালের প্রেসিডেন্ট প্রার্থিতা ঘোষণা, ২০২৩ সালে জর্জিয়ার ফুলটন কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ে তোলা মাগশট এবং পেনসিলভানিয়ার বাটলারে তাকে হত্যাচেষ্টার ঘটনার ভিডিও রয়েছে।

বিজ্ঞাপনগুলোর অর্থায়ন নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুটি সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছে, অর্থ আসছে ইউএস কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি) থেকে। এই প্রচেষ্টার জন্য মোট ২ কোটি ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে।

এদিকে প্রতিনিধি পরিষদের জুডিশিয়ারি কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য জেমি রাসকিন এসব বিজ্ঞাপনে সরকারি সম্পদ ব্যবহারের বৈধতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন। কয়েকটি নজরদারি সংগঠনও দাবি করেছে, প্রচারণামূলক বা দলীয় উদ্দেশ্যে ফেডারেল অর্থ ব্যবহারে যে বিধিনিষেধ রয়েছে, এসব বিজ্ঞাপন তা লঙ্ঘন করতে পারে। তবে বিষয়টি এখনো আইনি প্রক্রিয়ায় চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হয়নি।

রিপাবলিকান সিনেটর থম টিলিসও সরকারি অর্থে বিজ্ঞাপন প্রচারের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, “দেখুন, আপনি যদি আপনার সুপার পিএসি (পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি) বা অন্য কোনো প্রচারণা তহবিল থেকে অর্থ খরচ করে এই বার্তা দিতে চান, তাহলে ঠিক আছে। কিন্তু এটি উপযুক্ত কোনো জনসেবামূলক ঘোষণা নয়। এটি নয়। আপনারা জানেন, করদাতার অর্থ এভাবে খরচ করা আমাদের উচিত নয়।”

টেক্সাসের রিপাবলিকান সিনেটর জন কর্নিনও এসব বিজ্ঞাপনকে করদাতার অর্থ ব্যবহারের উপযুক্ত উপায় বলে মনে করেন না।

সমালোচনার মধ্যেও বিজ্ঞাপনগুলো বন্ধে কংগ্রেস এখন পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। হোয়াইট হাউসও এগুলোকে জনসেবামূলক ঘোষণা হিসেবে সমর্থন করে প্রচারণাটি আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে।

সূত্র : সিএনএন


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ