ভারত-পাকিস্তান আন্তর্জাতিক সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে দুই পাকিস্তানি নাগরিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও একজন। শুক্রবার (২ অক্টোবর) পাঞ্জাব সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে। তবে কী পরিস্থিতিতে গুলি চালানো হয়েছে, তা নিয়ে পাকিস্তানি ও ভারতীয় পক্ষ থেকে ভিন্ন বর্ণনা পাওয়া গেছে।
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় কাসুর জেলার লাধার গ্রামের তিন বাসিন্দা সীমান্তের একটি পিলার থেকে কয়েক ধাপ সামনে এগিয়ে গেলে বিএসএফ সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালান। এতে দুজন নিহত হন এবং অপর একজন আহত হন।
পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, তিনজনই নিরস্ত্র বেসামরিক নাগরিক ছিলেন। তারা সীমান্তের বেড়া অতিক্রমের চেষ্টা করেননি বলেও দাবি করেছে পাকিস্তানি সূত্র।
নিহত দুজনকে আজমত রাসুল ও মহসিন জাট হিসেবে শনাক্ত করেছে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম। তারা দুজনই লাধারের জাট্টান ওয়ালি হাভেলির বাসিন্দা।
অন্যদিকে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে ঘটনার ভিন্ন বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাঞ্জাবের তারন তারান জেলার আন্তর্জাতিক সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন দুই পাকিস্তানি। বিএসএফ সদস্যরা তাদের থামতে বললেও তারা সামনে এগিয়ে যেতে থাকলে গুলি চালানো হয়।
ঘটনার বিষয়ে ভারতের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
সীমান্তে প্রাণহানির ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন এর একদিন আগেই ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে এক ব্যক্তিকে লস্কর-ই-তাইবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হিসেবে হত্যার ভারতীয় দাবি নিয়ে আপত্তি জানায় পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী। পাকিস্তান সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সংবাদ সম্মেলনে হাজির করে ভারতের দাবির বিরোধিতা করে।
ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে কাশ্মীর নিয়ে বিরোধ রয়েছে। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীন হওয়ার পর দুই দেশ তিনবার যুদ্ধে জড়িয়েছে, যার মধ্যে দুটি যুদ্ধের কেন্দ্র ছিল কাশ্মীর। বর্তমানে অঞ্চলটি দুই দেশের নিয়ন্ত্রণে বিভক্ত থাকলেও উভয় দেশই পুরো কাশ্মীরের ওপর নিজেদের দাবি করে।
২০২৫ সালের এপ্রিলে ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে বন্দুকধারীদের হামলায় ২৬ পর্যটক নিহত হন। ভারত ওই হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করলেও ইসলামাবাদ অভিযোগ অস্বীকার করে। এরপর দুই দেশের মধ্যে কয়েক সপ্তাহ ধরে উত্তেজনা বেড়েছিল।
সূত্র : এপি
মন্তব্যসমূহ