ঢাকা    শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ ২০ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

সৌদি আরব ও কাতারে অতিরিক্ত প্যাট্রিয়ট পাঠাল যুক্তরাষ্ট্র

সৌদি আরব ও কাতারে অতিরিক্ত প্যাট্রিয়ট পাঠাল যুক্তরাষ্ট্র
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

ইরানকে ঘিরে নতুন করে সামরিক উত্তেজনার মধ্যে সৌদি আরব ও কাতারের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোর সুরক্ষায় দুটি অতিরিক্ত প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যাটারি মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে আবারও সামরিক হামলার সম্ভাবনা বিবেচনা করছেন, এমন পরিস্থিতির মধ্যেই ওয়াশিংটনের নতুন পদক্ষেপের তথ্য সামনে এসেছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম Axios দুই মার্কিন কর্মকর্তা ও একটি আঞ্চলিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে একটি প্যাট্রিয়ট ব্যাটারি সৌদি আরবে এবং অন্যটি কাতারে পাঠানো হয়েছে। সৌদি আরবে গুরুত্বপূর্ণ একটি তেল স্থাপনা এবং কাতারে একটি প্রাকৃতিক গ্যাস স্থাপনার নিরাপত্তায় এগুলো মোতায়েন করা হয়েছে।

বিশ্বজুড়ে প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও এর ইন্টারসেপ্টরের ব্যাপক চাহিদার মধ্যে নতুন এই মোতায়েনকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সম্ভাব্য নতুন সামরিক সংঘাতের ক্ষেত্রে সৌদি আরব ও কাতারের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোর নিরাপত্তা জোরদার করাই এই পদক্ষেপের লক্ষ্য বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সৌদি আরব ও কাতারের নিজস্ব আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা থাকলেও ইরানের সঙ্গে বড় ধরনের সংঘাত আবার শুরু হলে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। গত আগস্টে সৌদি ও কাতারি নেতারা ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা না চালাতে ট্রাম্পকে অনুরোধ করেছিলেন। তাদের আশঙ্কা ছিল, এমন হামলা হলে পাল্টা আঘাতের লক্ষ্যবস্তু হতে পারে উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি স্থাপনা।

এদিকে ইরানকে ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে আরও সামরিক শক্তি পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট বিমানবাহী রণতরী ২৭ সেপ্টেম্বর সান দিয়েগো ছেড়ে যাত্রা শুরু করেছে। এর পরদিন ইউএসএস মাকিন আইল্যান্ডের নেতৃত্বাধীন অ্যাম্ফিবিয়াস রেডি গ্রুপও সান দিয়েগো থেকে যাত্রা করে। এই গ্রুপে ইউএসএস মাকিন আইল্যান্ডের পাশাপাশি ইউএসএস অ্যাঙ্কোরেজ ও ইউএসএস জন পি. মুর্থা রয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় ইতোমধ্যে ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ এবং ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন রয়েছে। থিওডোর রুজভেল্ট সেখানে পৌঁছালে কিছু সময়ের জন্য ওই অঞ্চলে তিনটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী একসঙ্গে অবস্থান করতে পারে। এমন উপস্থিতি সর্বশেষ দেখা গিয়েছিল ২০২৬ সালের এপ্রিলে। তবে থিওডোর রুজভেল্ট শেষ পর্যন্ত জর্জ ওয়াশিংটনকে প্রতিস্থাপন করতে পারে, ফলে তিনটি রণতরী দীর্ঘমেয়াদে একই সঙ্গে থাকবে কি না তা নিশ্চিত নয়।

নতুন নৌ মোতায়েনের মাধ্যমে প্রায় ৯ হাজার থেকে ১০ হাজার অতিরিক্ত মার্কিন নৌ ও মেরিন সদস্য মধ্যপ্রাচ্যের দিকে পাঠানো হচ্ছে বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এই সামরিক উপস্থিতি ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হলে ওয়াশিংটনের হাতে আরও বিকল্প তৈরি করবে।

সূত্র : এক্সিওস

ট্যাগ : ইরান যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরব কাতার

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬


সৌদি আরব ও কাতারে অতিরিক্ত প্যাট্রিয়ট পাঠাল যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশের তারিখ : ০৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ইরানকে ঘিরে নতুন করে সামরিক উত্তেজনার মধ্যে সৌদি আরব ও কাতারের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোর সুরক্ষায় দুটি অতিরিক্ত প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যাটারি মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে আবারও সামরিক হামলার সম্ভাবনা বিবেচনা করছেন, এমন পরিস্থিতির মধ্যেই ওয়াশিংটনের নতুন পদক্ষেপের তথ্য সামনে এসেছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম Axios দুই মার্কিন কর্মকর্তা ও একটি আঞ্চলিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে একটি প্যাট্রিয়ট ব্যাটারি সৌদি আরবে এবং অন্যটি কাতারে পাঠানো হয়েছে। সৌদি আরবে গুরুত্বপূর্ণ একটি তেল স্থাপনা এবং কাতারে একটি প্রাকৃতিক গ্যাস স্থাপনার নিরাপত্তায় এগুলো মোতায়েন করা হয়েছে।

বিশ্বজুড়ে প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও এর ইন্টারসেপ্টরের ব্যাপক চাহিদার মধ্যে নতুন এই মোতায়েনকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সম্ভাব্য নতুন সামরিক সংঘাতের ক্ষেত্রে সৌদি আরব ও কাতারের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোর নিরাপত্তা জোরদার করাই এই পদক্ষেপের লক্ষ্য বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সৌদি আরব ও কাতারের নিজস্ব আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা থাকলেও ইরানের সঙ্গে বড় ধরনের সংঘাত আবার শুরু হলে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। গত আগস্টে সৌদি ও কাতারি নেতারা ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা না চালাতে ট্রাম্পকে অনুরোধ করেছিলেন। তাদের আশঙ্কা ছিল, এমন হামলা হলে পাল্টা আঘাতের লক্ষ্যবস্তু হতে পারে উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি স্থাপনা।

এদিকে ইরানকে ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে আরও সামরিক শক্তি পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট বিমানবাহী রণতরী ২৭ সেপ্টেম্বর সান দিয়েগো ছেড়ে যাত্রা শুরু করেছে। এর পরদিন ইউএসএস মাকিন আইল্যান্ডের নেতৃত্বাধীন অ্যাম্ফিবিয়াস রেডি গ্রুপও সান দিয়েগো থেকে যাত্রা করে। এই গ্রুপে ইউএসএস মাকিন আইল্যান্ডের পাশাপাশি ইউএসএস অ্যাঙ্কোরেজ ও ইউএসএস জন পি. মুর্থা রয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় ইতোমধ্যে ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ এবং ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন রয়েছে। থিওডোর রুজভেল্ট সেখানে পৌঁছালে কিছু সময়ের জন্য ওই অঞ্চলে তিনটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী একসঙ্গে অবস্থান করতে পারে। এমন উপস্থিতি সর্বশেষ দেখা গিয়েছিল ২০২৬ সালের এপ্রিলে। তবে থিওডোর রুজভেল্ট শেষ পর্যন্ত জর্জ ওয়াশিংটনকে প্রতিস্থাপন করতে পারে, ফলে তিনটি রণতরী দীর্ঘমেয়াদে একই সঙ্গে থাকবে কি না তা নিশ্চিত নয়।

নতুন নৌ মোতায়েনের মাধ্যমে প্রায় ৯ হাজার থেকে ১০ হাজার অতিরিক্ত মার্কিন নৌ ও মেরিন সদস্য মধ্যপ্রাচ্যের দিকে পাঠানো হচ্ছে বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এই সামরিক উপস্থিতি ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হলে ওয়াশিংটনের হাতে আরও বিকল্প তৈরি করবে।

সূত্র : এক্সিওস


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ