ঢাকা    শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ ২০ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

ফুটপাত দখলমুক্ত করতে কারও অনুমতি লাগবে না: ডিএনসিসি প্রশাসক

ফুটপাত দখলমুক্ত করতে কারও অনুমতি লাগবে না: ডিএনসিসি প্রশাসক
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

রাজধানীর যেসব এলাকায় ফুটপাত দখল করা হবে, সেখানেই উচ্ছেদ অভিযান চালানোর ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। ফার্মগেটসহ দখলে থাকা অন্য এলাকার ফুটপাতও পর্যায়ক্রমে দখলমুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

ফুটপাত দখলমুক্ত করতে আগে থেকে কাউকে জানানোর প্রয়োজন আছে কি না—এমন প্রসঙ্গে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, এ ধরনের কোনো আইন বা বিধি থাকলে তা তাকে দেখাতে হবে। নগরবাসীর চলাচলের সুবিধা ও নগরসেবা নিশ্চিত করতে সিটি করপোরেশনকে কারও অনুমতি নিতে হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বলেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও হকারের কারণে নগরবাসীর স্বাভাবিক চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সম্প্রতি মিরপুর-১০ থেকে হোপ মার্কেট পর্যন্ত দীর্ঘদিন ধরে দখলে থাকা ফুটপাত স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় দখলমুক্ত করা হয়েছে।

তিনি জানান, ফার্মগেটসহ যেসব এলাকায় এখনো ফুটপাত দখলে রয়েছে, সেসব স্থানেও পর্যায়ক্রমে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

ফুটপাত দখলকে কেন্দ্র করে বিএনপির চাঁদাবাজির অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসক বলেন, তিনি নিজেও বিএনপির একজন কর্মী এবং দলের সহকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ফুটপাত দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছেন। তার ভাষ্য, উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার জন্য কারও অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন নেই এবং যেখানে প্রয়োজন হবে, সেখানেই অভিযান চালানো হবে।

কিছু কুচক্রী মহল তাদের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে চায় বলেও অভিযোগ করেন ডিএনসিসি প্রশাসক। তিনি বলেন, দলের ভেতরে বা বাইরে যারা দুষ্কৃতকারী হিসেবে কাজ করবে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

এদিকে মিরপুর-১০ নম্বর এলাকার ফুটপাত পুনরায় দখল ঠেকাতে একটি মনিটরিং টিম গঠন করেছে ডিএনসিসি। শনিবার দুপুরে সংস্থাটির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনের নির্দেশে গঠিত টিমটি নিয়মিত মিরপুর-১০ এলাকা পর্যবেক্ষণ করবে। ফুটপাত দখল করে কোনো দোকান বা স্থাপনা বসানো হলে সংশ্লিষ্ট মালামাল ও সরঞ্জাম জব্দ করার পাশাপাশি দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন ডিএনসিসি প্রশাসক। তিনি জানান, ঢাকাকে ‘ক্লিন ও গ্রিন’ করার লক্ষ্য নিয়ে গত তিন মাস ধরে প্রতি শনিবার সচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। একই সঙ্গে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে পরিচ্ছন্নতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তার ভাষ্য, পরিচ্ছন্ন স্থানে এডিস মশার প্রজননের সুযোগ থাকে না। এ কারণে বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিষ্কার রাখার জন্য নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি। সরকারি-বেসরকারি ভবন এবং বিভিন্ন পরিত্যক্ত স্থানে অভিযান চালিয়ে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যাচ্ছে বলেও জানান প্রশাসক।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান উল্লেখ করে তিনি জানান, বর্তমানে ডিএনসিসি এলাকার বিভিন্ন হাসপাতালে প্রায় ৮০ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন। ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা শূন্যে নামিয়ে আনাই তাদের লক্ষ্য।

ডিএনসিসি প্রশাসক আরও জানান, মশক নিধন কার্যক্রমের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত ৯০ দিনের কর্মসূচিকে সামনে রেখে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকায় বাড়ির মালিক সমিতি, ব্যবসায়ী সংগঠন ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় তিন ধরনের লিফলেটও বিতরণ করা হয়েছে।

ট্যাগ : ডিএনসিসি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬


ফুটপাত দখলমুক্ত করতে কারও অনুমতি লাগবে না: ডিএনসিসি প্রশাসক

প্রকাশের তারিখ : ০৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

রাজধানীর যেসব এলাকায় ফুটপাত দখল করা হবে, সেখানেই উচ্ছেদ অভিযান চালানোর ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। ফার্মগেটসহ দখলে থাকা অন্য এলাকার ফুটপাতও পর্যায়ক্রমে দখলমুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

ফুটপাত দখলমুক্ত করতে আগে থেকে কাউকে জানানোর প্রয়োজন আছে কি না—এমন প্রসঙ্গে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, এ ধরনের কোনো আইন বা বিধি থাকলে তা তাকে দেখাতে হবে। নগরবাসীর চলাচলের সুবিধা ও নগরসেবা নিশ্চিত করতে সিটি করপোরেশনকে কারও অনুমতি নিতে হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বলেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও হকারের কারণে নগরবাসীর স্বাভাবিক চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সম্প্রতি মিরপুর-১০ থেকে হোপ মার্কেট পর্যন্ত দীর্ঘদিন ধরে দখলে থাকা ফুটপাত স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় দখলমুক্ত করা হয়েছে।

তিনি জানান, ফার্মগেটসহ যেসব এলাকায় এখনো ফুটপাত দখলে রয়েছে, সেসব স্থানেও পর্যায়ক্রমে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

ফুটপাত দখলকে কেন্দ্র করে বিএনপির চাঁদাবাজির অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসক বলেন, তিনি নিজেও বিএনপির একজন কর্মী এবং দলের সহকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ফুটপাত দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছেন। তার ভাষ্য, উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার জন্য কারও অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন নেই এবং যেখানে প্রয়োজন হবে, সেখানেই অভিযান চালানো হবে।

কিছু কুচক্রী মহল তাদের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে চায় বলেও অভিযোগ করেন ডিএনসিসি প্রশাসক। তিনি বলেন, দলের ভেতরে বা বাইরে যারা দুষ্কৃতকারী হিসেবে কাজ করবে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

এদিকে মিরপুর-১০ নম্বর এলাকার ফুটপাত পুনরায় দখল ঠেকাতে একটি মনিটরিং টিম গঠন করেছে ডিএনসিসি। শনিবার দুপুরে সংস্থাটির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনের নির্দেশে গঠিত টিমটি নিয়মিত মিরপুর-১০ এলাকা পর্যবেক্ষণ করবে। ফুটপাত দখল করে কোনো দোকান বা স্থাপনা বসানো হলে সংশ্লিষ্ট মালামাল ও সরঞ্জাম জব্দ করার পাশাপাশি দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন ডিএনসিসি প্রশাসক। তিনি জানান, ঢাকাকে ‘ক্লিন ও গ্রিন’ করার লক্ষ্য নিয়ে গত তিন মাস ধরে প্রতি শনিবার সচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। একই সঙ্গে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে পরিচ্ছন্নতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তার ভাষ্য, পরিচ্ছন্ন স্থানে এডিস মশার প্রজননের সুযোগ থাকে না। এ কারণে বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিষ্কার রাখার জন্য নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি। সরকারি-বেসরকারি ভবন এবং বিভিন্ন পরিত্যক্ত স্থানে অভিযান চালিয়ে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যাচ্ছে বলেও জানান প্রশাসক।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান উল্লেখ করে তিনি জানান, বর্তমানে ডিএনসিসি এলাকার বিভিন্ন হাসপাতালে প্রায় ৮০ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন। ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা শূন্যে নামিয়ে আনাই তাদের লক্ষ্য।

ডিএনসিসি প্রশাসক আরও জানান, মশক নিধন কার্যক্রমের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত ৯০ দিনের কর্মসূচিকে সামনে রেখে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকায় বাড়ির মালিক সমিতি, ব্যবসায়ী সংগঠন ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় তিন ধরনের লিফলেটও বিতরণ করা হয়েছে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ