জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর পরও ডিজেলে সরকারের উল্লেখযোগ্য ভর্তুকি দিতে হবে বলে দাবি করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তার ভাষ্য, আন্তর্জাতিক বাজারের বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানির মূল্য সমন্বয় করা ছাড়া সরকারের সামনে কার্যকর বিকল্প সীমিত।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে দলটির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন এবং পেশাজীবী সংগঠনের নেতাদের নিয়ে যৌথসভা অনুষ্ঠিত হয়।
রিজভী বলেন, দেশে ডিজেলের দাম আগে প্রতি লিটার ১১৫ টাকা ছিল। সরকার ২০ টাকা বাড়ানোর পর নতুন দাম হয়েছে ১৩৫ টাকা। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনেও ডিজেলের নতুন খুচরা মূল্য ১৩৫ টাকা নির্ধারণের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে, যা ২১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে।
জ্বালানি আমদানির ব্যয় নিয়ে রিজভীর দাবি, বাংলাদেশকে বর্তমানে প্রতি লিটার ডিজেল প্রায় ২৫০ টাকা দরে কিনতে হচ্ছে। তার হিসাবে, মূল্য সমন্বয়ের পরও প্রতি লিটারে প্রায় ৭০ টাকা লোকসান বহন করতে হবে। এই হিসাবটি রিজভীর বক্তব্য হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে; এটি স্বাধীনভাবে নিরীক্ষিত কোনো হিসাব হিসেবে উপস্থাপন করা হয়নি।
তিনি জানান, দেশে বছরে প্রায় ৭০ লাখ মেট্রিক টন জ্বালানি তেল ব্যবহৃত হয়, যার মধ্যে ডিজেল প্রায় ৪৫ লাখ মেট্রিক টন। দাম বাড়ানোর ফলে সাধারণ মানুষের ব্যয় বাড়বে বলে স্বীকার করলেও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হওয়ায় জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহনের বিষয়টিও বৈশ্বিক সরবরাহ পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
রিজভী বলেন, সরকারের সমালোচনার পাশাপাশি কম খরচে কীভাবে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ করা সম্ভব, সে বিষয়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোরও বাস্তবসম্মত বিকল্প প্রস্তাব দেওয়া উচিত। বিভিন্ন উৎস থেকে গ্যাস ও জ্বালানি সংগ্রহ করে সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকেও আন্তর্জাতিক বাজার, ভর্তুকির চাপ এবং প্রতিবেশী দেশে জ্বালানি পাচারের ঝুঁকির কথা বলা হয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি অব্যাহত রাখা এবং পাচার ঠেকানোর প্রয়োজন বিবেচনায় মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে দেশের সাম্প্রতিক সহিংসতা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা নিয়েও কথা বলেন রিজভী। এসব ঘটনাকে পরিকল্পিত বলে অভিযোগ করে তিনি দাবি করেন, সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম থেকে জনগণের দৃষ্টি সরাতে একটি পক্ষ অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে। প্রশাসনের ভেতরে বিগত সরকারের সহযোগীরা নাশকতার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এসব অভিযোগের পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপনের তথ্য পাওয়া যায়নি।
রিজভী জানান, অপপ্রচার ও পরিকল্পিত সহিংসতার প্রতিবাদে বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন এবং বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন কর্মসূচি পালন করবে। একই সঙ্গে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।